
আব্দুল হামিদ রানা ও সোলায়মানের ভুঁইফোড় কমিটির নিষ্ক্রিয়তা ও নীতিহীন ভূমিকা নিয়ে গণক্ষোভ সচেতন মহলে।
পার্বত্য চট্টগ্রামের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি যখন উত্তপ্ত, তখন পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ (পিসিএনপি)-এর নাম ভাঙিয়ে একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর বিতর্কিত ও নিষ্ক্রিয় ভূমিকা নিয়ে সাধারণ পার্বত্য বাঙালিদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সম্প্রতি পাহাড়ে পেপে গাছ কাটার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নাগরিক পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির তথাকথিত বিশৃঙ্খলতা সৃষ্টির মহানায়ক আব্দুল হামিদ রানা এবং বিতর্কিত হিসেবে চিহ্নিত সোলাইমানের দেওয়া একটি বিবৃতিকে কেন্দ্র করে চরম হাস্যরসের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল ও পিসিএনপির তৃণমূল কর্মীদের মতে, উক্ত বিবৃতিতে মূল অপরাধী সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠন জেএসএস বা সন্তু লারমা গ্রুপের নাম এড়িয়ে যাওয়া স্পষ্টতই একটি আপসকামিতা ও নিজেদের দেউলিয়াত্বের বহিঃপ্রকাশ।
অপরাধীদের নাম মুখে আনতে না পারা এই সুবিধাবাদী নেতৃত্বকে বাঙালিদের স্বার্থরক্ষা নয়, বরং প্রতিপক্ষের এজেন্ডা বাস্তবায়নের মাধ্যম হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
নিষ্ক্রিয়তা ও রাজপথের আন্দোলন থেকে আত্মগোপন;
প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, সোলাইমান দীর্ঘদিন নাগরিক পরিষদের বিভিন্ন পদ পদবি ধারণ করলেও রাজপথে পিসিএনপির অধিকার আদায়ের সংগ্রামে তাঁর ভূমিকা ছিল সর্বদা নিষ্ক্রিয়। সোলাইমান ৫০০ টাকার একটি ব্যানার তৈরি করে রাজপথে মিছিল করারও সামর্থ্য বা রাজনৈতিক সদ্বিচ্ছা তাঁর কোনোদিনই ছিল না।
যখন ছাত্র পরিষদের নেতাকর্মীরা হাজার হাজার টাকা ব্যয় করে রাজপথে বিশাল সমাবেশ ও মিছিলের মাধ্যমে নিজেদের শক্ত অবস্থান জানান দিচ্ছে, তখন তথাকথিত রানা-সোলাইমান চক্র কোনো মতে একটি দায়সারা বিবৃতি দিয়েই দায়িত্ব শেষ করেছে।
অভিযোগ আছে সাংবাদিক সোলায়মান রাঙামাটি জেলা নাগরিক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও পরবর্তীতে সভাপতি হলেও কোনোদিন নিজের পকেট থেকে ৫০০ টাকা বের করে ব্যানার করেন নাই। কাজী মজিবর রহমান থেকে হাজার হাজার টাকা তার পকেটে ঢুকার পরে সে রাস্তায় নামতো, তাও প্রোগ্রামের সমস্ত আয়োজন ছাত্র পরিষদ করে দিতো।
সোলায়মান একজন নেতা হিসেবে অথর্ব, “ঠুঁটো জগন্নাথ”।প্রোগ্রাম ১০ টায় থাকলে সে আসতো ১২ টায়। কোনোদিন দুইজন কর্মী নিয়ে প্রোগ্রামে আসতে পারতো না। তাকে ৩০/৪০ বার ফোন দিয়েও পাওয়া যায় না। এমন একজন অথর্ব অকর্মণ্য লোক নাগরিক পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব সেজেছে নিজে নিজে! শুধু মাত্র খুনি সন্তু লারমার এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে।
তাই সাধারণ কর্মীরা অভিযোগ করে বলেন, রাজপথের প্রাক্টিক্যাল রাজনীতি ছেড়ে ঢাকায় বসে হাতে গোনা কয়েকজনকে নিয়ে নামসর্বস্ব বা ভুঁইফোড় কমিটি গঠন করে পাহাড়ের বাঙালিদের ঐক্য বিনষ্ট করার গভীর চক্রান্ত চলছে বলে স্থানীয় পিসিএনপি সমর্থকেরা মনে করেন।
বিতর্কিত ব্যক্তিদের বর্জন ও মূল নেতৃত্বের শক্ত অবস্থান;
পার্বত্য অঞ্চলের সচেতন জনগণ ইতিমধ্যেই এই সুবিধাবাদী ও বিভ্রান্তিকর গোষ্ঠীটিকে প্রত্যাখ্যান করেছে। স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষের আহ্বান, এ ধরনের বিতর্কিত ব্যক্তিদের কোনো বিবৃতি বা অপপ্রচারকে জনসমক্ষে স্থান না দেওয়ার জন্য।
বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের বৈধ ও সর্বজন শ্রদ্ধেয় নেতৃত্ব কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান কাজী মুজিবুর রহমান এবং মহাসচিব সাব্বির আহমেদের পরিচালনায় রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে ছাত্র পরিষদ, যুব পরিষদ ও মহিলা পরিষদ সুসংগঠিতভাবে এগিয়ে যাচ্ছে।
পার্বত্য অঞ্চলের সাধারণ মানুষের স্পষ্ট বার্তা; কোনো ভুঁইফোড় নেতৃত্ব কিংবা বিভ্রান্তিকর বিবৃতির ফাঁদে পা না দিয়ে, কাজী মুজিবুর রহমান ও সাব্বির আহমেদের শক্ত ও সাহসী নেতৃত্বেই পার্বত্য অঞ্চলের বাঙালিদের অধিকার রক্ষার আন্দোলন সামনের দিনগুলোতে আরও জোরদার করা হবে।
শাহ জালাল রানা 




















