Lama ০৭:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মানবেতর জীবন যাপন: জরুরী ত্রাণ সহায়তা প্রয়োজন

দুর্গম থানচিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ও পাহাড় ধ্বসে সর্বস্ব হারিয়ে, খোলা আকাশের নিচে দুই পরিবার

বান্দরবানের থানচি উপজেলার দুর্গম পাতোয়া ম্রো পাড়ায় আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডে দুই পরিবারের বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। একই সঙ্গে টানা বর্ষণে জুমের পাহাড় ধসে তাদের খাদ্যশস্যও নষ্ট হয়ে যাওয়ায় পরিবার দুটি চরম দুর্ভোগে পড়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে।

জানা গেছে, গত ২৯ জুলাই বৃহস্পতিবার ভোরে রেমাক্রী ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডে দুর্গম পাতোয়া ম্রো কারবারী পাড়া আকস্মিক ভাবে ভয়াবহ অগ্নিকান্ড ঘটনা ঘটে। ওয়ার্ড মেম্বার মাংচং ম্রো এ তথ্য নিশ্চিৎ করেছেন।
অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্তরা হলেন, আচে ম্রো ২৮, রেংরাং ম্রো ৩০। দুই পরিবার ৬ জন করে মোট ১২ জন সদস্য রযেছে বলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারে পক্ষ থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বিজ্ঞাপন

ক্ষতিগ্রস্ত দুই পরিবার জানান, আগুনে তাদের বসত বাড়ির সঙ্গে ছেলে-মেয়েদের বই-খাতা, কলম, পরিধেয় বস্ত্র, বছরের মজুদকৃত খাদ্য; ধান, প্রয়োজনীয় গৃহস্থালি সামগ্রী এবং প্রায় এক লাখ টাকা নগদ অর্থ পুড়ে যায়।

এছাড়াও সাম্প্রতিক টানা বৃষ্টিতে পাহাড় ধ্বসে তাদের জুমের প্রতি পরিবারের প্রায় পাঁচ হাঁড়ি ধান সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে।
বিএনপি নেতা চসিংমং মারমা বলেন, “দুই দফা এই দুর্যোগে সর্বস্ব হারিয়ে বর্তমানে পরিবার দু’টি খোলা আকাশের নিচে আশ্রয়হীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছে।”

বিজ্ঞাপন

বিএনপি সাধারণ সম্পাদক উবামং মারমা জানান, “পাহাড় ধ্বসে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এখন পর্যন্ত তারা কোনো সরকারি বা বেসরকারি ত্রাণ সহায়তা পাননি। অন্যদিকে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনেরও কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।”

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য দ্রুত ত্রাণ ও আর্থিক সহায়তা এবং পুনর্বাসনের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও বিত্তবানদের জরুরি সহযোগিতা কামনা করেছেন এই নেতা।

স্থানীয় আ: লীগের নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান মুইশৈথুই মারমা (রনি) মুঠোফোন বন্দ থাকায় তার বক্তব্য নেয়া যায় নি।

পরিবার দু’টির প্রতি জেলা প্রশাসন ও বান্দরবান জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এর সদয় দৃষ্টি দেয়ার দাবি জানিয়েছেন থানচির সচেতন মহল।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

বলীপাড়া বাজারে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ১৪ পরিবারকে ত্রাণ সহায়তা

Bandarban Tribune

মানবেতর জীবন যাপন: জরুরী ত্রাণ সহায়তা প্রয়োজন

দুর্গম থানচিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ও পাহাড় ধ্বসে সর্বস্ব হারিয়ে, খোলা আকাশের নিচে দুই পরিবার

Update Time : ০২:২৬:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

বান্দরবানের থানচি উপজেলার দুর্গম পাতোয়া ম্রো পাড়ায় আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডে দুই পরিবারের বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। একই সঙ্গে টানা বর্ষণে জুমের পাহাড় ধসে তাদের খাদ্যশস্যও নষ্ট হয়ে যাওয়ায় পরিবার দুটি চরম দুর্ভোগে পড়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে।

জানা গেছে, গত ২৯ জুলাই বৃহস্পতিবার ভোরে রেমাক্রী ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডে দুর্গম পাতোয়া ম্রো কারবারী পাড়া আকস্মিক ভাবে ভয়াবহ অগ্নিকান্ড ঘটনা ঘটে। ওয়ার্ড মেম্বার মাংচং ম্রো এ তথ্য নিশ্চিৎ করেছেন।
অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্তরা হলেন, আচে ম্রো ২৮, রেংরাং ম্রো ৩০। দুই পরিবার ৬ জন করে মোট ১২ জন সদস্য রযেছে বলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারে পক্ষ থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বিজ্ঞাপন

ক্ষতিগ্রস্ত দুই পরিবার জানান, আগুনে তাদের বসত বাড়ির সঙ্গে ছেলে-মেয়েদের বই-খাতা, কলম, পরিধেয় বস্ত্র, বছরের মজুদকৃত খাদ্য; ধান, প্রয়োজনীয় গৃহস্থালি সামগ্রী এবং প্রায় এক লাখ টাকা নগদ অর্থ পুড়ে যায়।

এছাড়াও সাম্প্রতিক টানা বৃষ্টিতে পাহাড় ধ্বসে তাদের জুমের প্রতি পরিবারের প্রায় পাঁচ হাঁড়ি ধান সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে।
বিএনপি নেতা চসিংমং মারমা বলেন, “দুই দফা এই দুর্যোগে সর্বস্ব হারিয়ে বর্তমানে পরিবার দু’টি খোলা আকাশের নিচে আশ্রয়হীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছে।”

বিজ্ঞাপন

বিএনপি সাধারণ সম্পাদক উবামং মারমা জানান, “পাহাড় ধ্বসে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এখন পর্যন্ত তারা কোনো সরকারি বা বেসরকারি ত্রাণ সহায়তা পাননি। অন্যদিকে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনেরও কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।”

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য দ্রুত ত্রাণ ও আর্থিক সহায়তা এবং পুনর্বাসনের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও বিত্তবানদের জরুরি সহযোগিতা কামনা করেছেন এই নেতা।

স্থানীয় আ: লীগের নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান মুইশৈথুই মারমা (রনি) মুঠোফোন বন্দ থাকায় তার বক্তব্য নেয়া যায় নি।

পরিবার দু’টির প্রতি জেলা প্রশাসন ও বান্দরবান জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এর সদয় দৃষ্টি দেয়ার দাবি জানিয়েছেন থানচির সচেতন মহল।