Lama ০১:৩৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঈদগাঁও উপজেলায় জিএমসি কেস্ ম্যানেজমেন্ট বিষয়ক বার্ষিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৯:৩০:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬
  • ৪৮ Time View

ঈদগাঁও সংবাদদাতা:-

কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলায় অভিবাসী কর্মীদের জন্য কমিউনিটি-ভিত্তিক অভিযোগ ব্যবস্থাপনা কাঠামোকে আরো কার্যকর ও টেকসই করতে কক্সবাজারে সিমস্ প্রকল্পের উদ্যোগে ‘জিএমসি কেস্ ম্যানেজমেন্ট বিষয়ক বার্ষিক সমন্বয় সভা’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

(৯ জুন)মঙ্গলবার ঈদগাঁও উপজেলার জাহানারা ইসলাম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে উপজেলা পরিষদের কার্যালয়ের অস্থায়ী  সম্মেলন কক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়।

সুইজারল্যান্ড সরকারের অর্থায়নে, ‘হেলভেটাস বাংলাদেশ’ এর কারিগারি সহযোগিতা ও  বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘প্রত্যাশী’র আয়োজনে এ সভার আয়োজন করা হয়।

অভিবাসী কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের অভিবাসন-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিরোধ ও অভিযোগের দ্রুত, সহজলভ্য ও গ্রহণযোগ্য সমাধান প্রদানে কাজ করছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা প্রত্যাশী।

সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন কক্সবাজার জেলার সিনিয়র সিভিল জজ ও লিগ্যাল এইড অফিসার অভিজিৎ চৌধুরী।

এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা দেলোয়ার হোছাইন। উপস্থিত ছিলেন রশিদা খাতুন, জেলা সমন্বয়কারী, সিমস্ প্রকল্প, প্রত্যাশী, একই সংস্থা ও প্রকল্পের প্রজেক্ট অফিসার সুলতান মাহমুদ, প্রজেক্ট অফিসার তৌহিদা জান্নাত শিমু, ঈদগাঁও উপজেলা সমন্বয়কারী মোহাম্মদ আজগরসহ

জিএমসি’র চেয়ারপার্সন, সদস্য সচিব, নারী সদস্যবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা।

এতে অভিযোগ ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়া, মামলা পরিচালনার অভিজ্ঞতা বিনিময়, চ্যালেঞ্জ সমুহ চিহ্নিতকরণ, রেফারেল ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং স্থানীয় প্রশাসনের সাথে সমন্বয় জোরদার করার বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

প্রধান বলেন, ‘মধ্যস্থতার মূল উদ্দেশ্য হলো সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমিয়ে দ্রুত, সহজ ও গ্রহণযোগ্য উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ সৃষ্টি করা।’

তিঁনি উল্লেখ করেন যে, গ্রিভ্যান্স ম্যানেজমেন্ট কমিটি (জিএমসি)-র মাধ্যমে অভিবাসন-সংক্রান্ত প্রতারণা ও বিরোধের অনেক ঘটনাই স্থানীয় পর্যায়ে মধ্যস্থতার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব। কোনো অভিযোগ মধ্যস্থতার মাধ্যমে নিষ্পত্তি না হলে ইউনিয়ন পরিষদের অফিসিয়াল প্যাডে সুপারিশসহ তা লিগ্যাল এইড অফিসে প্রেরণ করা হলে বিষয়টি অধিক গ্রহণযোগ্যতা পায় এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্রের ঘাটতি থাকলেও তা একটি নির্ভরযোগ্য ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।’ প্রধান অতিথি আরো বলেন, ‘বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন, ২০১৩’ সম্পর্কে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, কমিউনিটি নেতা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা গেলে অভিবাসন-সংক্রান্ত প্রতারণার ঘটনা উল্লেখযোগ্য ভাবে হ্রাস পাবে।’

তিঁনি সম্প্রতি সিমস্ (SIMS) প্রকল্পের অ্যাডভোকেসি উদ্যোগের মাধ্যমে অভিবাসী কর্মীদের লিগ্যাল এইড সেবার আওতায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এর ফলে কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ অভিবাসন-সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি ও প্রতারণা প্রতিরোধে আরো কার্যকর ভূমিকা পালন করার সুযোগ পাবেন। সভায় অংশগ্রহণকারীরা মাঠ পর্যায়ে অভিযোগ নিষ্পত্তির বিভিন্ন অভিজ্ঞতা, সফলতা এবং চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন। একই সঙ্গে জটিল ও আদালত-সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর জন্য কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থা, মানসম্মত ডকুমেন্টেশন এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন।

সভা শেষে অংশগ্রহণকারীরা জিএমসির কার্যকারিতা বৃদ্ধি, অভিযোগ ব্যবস্থাপনার মানোন্নয়ন, স্থানীয় প্রশাসনের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং অভিবাসী কর্মীদের জন্য আরো কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক সেবা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

আলীকদমে বীর মুক্তিযোদ্ধার বিধবা স্ত্রীর সম্মানী ভাতা নিয়ে দুই সন্তানের অভিযোগ, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

Bandarban Tribune

ঈদগাঁও উপজেলায় জিএমসি কেস্ ম্যানেজমেন্ট বিষয়ক বার্ষিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত

Update Time : ০৯:৩০:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

ঈদগাঁও সংবাদদাতা:-

কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলায় অভিবাসী কর্মীদের জন্য কমিউনিটি-ভিত্তিক অভিযোগ ব্যবস্থাপনা কাঠামোকে আরো কার্যকর ও টেকসই করতে কক্সবাজারে সিমস্ প্রকল্পের উদ্যোগে ‘জিএমসি কেস্ ম্যানেজমেন্ট বিষয়ক বার্ষিক সমন্বয় সভা’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

(৯ জুন)মঙ্গলবার ঈদগাঁও উপজেলার জাহানারা ইসলাম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে উপজেলা পরিষদের কার্যালয়ের অস্থায়ী  সম্মেলন কক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়।

সুইজারল্যান্ড সরকারের অর্থায়নে, ‘হেলভেটাস বাংলাদেশ’ এর কারিগারি সহযোগিতা ও  বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘প্রত্যাশী’র আয়োজনে এ সভার আয়োজন করা হয়।

অভিবাসী কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের অভিবাসন-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিরোধ ও অভিযোগের দ্রুত, সহজলভ্য ও গ্রহণযোগ্য সমাধান প্রদানে কাজ করছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা প্রত্যাশী।

সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন কক্সবাজার জেলার সিনিয়র সিভিল জজ ও লিগ্যাল এইড অফিসার অভিজিৎ চৌধুরী।

এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা দেলোয়ার হোছাইন। উপস্থিত ছিলেন রশিদা খাতুন, জেলা সমন্বয়কারী, সিমস্ প্রকল্প, প্রত্যাশী, একই সংস্থা ও প্রকল্পের প্রজেক্ট অফিসার সুলতান মাহমুদ, প্রজেক্ট অফিসার তৌহিদা জান্নাত শিমু, ঈদগাঁও উপজেলা সমন্বয়কারী মোহাম্মদ আজগরসহ

জিএমসি’র চেয়ারপার্সন, সদস্য সচিব, নারী সদস্যবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা।

এতে অভিযোগ ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়া, মামলা পরিচালনার অভিজ্ঞতা বিনিময়, চ্যালেঞ্জ সমুহ চিহ্নিতকরণ, রেফারেল ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং স্থানীয় প্রশাসনের সাথে সমন্বয় জোরদার করার বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

প্রধান বলেন, ‘মধ্যস্থতার মূল উদ্দেশ্য হলো সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমিয়ে দ্রুত, সহজ ও গ্রহণযোগ্য উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ সৃষ্টি করা।’

তিঁনি উল্লেখ করেন যে, গ্রিভ্যান্স ম্যানেজমেন্ট কমিটি (জিএমসি)-র মাধ্যমে অভিবাসন-সংক্রান্ত প্রতারণা ও বিরোধের অনেক ঘটনাই স্থানীয় পর্যায়ে মধ্যস্থতার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব। কোনো অভিযোগ মধ্যস্থতার মাধ্যমে নিষ্পত্তি না হলে ইউনিয়ন পরিষদের অফিসিয়াল প্যাডে সুপারিশসহ তা লিগ্যাল এইড অফিসে প্রেরণ করা হলে বিষয়টি অধিক গ্রহণযোগ্যতা পায় এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্রের ঘাটতি থাকলেও তা একটি নির্ভরযোগ্য ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।’ প্রধান অতিথি আরো বলেন, ‘বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন, ২০১৩’ সম্পর্কে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, কমিউনিটি নেতা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা গেলে অভিবাসন-সংক্রান্ত প্রতারণার ঘটনা উল্লেখযোগ্য ভাবে হ্রাস পাবে।’

তিঁনি সম্প্রতি সিমস্ (SIMS) প্রকল্পের অ্যাডভোকেসি উদ্যোগের মাধ্যমে অভিবাসী কর্মীদের লিগ্যাল এইড সেবার আওতায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এর ফলে কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ অভিবাসন-সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি ও প্রতারণা প্রতিরোধে আরো কার্যকর ভূমিকা পালন করার সুযোগ পাবেন। সভায় অংশগ্রহণকারীরা মাঠ পর্যায়ে অভিযোগ নিষ্পত্তির বিভিন্ন অভিজ্ঞতা, সফলতা এবং চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন। একই সঙ্গে জটিল ও আদালত-সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর জন্য কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থা, মানসম্মত ডকুমেন্টেশন এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন।

সভা শেষে অংশগ্রহণকারীরা জিএমসির কার্যকারিতা বৃদ্ধি, অভিযোগ ব্যবস্থাপনার মানোন্নয়ন, স্থানীয় প্রশাসনের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং অভিবাসী কর্মীদের জন্য আরো কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক সেবা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেন।