Lama ০১:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মহালছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার অতিরিক্ত দায়িত্বে: জনগনের ভোগান্তি

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:২৫:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
  • ২১ Time View

মহালছড়ি সংবাদদাতা:-

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার মহালছড়ি উপজেলায় দীর্ঘ দুই মাস ধরে কোনো স্থায়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার নেই। ফলে উপজেলায় স্থানীয় সরকার কাঠামোয় চরম স্থবিরতা নেমে এসেছে। ব্যাহত হচ্ছে সাধারণ মানুষের নাগরিক সেবা এবং থমকে গেছে সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের গতি।

​বিগত দুই মাস আগে মহালছড়ির নিয়মিত ইউএনও মোঃ আবু রায়হান কুমিল্লা নাঙ্গলকোট উপজেলায় বদলি হওয়ার পর থেকেই পদটি শূন্য রয়েছে। বর্তমানে পার্শ্ববর্তী গুইমারা উপজেলার নির্বাহী অফিসার মিসকাতুল তামান্নাকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মহালছড়ির অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিঁনি মূলত রুটিন কাজগুলো দেখাশোনা করছেন। সপ্তাহে মাত্র দু-একদিন বা বিশেষ প্রয়োজনে এই অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মহালছড়িতে আসেন। ফলে সিংহভাগ সময়ই উপজেলা অভিভাবকহীন থাকছে।

​সেবাগ্রহীতাদের চরম ভোগান্তি ​স্থায়ী ইউএনও না থাকায় উপজেলার সাধারণ মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। দূর-দূরান্ত থেকে আসা সেবাগ্রহীতারা দিনের পর দিন ঘুরেও জরুরি স্বাক্ষর বা প্রশাসনিক অনুমোদনের কাজ শেষ করতে পারছেন না।

বিশেষ করে ​জাতীয়তা সনদ ও জরুরি প্রত্যয়নপত্র প্রাপ্তি ​বিভিন্ন সরকারি অনুদান বণ্টন ​স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত জরুরি বিষয়ে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ​বিভিন্ন দাপ্তরিক ফাইলের অনুমোদনসহ ​এসব ক্ষেত্রে প্রতিনিয়ত বেগ পেতে হচ্ছে মহালছড়ি সাধারণ মানুষকে।

​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সমাজসেবক জানান, “ইউএনও একটি উপজেলার মূল প্রশাসনিক চালিকাশক্তি। অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তার পক্ষে নিজের মূল কর্মস্থল সামলে মহালছড়ির মতো একটি পাহাড়ি অঞ্চলের সমস্ত বিষয় নিখুঁতভাবে দেখা সম্ভব নয়। এর ফলে উপজেলার নিয়মিত প্রশাসনিক কার্যক্রমে এক ধরনের শূন্যতা ও সমন্বয়হীনতা তৈরি হয়েছে।​

​নিয়মিত কর্মকর্তার অনুপস্থিতি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের ক্ষেত্রেও। মাঠপর্যায়ে তদারকি এবং কাজের গুণগত মান বজায় রাখার ক্ষেত্রে ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ফাইলের জটিলতা ও অনুমোদন আটকে থাকায় নতুন বরাদ্দের কাজ পুরোপুরি থমকে আছে।

​পাহাড়ি এই অঞ্চলের প্রশাসনিক গতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এবং জনগণের নিত্যদিনের ভোগান্তি দূর করতে অবিলম্বে মহালছড়ি উপজেলায় একজন স্থায়ী ও পূর্ণাঙ্গ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পদায়নের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকার সচেতন মহল ও সাধারণ জনগণ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

আলীকদমে বীর মুক্তিযোদ্ধার বিধবা স্ত্রীর সম্মানী ভাতা নিয়ে দুই সন্তানের অভিযোগ, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

Bandarban Tribune

মহালছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার অতিরিক্ত দায়িত্বে: জনগনের ভোগান্তি

Update Time : ১২:২৫:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

মহালছড়ি সংবাদদাতা:-

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার মহালছড়ি উপজেলায় দীর্ঘ দুই মাস ধরে কোনো স্থায়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার নেই। ফলে উপজেলায় স্থানীয় সরকার কাঠামোয় চরম স্থবিরতা নেমে এসেছে। ব্যাহত হচ্ছে সাধারণ মানুষের নাগরিক সেবা এবং থমকে গেছে সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের গতি।

​বিগত দুই মাস আগে মহালছড়ির নিয়মিত ইউএনও মোঃ আবু রায়হান কুমিল্লা নাঙ্গলকোট উপজেলায় বদলি হওয়ার পর থেকেই পদটি শূন্য রয়েছে। বর্তমানে পার্শ্ববর্তী গুইমারা উপজেলার নির্বাহী অফিসার মিসকাতুল তামান্নাকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মহালছড়ির অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিঁনি মূলত রুটিন কাজগুলো দেখাশোনা করছেন। সপ্তাহে মাত্র দু-একদিন বা বিশেষ প্রয়োজনে এই অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মহালছড়িতে আসেন। ফলে সিংহভাগ সময়ই উপজেলা অভিভাবকহীন থাকছে।

​সেবাগ্রহীতাদের চরম ভোগান্তি ​স্থায়ী ইউএনও না থাকায় উপজেলার সাধারণ মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। দূর-দূরান্ত থেকে আসা সেবাগ্রহীতারা দিনের পর দিন ঘুরেও জরুরি স্বাক্ষর বা প্রশাসনিক অনুমোদনের কাজ শেষ করতে পারছেন না।

বিশেষ করে ​জাতীয়তা সনদ ও জরুরি প্রত্যয়নপত্র প্রাপ্তি ​বিভিন্ন সরকারি অনুদান বণ্টন ​স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত জরুরি বিষয়ে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ​বিভিন্ন দাপ্তরিক ফাইলের অনুমোদনসহ ​এসব ক্ষেত্রে প্রতিনিয়ত বেগ পেতে হচ্ছে মহালছড়ি সাধারণ মানুষকে।

​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সমাজসেবক জানান, “ইউএনও একটি উপজেলার মূল প্রশাসনিক চালিকাশক্তি। অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তার পক্ষে নিজের মূল কর্মস্থল সামলে মহালছড়ির মতো একটি পাহাড়ি অঞ্চলের সমস্ত বিষয় নিখুঁতভাবে দেখা সম্ভব নয়। এর ফলে উপজেলার নিয়মিত প্রশাসনিক কার্যক্রমে এক ধরনের শূন্যতা ও সমন্বয়হীনতা তৈরি হয়েছে।​

​নিয়মিত কর্মকর্তার অনুপস্থিতি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের ক্ষেত্রেও। মাঠপর্যায়ে তদারকি এবং কাজের গুণগত মান বজায় রাখার ক্ষেত্রে ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ফাইলের জটিলতা ও অনুমোদন আটকে থাকায় নতুন বরাদ্দের কাজ পুরোপুরি থমকে আছে।

​পাহাড়ি এই অঞ্চলের প্রশাসনিক গতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এবং জনগণের নিত্যদিনের ভোগান্তি দূর করতে অবিলম্বে মহালছড়ি উপজেলায় একজন স্থায়ী ও পূর্ণাঙ্গ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পদায়নের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকার সচেতন মহল ও সাধারণ জনগণ।