Lama ১২:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লামা-আলীকদমে যত্রতত্র বোতলে বিক্রি হচ্ছে অকটেন

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:৩৪:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
  • ১১২ Time View

ট্রিভিউন ডেস্ক:-

জ্বালানি তেলের বাজার অস্থিতিশীল হওয়ার আশঙ্কায় কৃত্রিম সংকটের সুযোগে লামা-আলীকদমে যত্রতত্র বিক্রি হচ্ছে অকটেন।

পান বিড়ি, মুদি দোকান, ফুটপাত, অলিগলিতে বোতল ভরে অকটেন ও পেট্রোল বিক্রির হিড়িক দেখা গেছে। এক শ্রেণির অবৈধ মজুতদার ও অসাধু ডিলাররা বাড়তি মুনাফার লোভে প্লাস্টিকের বোতলে অস্বাস্থ্যকর ও ঝুঁকিপূর্ণভাবে এই দাহ্য পদার্থ বিক্রি করছে।

খোলাবাজারে বোতলজাত তেল বিক্রির ফলে সম্ভাব্য চরম ভয়াবহতা রয়েছে। বোতলে অকটেন-পেট্রোলের মতো দাহ্য জ্বালানি বিক্রি করা আইনত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এর পেছনে প্রধান কারণ ও ঝুঁকিগুলো হলো;

ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি, সামান্য আগুন, বিড়ি-সিগারেটের স্ফুলিংঙ্গ বা তীব্র গরমে প্লাস্টিকের বোতলে মজুত করা অকটেন থেকে মুহূর্তের মধ্যে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। বিগত ৪ বছর আগে লামা উপজেলার ইয়াংছা বাজারে এমন দুর্ঘটনা ঘটেছিলো। বতোলে বিক্রেতারা পরিমান ও দ্বিগুণ দাম আদায় করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

ফিলিং স্টেশনগুলোতে যেখানে অকটেনের সরকারি নির্ধারিত দাম রয়েছে, সেখানে মজুতদাররা সাধারণ মানুষকে বোতল প্রতি লিটারে ৪ থেকে ৬ টাকা পর্যন্ত ক্ষেত্র বিশেষ তারও বেশি দাম দিতে বাধ্য করছে। অনেকে

তেল সংকট দেখিয়ে কালোবাজারে বিক্রির সুযোগ নিচ্ছে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি বা সাপ্লাই চেইনের অজুহাতে তেল মজুত করা হয়, যা পরে চড়া দামে সাধারণ ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করা হয়।

খোলা বোতলের তেলে প্রায়ই ভেজাল মেশানো থাকে এবং বোতলে সঠিক পরিমাণের চেয়ে অনেক কম তেল দেওয়া হয়। এক ধরনের লাল রঙের পাউডার মিশ্রণ করে পেট্টোলকে অকটেন করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

এই অবৈধ ও বেআইনি কর্মকাণ্ড রোধে বিভিন্ন উপজেলা প্রশাসন নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা দরকার। অনুমোদনহীনভাবে দাহ্য পদার্থ মজুত ও বিক্রি করায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অসাধু ব্যবসায়ীদের জরিমানা এবং তেল জব্দ করা হলে এই অনিয়ম রোধ সম্ভব। লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মঈন উদ্দিন বলেন, এলাকায় যদি যত্রতত্র বোতলজাত অকটেন বা পেট্রোল বিক্রির এমন কোনো ঘটনা ঘটে, তবে তা সাথে সাথে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (UNO) কার্যালয় বা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করে অবহিত করতে পারেন।’

জ্বালানি তেলের মতো দাহ্য পদার্থ যত্রতত্র মজুত ও খোলাবাজারে বিক্রির ফলে কী ধরনের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটতে পারে এবং এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করেন স্থানীয়রা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

আলীকদমে বীর মুক্তিযোদ্ধার বিধবা স্ত্রীর সম্মানী ভাতা নিয়ে দুই সন্তানের অভিযোগ, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

Bandarban Tribune

লামা-আলীকদমে যত্রতত্র বোতলে বিক্রি হচ্ছে অকটেন

Update Time : ০২:৩৪:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬

ট্রিভিউন ডেস্ক:-

জ্বালানি তেলের বাজার অস্থিতিশীল হওয়ার আশঙ্কায় কৃত্রিম সংকটের সুযোগে লামা-আলীকদমে যত্রতত্র বিক্রি হচ্ছে অকটেন।

পান বিড়ি, মুদি দোকান, ফুটপাত, অলিগলিতে বোতল ভরে অকটেন ও পেট্রোল বিক্রির হিড়িক দেখা গেছে। এক শ্রেণির অবৈধ মজুতদার ও অসাধু ডিলাররা বাড়তি মুনাফার লোভে প্লাস্টিকের বোতলে অস্বাস্থ্যকর ও ঝুঁকিপূর্ণভাবে এই দাহ্য পদার্থ বিক্রি করছে।

খোলাবাজারে বোতলজাত তেল বিক্রির ফলে সম্ভাব্য চরম ভয়াবহতা রয়েছে। বোতলে অকটেন-পেট্রোলের মতো দাহ্য জ্বালানি বিক্রি করা আইনত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এর পেছনে প্রধান কারণ ও ঝুঁকিগুলো হলো;

ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি, সামান্য আগুন, বিড়ি-সিগারেটের স্ফুলিংঙ্গ বা তীব্র গরমে প্লাস্টিকের বোতলে মজুত করা অকটেন থেকে মুহূর্তের মধ্যে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। বিগত ৪ বছর আগে লামা উপজেলার ইয়াংছা বাজারে এমন দুর্ঘটনা ঘটেছিলো। বতোলে বিক্রেতারা পরিমান ও দ্বিগুণ দাম আদায় করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

ফিলিং স্টেশনগুলোতে যেখানে অকটেনের সরকারি নির্ধারিত দাম রয়েছে, সেখানে মজুতদাররা সাধারণ মানুষকে বোতল প্রতি লিটারে ৪ থেকে ৬ টাকা পর্যন্ত ক্ষেত্র বিশেষ তারও বেশি দাম দিতে বাধ্য করছে। অনেকে

তেল সংকট দেখিয়ে কালোবাজারে বিক্রির সুযোগ নিচ্ছে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি বা সাপ্লাই চেইনের অজুহাতে তেল মজুত করা হয়, যা পরে চড়া দামে সাধারণ ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করা হয়।

খোলা বোতলের তেলে প্রায়ই ভেজাল মেশানো থাকে এবং বোতলে সঠিক পরিমাণের চেয়ে অনেক কম তেল দেওয়া হয়। এক ধরনের লাল রঙের পাউডার মিশ্রণ করে পেট্টোলকে অকটেন করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

এই অবৈধ ও বেআইনি কর্মকাণ্ড রোধে বিভিন্ন উপজেলা প্রশাসন নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা দরকার। অনুমোদনহীনভাবে দাহ্য পদার্থ মজুত ও বিক্রি করায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অসাধু ব্যবসায়ীদের জরিমানা এবং তেল জব্দ করা হলে এই অনিয়ম রোধ সম্ভব। লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মঈন উদ্দিন বলেন, এলাকায় যদি যত্রতত্র বোতলজাত অকটেন বা পেট্রোল বিক্রির এমন কোনো ঘটনা ঘটে, তবে তা সাথে সাথে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (UNO) কার্যালয় বা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করে অবহিত করতে পারেন।’

জ্বালানি তেলের মতো দাহ্য পদার্থ যত্রতত্র মজুত ও খোলাবাজারে বিক্রির ফলে কী ধরনের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটতে পারে এবং এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করেন স্থানীয়রা।