
রাঙামাটি পার্বত্য জেলার বরকল উপজেলার বরকল ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের কুরকুটিছড়ি এলাকায় মোহাম্মদ আরাফাত হোসেন নামে এক জেলের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস। শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুর ২টা ৫০ মিনিটে জোড়টিলা এলাকার মহালছড়িমুখে কাঠালবাগানের পশ্চিম-দক্ষিণ পাশের নদী থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় জালমালিক মো. শফিককে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আরাফাত দীর্ঘদিন ধরে শফিকের কেচকি জালে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। গত ১৩ অক্টোবর আনুমানিক রাত ১টার দিকে তাঁদের মধ্যে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে আরাফাতকে জাল মালিক শফিক ও মারধর করে এবং এপিসি খালেকের বাড়ির পাশে নদীর পানিতে ডুবিয়ে মেরে ফেলে।
এর পর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন।হত্যার পরে তাঁর মরদেহ নদীতে ডুবিয়ে রাখা হয়েছে—এমন অভিযোগ সামনে এলে জাল মালিক শফিক আত্মগোপন করে।পরে গোপন
সংবাদের ভিত্তিতে ভিত্তিতে লংগদু উপজেলার
মহলছড়ি এলাকা থেকে জালমালিক শফিককে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে তাঁর দেখিয়ে দেওয়া জোড়াটিলা নামক স্থান থেকে প্রায় দুইশো গজ দুর হতে থেকে ১৭ অক্টোবর ২০২৬ আনুমানিক ৩.০০টার সময় হাত পা বাঁধা ও পেটে পাথর বাঁধা অবস্থায় আরাফাতের মরদেহ উদ্ধার করে রাঙামাটি ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় ডুবুরি দল।পরে পুলিশ বাদী হয়ে জাল মালিক শফিকের ভাষ্য অনুযায়ী ৬ জনের নামে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে।আসামীরা হলো,জাল মালিক শফিক, সোহরাব হোসেন,মোঃশাকিল,মোঃসাইম,শাহীন,মোঃআনোয়ার ও মোঃ ইউনুস আলী।
প্রধান আসামি শফিক তার জবানবন্দিতে বলে,১৩ অক্টোবর রাতে সে ও অন্যান্য আসামিদের সহযোগিতায় আরাফাত কে হত্যা করে লাশ নদীতে ডুবিয়ে দেয়। পরে লাশ ভেসে উঠলে আবারও সহযোগীদের নিয়ে লাশের পেট কাটে এবং পায়ে মাটির বস্তা ও পেটে ইট পাথর বেধে জোড়াটিলা নামক স্থান থেকে প্রায় দুইশো গজ দুর লাশটি ডুবিয়ে দেয়।
বরকল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান,লাশ উদ্ধার করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।প্রধান আসামি শফিক কে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক পক্ষ বলছে,শুভলং, বরুনা ছড়ি,কুরকুটি ছড়িসহ অনেক এলাকায় বিভিন্ন জালে যারা শ্রমিক হিসেবে কাজ করে তাদেরকে বাহির হতে আনা হয়।তাদেরকে দীর্ঘ দিন আঁটকে রেখে স্বল্প বেতনে কাজ করতে বাধ্য করা হয়।তাদের কোন পরিচয় পত্র বা মোবাইল তাদের নিকট রাখতে দেয়া হয়না।এমনকি স্থানীয় প্রশাসনের কাছে ও তাদের তথ্য জমা রাখা হয়না।
এ ঘটনায় স্থানীয় জেলেশ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।সচেতন মহলের দাবি জাল শ্রমিকদের জাতীয় পরিচয় পত্র, মোবাইল নম্বর ও তাদের আত্মীয় স্বজনের মোবাইল নম্বর ও ঠিকানা যেন স্থানীয় প্রশাসনের নিকট বাধ্যতামূলক ভাবে জমা দেয়া হয়।
তসলিম উদ্দিন, বরকল সংবাদদাতা: 



















