Lama ০৪:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড পেলেন রাঙ্গামাটির সাইমুন

পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও দুর্যোগকালীন মানবিক কার্যক্রমে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ পেয়েছেন রাঙ্গামাটির তরুণ স্বেচ্ছাসেবী মো. সাইমুন ইসলাম। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ মোকাবিলা বিভাগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে তিনি এ সম্মাননা গ্রহণ করেন।

রাঙ্গামাটির দুর্গম পাহাড়ি জনপদে পরিবেশ সুরক্ষা, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এবং দুর্যোগকালীন মানবিক সহায়তায় সক্রিয় ভূমিকা রেখে আসছেন সাইমুন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন স্বপ্নবুন (ড্রিম ডিভাইজার)-এর মাধ্যমে জেলার ১০টি উপজেলার তরুণদের নিয়ে গড়ে উঠেছে একটি স্বেচ্ছাসেবী নেটওয়ার্ক। এতে বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর তরুণেরাও যুক্ত রয়েছেন।

পরিবেশদূষণ রোধ ও জনসচেতনতা তৈরিতে তাঁর উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, শহর পরিচ্ছন্নতা এবং মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধ কার্যক্রম। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর উদ্যোগে রাঙ্গামাটিতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশদূষণবিষয়ক সচেতনতামূলক কমিউনিটি অ্যাকশন সভা আয়োজনে ভূমিকা রাখেন তিনি। পাশাপাশি বিডি ক্লিন রাঙ্গামাটি ও ব্র্যাকের সঙ্গে সমন্বয় করে বিভিন্ন পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেন।

প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণেও কাজ করছেন সাইমুন। স্নেক রেসকিউ টিম বাংলাদেশ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে বাংলাদেশ বন বিভাগের সহযোগিতায় সাপসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও নিরাপদ পরিবেশে অবমুক্ত করার কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন তিনি। একই সঙ্গে সাপে কাটলে কী করণীয়, সে বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে সরকারি কলেজগুলোতে কর্মশালার আয়োজন করেছেন। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে বন্যপ্রাণী সম্পর্কে মানুষের ভীতি ও ভুল ধারণা দূর করার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সচেতনতা তৈরির চেষ্টা করছেন তিনি।

করোনাকালীন সংকটে রাঙ্গামাটির দুর্গম এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া, মরদেহ দাফনে সহায়তা এবং খাদ্যসামগ্রী বিতরণসহ বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রমে অংশ নেন সাইমুন ও তাঁর স্বেচ্ছাসেবী দল। এ ছাড়া শীতার্ত ও হতদরিদ্র মানুষের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণসহ নানা সামাজিক উদ্যোগে তাঁদের অংশগ্রহণ রয়েছে।

পাহাড়ি অঞ্চলের পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং সংকটাপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে সাইমুনের এই স্বীকৃতি রাঙ্গামাটির তরুণ সমাজের জন্য অনুপ্রেরণামূলক অর্জন। তাঁর নেতৃত্বে পরিচালিত স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম পরিবেশ সংরক্ষণ, বন্যপ্রাণী রক্ষা ও দুর্যোগ মোকাবিলায় তরুণদের আরও সম্পৃক্ত করতে ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

শুকরের চর্বি থেকে তেল তৈরি করতে গিয়ে আগুন, পুড়ল বসতঘর

Bandarban Tribune

প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড পেলেন রাঙ্গামাটির সাইমুন

Update Time : ০৩:০১:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও দুর্যোগকালীন মানবিক কার্যক্রমে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ পেয়েছেন রাঙ্গামাটির তরুণ স্বেচ্ছাসেবী মো. সাইমুন ইসলাম। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ মোকাবিলা বিভাগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে তিনি এ সম্মাননা গ্রহণ করেন।

রাঙ্গামাটির দুর্গম পাহাড়ি জনপদে পরিবেশ সুরক্ষা, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এবং দুর্যোগকালীন মানবিক সহায়তায় সক্রিয় ভূমিকা রেখে আসছেন সাইমুন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন স্বপ্নবুন (ড্রিম ডিভাইজার)-এর মাধ্যমে জেলার ১০টি উপজেলার তরুণদের নিয়ে গড়ে উঠেছে একটি স্বেচ্ছাসেবী নেটওয়ার্ক। এতে বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর তরুণেরাও যুক্ত রয়েছেন।

পরিবেশদূষণ রোধ ও জনসচেতনতা তৈরিতে তাঁর উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, শহর পরিচ্ছন্নতা এবং মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধ কার্যক্রম। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর উদ্যোগে রাঙ্গামাটিতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশদূষণবিষয়ক সচেতনতামূলক কমিউনিটি অ্যাকশন সভা আয়োজনে ভূমিকা রাখেন তিনি। পাশাপাশি বিডি ক্লিন রাঙ্গামাটি ও ব্র্যাকের সঙ্গে সমন্বয় করে বিভিন্ন পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেন।

প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণেও কাজ করছেন সাইমুন। স্নেক রেসকিউ টিম বাংলাদেশ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে বাংলাদেশ বন বিভাগের সহযোগিতায় সাপসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও নিরাপদ পরিবেশে অবমুক্ত করার কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন তিনি। একই সঙ্গে সাপে কাটলে কী করণীয়, সে বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে সরকারি কলেজগুলোতে কর্মশালার আয়োজন করেছেন। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে বন্যপ্রাণী সম্পর্কে মানুষের ভীতি ও ভুল ধারণা দূর করার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সচেতনতা তৈরির চেষ্টা করছেন তিনি।

করোনাকালীন সংকটে রাঙ্গামাটির দুর্গম এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া, মরদেহ দাফনে সহায়তা এবং খাদ্যসামগ্রী বিতরণসহ বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রমে অংশ নেন সাইমুন ও তাঁর স্বেচ্ছাসেবী দল। এ ছাড়া শীতার্ত ও হতদরিদ্র মানুষের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণসহ নানা সামাজিক উদ্যোগে তাঁদের অংশগ্রহণ রয়েছে।

পাহাড়ি অঞ্চলের পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং সংকটাপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে সাইমুনের এই স্বীকৃতি রাঙ্গামাটির তরুণ সমাজের জন্য অনুপ্রেরণামূলক অর্জন। তাঁর নেতৃত্বে পরিচালিত স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম পরিবেশ সংরক্ষণ, বন্যপ্রাণী রক্ষা ও দুর্যোগ মোকাবিলায় তরুণদের আরও সম্পৃক্ত করতে ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।