Lama ০২:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লামা প্রেসক্লাব ঘিরে প্রতিক্রিয়াশীল চক্রের নেপথ্য ষড়যন্ত্র, জনমনে তীব্র ক্ষোভ

পার্বত্য বান্দরবানের লামা উপজেলার বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন ও সাংবাদিকদের সুসংগঠিত প্ল্যাটফর্ম ‘লামা প্রেসক্লাব’ ঘিরে নেপথ্যে অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে একটি চিহ্নিত প্রতিক্রিয়াশীল চক্র।

পেশাগত নীতি-নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে নিজেদের অপস্বার্থ চরিতার্থ করতেই চক্রটি ধারাবাহিক ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারে মেতে উঠেছে। মুলধারার সাংবাদিকদের অভিযোগ এর পেছনে রয়েছে প্রশাসনের ইন্ধন।

লামা প্রেসক্লাব ও ​স্থানীয় সচেতন মহল সূত্রে জানা গেছে, লামা উপজেলার সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষা এবং বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা চর্চায় লামা প্রেসক্লাব চার দশক ধরে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। এই ধারাবাহিকতায় লামা উপজেলায় আরো চারটি মুলধারার সাংবাদিক সংগঠনের সাংবাদিকরা পেশাগত দায়িত্ব পালন করে আসছে।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে একটি কায়েমী স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী প্রেসক্লাবের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে এবং গণমাধ্যমের স্বাধীন কণ্ঠকে স্তব্ধ ও অপ-রাজনীতির তাঁবেদারের হাতিয়ার বানাতে  নানা ধরনের কূচক্রান্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

তারা লামা প্রেসক্লাব কমিটি ​নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যাচার নীতিহীনতা ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর অব্যাহত চেষ্টা চালাচ্ছে।

অভিযোগে জানা যায়, উক্ত প্রতিক্রিয়াশীল চক্রটির নিজস্ব কোনো পেশাদারিত্ব বা সাংবাদিকতার ন্যূনতম নীতিবোধ নেই। তাই অন্য কোনো সাংবাদিক সংগঠনেও তাদেরকে সদস্যভুক্ত করা হচ্ছে না।

এই বিপদগামী চক্রটি বিভিন্ন সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া তথ্য, অপপ্রচার এবং বিভ্রান্তিকর বক্তব্য ছড়িয়ে মূলধারার সাংবাদিকদেরকে বিতর্কিত করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপপ্রয়াস চালাচ্ছে। নিজেদের ব্যক্তিস্বার্থ উদ্ধার এবং অপকর্ম ঢাকার জন্যই তারা প্রেসক্লাবকে বিতর্কিত করার এই হীন পথ বেছে নিয়েছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ তুলেছেন।

সম্প্রতি লামা প্রেসক্লাবসহ উপজেলায় ​বিদ্যমান আরো ৪টি ভ্রাতৃপ্রতিম গণমাধ্যমকর্মীদের সংগঠনের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে অপ-সাংবাদিকতা রোধে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন।

লামা প্রেসক্লাবে ও ভ্রাতৃপ্রতিম অন্য সংগঠনগুলোতে কর্মরত সাংবাদিক ও সচেতন নাগরিক সমাজ এই নীতিহীন ষড়যন্ত্রের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তাদের মতে, কোনো কায়েমী স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর অপ-প্রচারে লামা প্রেসক্লাবের ঐতিহ্য ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার ধারাকে নস্যাৎ করা যাবে না। সত্যের পক্ষে ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে লামা প্রেসক্লাব ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের সাংবাদিকরা সবসময় ঐক্যবদ্ধ থেকে কাজ করে যাবেন।

সাম্প্রতিক সময়ে কিছু নেশাখোর বদ চরিত্রের লোক তাদের অপকর্ম ঢাকতে সাংবাদিকতার মতন মহান পেশাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে। মাঠ সাংবাদিকতার নামে ফেসবুক পেইজ খোলে মানহানীকর, মনগড়া লেখালেখি করে প্রশাসনসহ বিভিন্ন পেশার মানুষকে শব্দ বোমায় হেনস্তা করে অনৈতিক সুবিধা আদায় করছে।

এসব বিষয়ে বিভিন্ন সময় লামা উপজেলা মাসিক আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভায় জোরালো প্রতিবাদ জানানো হলেও কোনো প্রতিকার ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো প্রশাসনের পক্ষ থেকে অপ-সাংবাদিকতাকে উস্কে দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন সাংবাদিক নেতৃবৃন্দরা।

জুলাই পরবর্তী সময় থেকে এই চক্রটি সাংবাদিকদেরকে ‘ফ্যাসিবাদ’ ট্যাগ লাগিয়ে প্রশাসনের সহযোগিতা নিতে চাচ্ছে।

একদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অপসাংবাদিকতা রোধে ব্যবস্থা নিতে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দদেরকে বারংবার অনুরোধ জানান। অন্যদিকে লামা প্রেসক্লাবের গঠনতন্ত্র ও সাংগঠনিক কাঠামো ভঙ্গ করে গুটিকয়েক নেশাখোর, ঠকবাজ প্রতারক, ঠুঁটোজগন্নাথ যারা একেক সময় একেক রূপে নিজেরা সংগঠন তৈরি করে; এদেরকে লেলিয়ে দিয়েছে।

এই চক্রটি অতিসম্প্রতি সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে স্বঘোষিত প্রেসক্লাব কমিটি গঠন করে প্রশাসনের ইন্ধনে লামা প্রেসক্লাবের মানহানী করে চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যার কারনে ভবিষ্যতে মুলধারার সাংবাদিক ও প্রশাসনের মধ্যে বিব্রত কর পরিবেশ তৈরি হতে পারে।

​এ বিষয়ে সুশীল সমাজ মনে করেন, এ ধরনের নেশাগ্রস্ত প্রতারক চক্র কর্তৃক সাংবাদিক পরিচয়ে বিভ্রান্তিকর তৎপরতা বন্ধে সকল মহলকে সচেতন থাকতে হবে।

লামা প্রেসক্লাব বা ভ্রাতৃপ্রতিম অন্য সংগঠনের বাহিরের এই চক্রটিকে কেনো আস্কারা দেয়া হচ্ছে; এ বিষয়ে জানতে চাইলে লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মঈন উদ্দিন বলেন, ‘উপরের নির্দেশ আছে’। ইউএনও মঈন উদ্দিনের এমন বিস্ময়কর উত্তর সাংবাদিক সংগঠন ও পেশাদারিত্বের উপর অযাচিত হস্তক্ষেপ বলে মনে করেন সাংবাদিকরা।

সাংবাদিকতার নামে যারা নীতিহীন অপকর্ম চালাচ্ছে, তাদের চিহ্নিত করে প্রতিহত করা এখন সময়ের দাবি।

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

লামা প্রেসক্লাব ঘিরে প্রতিক্রিয়াশীল চক্রের নেপথ্য ষড়যন্ত্র, জনমনে তীব্র ক্ষোভ

Bandarban Tribune

লামা প্রেসক্লাব ঘিরে প্রতিক্রিয়াশীল চক্রের নেপথ্য ষড়যন্ত্র, জনমনে তীব্র ক্ষোভ

Update Time : ১১:২১:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পার্বত্য বান্দরবানের লামা উপজেলার বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন ও সাংবাদিকদের সুসংগঠিত প্ল্যাটফর্ম ‘লামা প্রেসক্লাব’ ঘিরে নেপথ্যে অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে একটি চিহ্নিত প্রতিক্রিয়াশীল চক্র।

পেশাগত নীতি-নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে নিজেদের অপস্বার্থ চরিতার্থ করতেই চক্রটি ধারাবাহিক ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারে মেতে উঠেছে। মুলধারার সাংবাদিকদের অভিযোগ এর পেছনে রয়েছে প্রশাসনের ইন্ধন।

লামা প্রেসক্লাব ও ​স্থানীয় সচেতন মহল সূত্রে জানা গেছে, লামা উপজেলার সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষা এবং বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা চর্চায় লামা প্রেসক্লাব চার দশক ধরে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। এই ধারাবাহিকতায় লামা উপজেলায় আরো চারটি মুলধারার সাংবাদিক সংগঠনের সাংবাদিকরা পেশাগত দায়িত্ব পালন করে আসছে।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে একটি কায়েমী স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী প্রেসক্লাবের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে এবং গণমাধ্যমের স্বাধীন কণ্ঠকে স্তব্ধ ও অপ-রাজনীতির তাঁবেদারের হাতিয়ার বানাতে  নানা ধরনের কূচক্রান্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

তারা লামা প্রেসক্লাব কমিটি ​নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যাচার নীতিহীনতা ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর অব্যাহত চেষ্টা চালাচ্ছে।

অভিযোগে জানা যায়, উক্ত প্রতিক্রিয়াশীল চক্রটির নিজস্ব কোনো পেশাদারিত্ব বা সাংবাদিকতার ন্যূনতম নীতিবোধ নেই। তাই অন্য কোনো সাংবাদিক সংগঠনেও তাদেরকে সদস্যভুক্ত করা হচ্ছে না।

এই বিপদগামী চক্রটি বিভিন্ন সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া তথ্য, অপপ্রচার এবং বিভ্রান্তিকর বক্তব্য ছড়িয়ে মূলধারার সাংবাদিকদেরকে বিতর্কিত করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপপ্রয়াস চালাচ্ছে। নিজেদের ব্যক্তিস্বার্থ উদ্ধার এবং অপকর্ম ঢাকার জন্যই তারা প্রেসক্লাবকে বিতর্কিত করার এই হীন পথ বেছে নিয়েছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ তুলেছেন।

সম্প্রতি লামা প্রেসক্লাবসহ উপজেলায় ​বিদ্যমান আরো ৪টি ভ্রাতৃপ্রতিম গণমাধ্যমকর্মীদের সংগঠনের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে অপ-সাংবাদিকতা রোধে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন।

লামা প্রেসক্লাবে ও ভ্রাতৃপ্রতিম অন্য সংগঠনগুলোতে কর্মরত সাংবাদিক ও সচেতন নাগরিক সমাজ এই নীতিহীন ষড়যন্ত্রের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তাদের মতে, কোনো কায়েমী স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর অপ-প্রচারে লামা প্রেসক্লাবের ঐতিহ্য ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার ধারাকে নস্যাৎ করা যাবে না। সত্যের পক্ষে ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে লামা প্রেসক্লাব ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের সাংবাদিকরা সবসময় ঐক্যবদ্ধ থেকে কাজ করে যাবেন।

সাম্প্রতিক সময়ে কিছু নেশাখোর বদ চরিত্রের লোক তাদের অপকর্ম ঢাকতে সাংবাদিকতার মতন মহান পেশাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে। মাঠ সাংবাদিকতার নামে ফেসবুক পেইজ খোলে মানহানীকর, মনগড়া লেখালেখি করে প্রশাসনসহ বিভিন্ন পেশার মানুষকে শব্দ বোমায় হেনস্তা করে অনৈতিক সুবিধা আদায় করছে।

এসব বিষয়ে বিভিন্ন সময় লামা উপজেলা মাসিক আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভায় জোরালো প্রতিবাদ জানানো হলেও কোনো প্রতিকার ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো প্রশাসনের পক্ষ থেকে অপ-সাংবাদিকতাকে উস্কে দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন সাংবাদিক নেতৃবৃন্দরা।

জুলাই পরবর্তী সময় থেকে এই চক্রটি সাংবাদিকদেরকে ‘ফ্যাসিবাদ’ ট্যাগ লাগিয়ে প্রশাসনের সহযোগিতা নিতে চাচ্ছে।

একদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অপসাংবাদিকতা রোধে ব্যবস্থা নিতে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দদেরকে বারংবার অনুরোধ জানান। অন্যদিকে লামা প্রেসক্লাবের গঠনতন্ত্র ও সাংগঠনিক কাঠামো ভঙ্গ করে গুটিকয়েক নেশাখোর, ঠকবাজ প্রতারক, ঠুঁটোজগন্নাথ যারা একেক সময় একেক রূপে নিজেরা সংগঠন তৈরি করে; এদেরকে লেলিয়ে দিয়েছে।

এই চক্রটি অতিসম্প্রতি সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে স্বঘোষিত প্রেসক্লাব কমিটি গঠন করে প্রশাসনের ইন্ধনে লামা প্রেসক্লাবের মানহানী করে চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যার কারনে ভবিষ্যতে মুলধারার সাংবাদিক ও প্রশাসনের মধ্যে বিব্রত কর পরিবেশ তৈরি হতে পারে।

​এ বিষয়ে সুশীল সমাজ মনে করেন, এ ধরনের নেশাগ্রস্ত প্রতারক চক্র কর্তৃক সাংবাদিক পরিচয়ে বিভ্রান্তিকর তৎপরতা বন্ধে সকল মহলকে সচেতন থাকতে হবে।

লামা প্রেসক্লাব বা ভ্রাতৃপ্রতিম অন্য সংগঠনের বাহিরের এই চক্রটিকে কেনো আস্কারা দেয়া হচ্ছে; এ বিষয়ে জানতে চাইলে লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মঈন উদ্দিন বলেন, ‘উপরের নির্দেশ আছে’। ইউএনও মঈন উদ্দিনের এমন বিস্ময়কর উত্তর সাংবাদিক সংগঠন ও পেশাদারিত্বের উপর অযাচিত হস্তক্ষেপ বলে মনে করেন সাংবাদিকরা।

সাংবাদিকতার নামে যারা নীতিহীন অপকর্ম চালাচ্ছে, তাদের চিহ্নিত করে প্রতিহত করা এখন সময়ের দাবি।