
লোকটার নাম অনিক শিকদার। তাকে আমরা চোর ভেবেছিলাম, তিনি আসলে পেশাদার কোনো চোর নন, বরং নিষ্ঠুর পরিস্থিতির শিকার!
অনিক শিকদারের বাবা ছিলেন এক সম্ভ্রান্ত পরিবারের মানুষ। বাবার কঠিন অসুস্থতায় চিকিৎসার খরচ চালাতে গিয়ে পরিবারটি একসময় সবকিছু হারিয়ে পুরোপুরি নিঃস্ব হয়ে পড়ে। এই মানসিক ধাক্কা আর অসহায়ত্ব থেকে অনিক একপর্যায়ে নে–শার ঘোরে জড়িয়ে পড়েন। আর সেই সুযোগটাই নেয় স্থানীয় এক মা*ক সিন্ডিকেট।
ভিডিওটি দেখার পর WAB Foundation-এর টিম উজিরপুর থানা পুলিশের সহযোগিতায় ছুটে গিয়েছিল সেই ছোট্ট মেয়েটির কাছে। মিষ্টি এই মেয়েটার নাম তুবা। তুবা শুধু চেয়েছে তার বাবার জন্য একটা সৎ কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হোক। আর তার বাবা অনিক শিকদারও নিজের ভুল বুঝতে পেরে আলোর পথে, স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে চান। সবচেয়ে স্বস্তির খবর হলো, তুবার বাবার আলোর পথে ফেরার এই লড়াইয়ের দায়িত্ব নিয়েছে WAB Foundation।
উজিরপুর থানার ইন্সপেক্টর এই মানবিক উদ্যোগে সার্বিক সহযোগিতা ও দেখাশোনার আশ্বাস দিয়েছেন। যেহেতু গ্রামাঞ্চল, তাই অনিক শিকদার সম্মানের সাথে বেঁচে থাকার জন্য একটি অটোভ্যান চেয়েছেন।
WAB Foundation-এর পক্ষ থেকে তাকে একটি নতুন অটোভ্যান কিনে দেওয়া হচ্ছে এবং ছোট্ট তুবার পড়াশোনার যাবতীয় দায়িত্বও তারা লুফে নিয়েছে, ইনশাআল্লাহ!
হুমায়ূন আহমেদ ঠিকই বলেছিলেন, “পৃথিবীতে অনেক খারাপ মানুষ আছে, কিন্তু একটাও খারাপ বাবা নেই।” অনিক শিকদার হয়তো পরিস্থিতির চাপে পথ হারিয়েছিলেন; কিন্তু মেয়ে তুবার ভালোবাসাই আজ তাকে নতুন জীবন এনে দিল।
অপরাধের পেছনে লুকিয়ে থাকা মানুষের এই অসহায়ত্ব দূর করতে পারলে সমাজটা সত্যিই বদলে যাবে। স্যালুট ওয়াব ফাউন্ডেশন এবং উজিরপুর থানা পুলিশকে এই মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপনের জন্য!
মিরসরাই সংবাদদাতা: 



















