
বান্দরবানের থানচি উপজেলার দুর্গম ও মিয়ানমার সীমান্তঘেঁষা রেমাক্রী ইউনিয়নের বড় মদক গ্রামে আকস্মিকভাবে ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। শুক্রবার একদিনে ১০ জনের বেশি মানুষ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে থুইনুপ্রু (৩০) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।
দুর্গম সীমান্তবর্তী এ এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকটের পাশাপাশি ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় ওষুধ ও ওআরএসের সংকট দেখা দিয়েছে। বড় মদক বাজারের দুটি ছোট ফার্মেসিতে কলেরা স্যালাইন (ওআরএস) ও প্রয়োজনীয় ওষুধ না থাকায় আক্রান্ত রোগীদের তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দিতে সমস্যায় পড়ছেন স্বজনরা।
শনিবার সকালে রেমাক্রী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও বড় মদক গ্রামের বাসিন্দা চিংসাথুই মারমা মুঠোফোনে এ তথ্য জানান।
চিংসাথুই মারমা বলেন, শুক্রবার রাতে হঠাৎ করে গ্রামের ১৬০ পরিবারের মধ্যে ১০ জনের বেশি মানুষ পাতলা পায়খানা ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হন। স্থানীয় বাজারের দুটি ফার্মেসিতে প্রয়োজনীয় স্যালাইন ও ওষুধ না থাকায় চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। শনিবার সকালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঙানিংঅং (৬০) নামের একজনকে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে থানচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা চসিংমং মারমা বলেন, মদক ঝিরির ময়লা-আবর্জনাযুক্ত পানি ব্যবহারের কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এনসিপির উপজেলা কমিটির সভাপতি ও বড় মদক গ্রামের বাসিন্দা মংমে মারমা বলেন, একসঙ্গে কয়েকজন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বাজারের ফার্মেসিগুলোতে প্রয়োজনীয় স্যালাইন না থাকায় রোগীদের নিয়ে বিপাকে পড়তে হচ্ছে। দ্রুত স্বাস্থ্য বিভাগের একটি চিকিৎসক দল পাঠানো প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, বড় মদক গ্রাম উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত। সেখানে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম নৌপথ। রোগীর সংখ্যা আরও বাড়লে দ্রুত চিকিৎসাসেবা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে। তাই জরুরি ভিত্তিতে ওআরএস, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসক পাঠানোর ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
থানচি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ওয়াহিদুজ্জামান মুরাদ বলেন, বড় মদক এলাকায় ডায়রিয়ার রোগীর সংখ্যা বাড়ার খবর রেমাক্রী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুইশৈথুই মারমা রনি জানিয়েছেন। ইতোমধ্যে পর্যাপ্ত ওআরএস, প্রয়োজনীয় ওষুধ, পানিশোধন ট্যাবলেটসহ একটি চিকিৎসক দল পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বিজিবির ৩৮ ব্যাটালিয়ন ও ৫৭ ব্যাটালিয়নের অধিনায়কদের সঙ্গেও এ বিষয়ে কথা হয়েছে এবং সমন্বয় করা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে দ্রুত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে চিকিৎসক ও ওষুধ পাঠানোর বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা আরও জানান, উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের মধ্যে সমন্বয়ের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। আক্রান্তদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে। এ ছাড়া বিশুদ্ধ পানি পান, খাবার ঢেকে রাখা এবং খাবার খাওয়ার আগে ও পরে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, বড় মদক এলাকায় দ্রুত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বয়ে একটি মেডিকেল দল পাঠানো, পর্যাপ্ত ওআরএস ও প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ এবং ডায়রিয়ার প্রকোপের কারণ অনুসন্ধানে পানি ও খাবারের নমুনা পরীক্ষা করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
নিজস্ব সংবাদদাতা, (বান্দরবান)থানচি: 


















