Lama ০৩:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
এক দফা এক দাবি 'লামা' জেলা চাই...

বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদে লামা থেকে সদস্য না রাখা ও লামাকে জেলা করার দাবীতে গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত

লামা উন্নয়ন ও জেলা বাস্তবায়ন কমিটির ব্যানারে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট ২০২৬ইং) বিকেল ৩টায় লামা প্রেস ক্লাব হলরুমে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন লামা উন্নয়ন ও জেলা বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক সাংবাদিক মানবাধিকার কর্মী এম রুহুল আমিন। এতে উপস্থিত ছিলেন, একতা এনজেড সমিতির নির্বাহী পরিচালক নারীনেত্রী আনোয়ারা বেগম, লামা প্রেস ক্লাব সভাপতি প্রিয়দর্শী বড়ুয়া, প্রাক্তন শিক্ষক প্রমোদ বড়ুয়া, প্রেসক্লাব সেক্রেটারী সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ কামরুজ্জামান, এডভোকেট সাদেকুল মাওলা ইরাক, জামায়াতে ইসলামী লামা আমির কাজী মোঃ ইব্রাহীম, এডভোকেট আরিফ চৌধুরী, অধ্যাপক ফারুক হোসেন, এনসিপি নেতা নাজমুল হাসান, আব্দুক করিম, লামা খেলফত মজলিস এর সভাপতি মাওলানা শফিকুর রহমান আজাদ, সাংবাদিক মুহাম্মদ কামালুদ্দিন, রফিকুল ইসলাম, আকতার উদ্দিন তপন, নারী নেত্রী খালেদা বেগম ও রোকেয়া বেগম। এ সময় প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ, পার্বত্য চট্গ্রাম ছাত্র পরিষদ ও বিভিন্ন পেশাজীবি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বলেন, ৯ অক্টোবর, ১৯৭০ সালে, লামা মহকুমা হয়। ১৯৮১ সালে বান্দরবান পার্বত্য জেলা গঠিত হলে তৎকালীন লামা মহকুমার প্রশাসনিক সীমানা এর অন্তর্ভুক্ত হয়;

আলীকদম, নাইক্ষ্যংছড়ি, প্রস্তাবিত বাইশারী ও গজালিয়া থানা। পরবর্তীতে ১৯৮২-৮৩ সালের দিকে মহকুমা ব্যবস্থা বিলুপ্ত করা হয় এবং লামাকে উপজেলায় রূপান্তর করা হয় এবং আলীকদম থানা বহাল রেখে লামার গজালিয়া ও নাইক্ষংছড়ির বাইশারী থানা স্থগিত হয়।

এর পর ১৯৮২ সালে সরকার দেশের প্রতিটি মহকুমাকে জেলায় উন্নীত করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেয়।

এর মাধ্যমেই বাংলাদেশে মহকুমা প্রশাসনিক ইউনিটটির বিলুপ্তি ঘটে এবং এগুলো পূর্ণাঙ্গ জেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। এরপর ১৯৮৪ সালে মার্চ মাসে কয়েকটি মহকুমার জেলা কার্যক্রম স্থগিত করেন সরকার। তার মধ্যে লামা মহকুমাও জেলা স্থগিত হয়।

১৯৭৭ সালের মে মাসের ২৭ তারিখে পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও জেলা বোর্ড প্রশাসক আলী হায়দার খান ‘লামা জেলা বোর্ড বিশ্রামাগার’  ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন। ১৯৮৩-৮৪ সালে লামা জেলা তথ্য অফিস কার্যালয়ে সাইন বোর্ড ‘লামা জেলা’ তথ্য অফিস লেখা; ইত্যাদি স্মৃতিচিন্হগুলো প্রমান হিসেবে ধরে রেখেছেন লামার প্রজন্ম।

লামার প্রবীন রাজনৈতিক ব্যক্তিরা জানিয়েছিল; ১৯৮৩-৮৪ সালে বান্দরবানের তৎকালীন রাজা চায়নি লামা জেলা হোক। সেই না চাওয়া থেকে বৃহত্তর লামা তথা দক্ষিণ বান্দরবানে নেতৃত্ব ও উন্নয়নের লাগাম টেনে ধরা হয়।

এরপর থেকে লামা উপজেলা উন্নয়ন ও ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণে বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছে।

২০০১ সালে, ২০২৪ ও সর্বশেষ ২০২৬ সালে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদে অন্তর্বর্তীকালীন ১৫ সদস্য পরিষদে বৃহত্তম লামা উপজেলা থেকে সদস্য রাখা হয়নি। জনবহুল লামা উপজেলা বার বার বিশেষ মহলদ্বারা বৈষম্যের শিকার হচ্ছে বলে অভিযোহ করেন বক্তারা। দুপুর তিনটা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলা সভায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

গৃহীত প্রস্তাবগুলোর মধ্যে; সাবেক মহকুমা ‘লামা’কে জেলা করার ঐতিহাসিক দাবী নিয়ে সদাশয় সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে স্মারকলিপি, পত্রপ্রেরণসহ পরবর্তীতে প্রয়োজনে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন হবে মর্মে সিদ্ধান্ত হয়। এছাড়া ইতিপূর্বে গঠিত আহ্বায়ক কমিটির সদস্যদেরকে নিয়ে আরেকটি সভা করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

কাপ্তাই নতুনবাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, ১০ হাজার টাকা জরিমানা

Bandarban Tribune

এক দফা এক দাবি 'লামা' জেলা চাই...

বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদে লামা থেকে সদস্য না রাখা ও লামাকে জেলা করার দাবীতে গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত

Update Time : ১২:০৫:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬

লামা উন্নয়ন ও জেলা বাস্তবায়ন কমিটির ব্যানারে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট ২০২৬ইং) বিকেল ৩টায় লামা প্রেস ক্লাব হলরুমে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন লামা উন্নয়ন ও জেলা বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক সাংবাদিক মানবাধিকার কর্মী এম রুহুল আমিন। এতে উপস্থিত ছিলেন, একতা এনজেড সমিতির নির্বাহী পরিচালক নারীনেত্রী আনোয়ারা বেগম, লামা প্রেস ক্লাব সভাপতি প্রিয়দর্শী বড়ুয়া, প্রাক্তন শিক্ষক প্রমোদ বড়ুয়া, প্রেসক্লাব সেক্রেটারী সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ কামরুজ্জামান, এডভোকেট সাদেকুল মাওলা ইরাক, জামায়াতে ইসলামী লামা আমির কাজী মোঃ ইব্রাহীম, এডভোকেট আরিফ চৌধুরী, অধ্যাপক ফারুক হোসেন, এনসিপি নেতা নাজমুল হাসান, আব্দুক করিম, লামা খেলফত মজলিস এর সভাপতি মাওলানা শফিকুর রহমান আজাদ, সাংবাদিক মুহাম্মদ কামালুদ্দিন, রফিকুল ইসলাম, আকতার উদ্দিন তপন, নারী নেত্রী খালেদা বেগম ও রোকেয়া বেগম। এ সময় প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ, পার্বত্য চট্গ্রাম ছাত্র পরিষদ ও বিভিন্ন পেশাজীবি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বলেন, ৯ অক্টোবর, ১৯৭০ সালে, লামা মহকুমা হয়। ১৯৮১ সালে বান্দরবান পার্বত্য জেলা গঠিত হলে তৎকালীন লামা মহকুমার প্রশাসনিক সীমানা এর অন্তর্ভুক্ত হয়;

আলীকদম, নাইক্ষ্যংছড়ি, প্রস্তাবিত বাইশারী ও গজালিয়া থানা। পরবর্তীতে ১৯৮২-৮৩ সালের দিকে মহকুমা ব্যবস্থা বিলুপ্ত করা হয় এবং লামাকে উপজেলায় রূপান্তর করা হয় এবং আলীকদম থানা বহাল রেখে লামার গজালিয়া ও নাইক্ষংছড়ির বাইশারী থানা স্থগিত হয়।

এর পর ১৯৮২ সালে সরকার দেশের প্রতিটি মহকুমাকে জেলায় উন্নীত করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেয়।

এর মাধ্যমেই বাংলাদেশে মহকুমা প্রশাসনিক ইউনিটটির বিলুপ্তি ঘটে এবং এগুলো পূর্ণাঙ্গ জেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। এরপর ১৯৮৪ সালে মার্চ মাসে কয়েকটি মহকুমার জেলা কার্যক্রম স্থগিত করেন সরকার। তার মধ্যে লামা মহকুমাও জেলা স্থগিত হয়।

১৯৭৭ সালের মে মাসের ২৭ তারিখে পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও জেলা বোর্ড প্রশাসক আলী হায়দার খান ‘লামা জেলা বোর্ড বিশ্রামাগার’  ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন। ১৯৮৩-৮৪ সালে লামা জেলা তথ্য অফিস কার্যালয়ে সাইন বোর্ড ‘লামা জেলা’ তথ্য অফিস লেখা; ইত্যাদি স্মৃতিচিন্হগুলো প্রমান হিসেবে ধরে রেখেছেন লামার প্রজন্ম।

লামার প্রবীন রাজনৈতিক ব্যক্তিরা জানিয়েছিল; ১৯৮৩-৮৪ সালে বান্দরবানের তৎকালীন রাজা চায়নি লামা জেলা হোক। সেই না চাওয়া থেকে বৃহত্তর লামা তথা দক্ষিণ বান্দরবানে নেতৃত্ব ও উন্নয়নের লাগাম টেনে ধরা হয়।

এরপর থেকে লামা উপজেলা উন্নয়ন ও ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণে বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছে।

২০০১ সালে, ২০২৪ ও সর্বশেষ ২০২৬ সালে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদে অন্তর্বর্তীকালীন ১৫ সদস্য পরিষদে বৃহত্তম লামা উপজেলা থেকে সদস্য রাখা হয়নি। জনবহুল লামা উপজেলা বার বার বিশেষ মহলদ্বারা বৈষম্যের শিকার হচ্ছে বলে অভিযোহ করেন বক্তারা। দুপুর তিনটা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলা সভায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

গৃহীত প্রস্তাবগুলোর মধ্যে; সাবেক মহকুমা ‘লামা’কে জেলা করার ঐতিহাসিক দাবী নিয়ে সদাশয় সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে স্মারকলিপি, পত্রপ্রেরণসহ পরবর্তীতে প্রয়োজনে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন হবে মর্মে সিদ্ধান্ত হয়। এছাড়া ইতিপূর্বে গঠিত আহ্বায়ক কমিটির সদস্যদেরকে নিয়ে আরেকটি সভা করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।