
লামাকে জেলা ঘোষণার গুরুত্ব তুলে ধরে গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত
স্থগিত জেলা কার্যক্রম পুনর্বহাল, দ্রুত জেলা ঘোষণা ও জেলা পরিষদে ন্যায্য প্রতিনিধিত্বের দাবি
লামা, বান্দরবান ২৭ আগস্ট ২০২৬:
সাবেক লামা মহকুমাকে প্রশাসনিক জেলা হিসেবে বাস্তবায়ন, লামার স্থগিত জেলা কার্যক্রম পুনর্বহাল এবং নবগঠিত বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদে লামা উপজেলার ন্যায্য প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার দাবিতে গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেল ৩টায় লামা প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে লামা উন্নয়ন ও জেলা বাস্তবায়ন কমিটির উদ্যোগে এ গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন লামা প্রেসক্লাবের সভাপতি সাংবাদিক প্রিয়দর্শী বড়ুয়া। সঞ্চালনায় ছিলেন লামা উন্নয়ন ও জেলা বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব মোহাম্মদ কামরুজ্জামান।
বৈঠকে কমিটির আহ্বায়ক এম. রুহুল আমিন লামাকে জেলা বাস্তবায়নের দাবির পক্ষে ৮ পৃষ্ঠার একটি খসড়া প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন। এতে লামার প্রশাসনিক ইতিহাস, ভৌগোলিক অবস্থান, আয়তন, জনসংখ্যা, জনমিতিক বৈশিষ্ট্য, যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, পর্যটন, শিল্প, অর্থনীতি ও অবকাঠামোগত সম্ভাবনাসহ জেলা বাস্তবায়নের যৌক্তিকতা তুলে ধরা হয়।
প্রস্তাবনায় লামার জনসংখ্যার আকার, বসতি বিন্যাস, জাতিগোষ্ঠীগত বৈচিত্র্য, বয়সভিত্তিক কাঠামো, কর্মসংস্থান, অভিবাসন প্রবণতা এবং নগরায়ণের চিত্র অন্তর্ভুক্ত করে প্রশাসনিক পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তা নিরূপণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বক্তারা বলেন, লামাকে জেলা ঘোষণা করা হলে প্রশাসনিক সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছাবে, সরকারি দপ্তরগুলোর কার্যক্রমে সমন্বয় বাড়বে এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, যোগাযোগ ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে উন্নয়ন পরিকল্পনা আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।
জনসংখ্যা বৃদ্ধি, ভৌগোলিক বিস্তৃতি, দুর্গম এলাকার মানুষের সেবা গ্রহণের সীমাবদ্ধতা এবং জাতিগোষ্ঠীগত বৈচিত্র্যের কারণে লামার জন্য পৃথক জেলা প্রশাসন সময়ের গুরুত্বপূর্ণ দাবি। জেলা সদর প্রতিষ্ঠিত হলে স্থানীয় জনগণের সময় ও ব্যয় কমবে, প্রশাসনিক জবাবদিহি বাড়বে এবং উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণে স্থানীয় বাস্তবতা অধিক গুরুত্ব পাবে।
বৈঠকে বক্তারা দাবি করেন, লামা একসময় জেলা হিসেবে ২১ দিন প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছিল। পরবর্তীতে নির্বাহী আদেশে ওই কার্যক্রম স্থগিত করে লামাকে পুনরায় বান্দরবান জেলার একটি উপজেলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বক্তারা দীর্ঘদিনের এ দাবি পুনর্বিবেচনা করে বর্তমান বাস্তবতা, জনমিতিক চাপ ও প্রশাসনিক প্রয়োজনের আলোকে লামাকে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ জেলা ঘোষণার দাবি জানান।
নবগঠিত বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদে লামা উপজেলা থেকে কোনো সদস্য বা প্রতিনিধি না রাখায় বৈঠকে ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বক্তারা বলেন, গুরুত্বপূর্ণ ও বৃহৎ এ উপজেলার জনগণের ন্যায্য দাবি ও স্বার্থ যথাযথভাবে উপস্থাপনের জন্য জেলা পরিষদে লামার প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে জনসংখ্যা, ভৌগোলিক বিস্তৃতি, জাতিগোষ্ঠীগত বৈচিত্র্য ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বের ভারসাম্য বিবেচনায় নিয়ে পরিষদে প্রতিনিধিত্ব নির্ধারণের দাবি জানানো হয়।
বৈঠকে অ্যাডভোকেট সাদেকুল মাওলা ইরাক বলেন, লামাকে জেলা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইনগত ও প্রশাসনিক বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হবে। প্রয়োজন হলে আইনগত ও সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে থেকে আদালতের শরণাপন্ন হয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বক্তারা আরও বলেন, লামাকে জেলা করার দাবি কোনো ব্যক্তি, দল বা সংগঠনের একক দাবি নয়; এটি লামার সর্বস্তরের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি। তাই দল-মত নির্বিশেষে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচির মাধ্যমে এ দাবি বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।
৭ সদস্যের তথ্য অনুসন্ধান কমিটি গঠন:
গোলটেবিল বৈঠকের একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে আদহাম বিন ইব্রাহিমকে আহ্বায়ক করে সাত সদস্যবিশিষ্ট একটি তথ্য অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটির প্রধান দায়িত্ব হবে লামাকে জেলা ঘোষণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরকারি গেজেট, প্রজ্ঞাপন, প্রশাসনিক আদেশ, নথিপত্র ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক রেকর্ড সংগ্রহ ও পর্যালোচনা করা। পাশাপাশি লামার জনসংখ্যা, জনমিতিক বৈশিষ্ট্য, প্রশাসনিক সেবা গ্রহণের পরিধি, ভৌগোলিক বিস্তৃতি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা, কর্মসংস্থান এবং অবকাঠামোগত প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ করা হবে। সংগৃহীত তথ্য ও নথির ভিত্তিতে পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা ও আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
বৈঠকের তিন দফা দাবি:
গোলটেবিল বৈঠক থেকে নিম্নোক্ত দাবিগুলো উত্থাপন করা হয়;
১. লামার স্থগিত জেলা কার্যক্রম পুনর্বহাল করতে হবে।
২. সাবেক লামা মহকুমাকে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক জেলা ঘোষণা করতে হবে।
৩. বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদে লামা উপজেলার ন্যায্য প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে।
বৈঠকে নারী সমাজসেবিকা আনোয়ারা বেগম, অ্যাডভোকেট আরিফ চৌধুরী, অ্যাডভোকেট সাদেকুল মাওলা ইরাক, সাংবাদিক নজরুল ইসলাম, সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম, সাংবাদিক আমিনুল ইসলাম খন্দকার, জামায়াতে ইসলামীর আমির কাজী মো. ইব্রাহিম, এনসিপির আহ্বায়ক নাজমুল হাসান, বিএনপির নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, ছাত্র, সামাজিক, পেশাজীবী ও নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি লামার জেলা বাস্তবায়ন, ন্যায্য প্রতিনিধিত্ব এবং দীর্ঘদিনের উন্নয়ন দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে জনমিতিক ও প্রশাসনিক তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
প্রচার ও প্রকাশের জন্য: লামা উন্নয়ন ও জেলা বাস্তবায়ন কমিটি সদস্য সচিব মুহাম্মদ কামরুজ্জামানকে দায়িত্ব দিয়ে বৈঠক শেষ করা হয়।
।। প্রেস বিজ্ঞপ্ত।।
নিজস্ব সংবাদদাতা: 




















