Lama ১০:০৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বন বিভাগের তৎপরতায় রক্ষা পেলেন বহু যাত্রী

কাপ্তাই-রাঙামাটি সড়কে সাড়ে তিন ঘণ্টা বন্যহাতির অবস্থান

কাপ্তাই-রাঙামাটি আসামবস্তী সড়কের  আগর বাগান সড়কের ওপর দীর্ঘ সময় ধরে বন্যহাতির একটি দল অবস্থান করায় যান চলাচলে আতঙ্ক ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তবে বন বিভাগের দ্রুত তৎপরতায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও হাতির আক্রমণ থেকে রক্ষা পেয়েছেন ওই সড়কে চলাচলকারী বহু যাত্রী।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা বন্যহাতির একটি দল ঐ সড়কের বিভিন্ন অংশে এবং সড়কের পাশে অবস্থান নেয়। এ সময় হাতির পালকে সড়কের পাশে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

সড়ক দিয়ে যানবাহনে চলাচলের সময় চালক ও যাত্রীরা হাতির উপস্থিতি দেখতে পেয়ে বিষয়টি দ্রুত পার্বত্য চট্টগ্রাম  দক্ষিণ বন বিভাগের কাপ্তাই রেঞ্জ কার্যালয়ে জানান। খবর পেয়ে কাপ্তাই রেঞ্জ কর্মকর্তা মামুনুর রহমান বনকর্মী ও ইআরটি (ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম) সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান।

পরে বন বিভাগের সদস্যরা আতশবাজি, ফাঁকা গুলি ও গাড়ির হর্ন ব্যবহার করে হাতিগুলোকে সড়ক থেকে সরিয়ে বনের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে হাতির দলকে এক পাশ দিয়ে বনের দিকে সরিয়ে দেওয়া সম্ভব হলেও কিছুক্ষণ পর কাপ্তাই প্রবেশপথের দিকে আবারও একটি বন্যহাতি সড়কের ওপর অবস্থান নেয়।

এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন পার্বত্য চট্টগ্রাম  দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) এস এম সাজ্জাদ হোসেন। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় বন বিভাগের কর্মকর্তা, বনকর্মী ও ইআরটি সদস্যরা দ্রুত ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। ফলে সম্ভাব্য হাতির আক্রমণ ও বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে অনেক যাত্রী রক্ষা পান।

কাপ্তাই উপজেলা বিএনপির সভাপতি লোকমান আহমেদ বলেন, “আমি রাঙামাটি থেকে কাপ্তাই আসার সময় হঠাৎ সড়কের ওপর হাতি দেখতে পাই। সন্ধ্যার পর এ সড়কে চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তাই সবাইকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করার অনুরোধ করছি।”

কাপ্তাই রেঞ্জ কর্মকর্তা মামুনুর রহমান  বলেন, “সন্ধ্যার পর কাপ্তাই-রাঙামাটি সড়কে বন্যহাতির চলাচল বেড়ে যেতে পারে। তাই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কোনো ধরনের যানবাহন নিয়ে এ পথে চলাচল না করার জন্য সবাইকে সতর্ক করা হচ্ছে।”

পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) এস এম সাজ্জাদ হোসেন বলেন, “বন্যহাতির উপস্থিতির কারণে সন্ধ্যার পর ওই সড়কে চলাচলের ক্ষেত্রে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। কেউ যেন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ পথে চলাচল না করেন। এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকার অনুরোধ করছি।”

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

সেই ‘চোর’ বাবা আসলে চোর নন, পরিস্থিতির শিকার

Bandarban Tribune

বন বিভাগের তৎপরতায় রক্ষা পেলেন বহু যাত্রী

কাপ্তাই-রাঙামাটি সড়কে সাড়ে তিন ঘণ্টা বন্যহাতির অবস্থান

Update Time : ১১:৫৯:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

কাপ্তাই-রাঙামাটি আসামবস্তী সড়কের  আগর বাগান সড়কের ওপর দীর্ঘ সময় ধরে বন্যহাতির একটি দল অবস্থান করায় যান চলাচলে আতঙ্ক ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তবে বন বিভাগের দ্রুত তৎপরতায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও হাতির আক্রমণ থেকে রক্ষা পেয়েছেন ওই সড়কে চলাচলকারী বহু যাত্রী।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা বন্যহাতির একটি দল ঐ সড়কের বিভিন্ন অংশে এবং সড়কের পাশে অবস্থান নেয়। এ সময় হাতির পালকে সড়কের পাশে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

সড়ক দিয়ে যানবাহনে চলাচলের সময় চালক ও যাত্রীরা হাতির উপস্থিতি দেখতে পেয়ে বিষয়টি দ্রুত পার্বত্য চট্টগ্রাম  দক্ষিণ বন বিভাগের কাপ্তাই রেঞ্জ কার্যালয়ে জানান। খবর পেয়ে কাপ্তাই রেঞ্জ কর্মকর্তা মামুনুর রহমান বনকর্মী ও ইআরটি (ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম) সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান।

পরে বন বিভাগের সদস্যরা আতশবাজি, ফাঁকা গুলি ও গাড়ির হর্ন ব্যবহার করে হাতিগুলোকে সড়ক থেকে সরিয়ে বনের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে হাতির দলকে এক পাশ দিয়ে বনের দিকে সরিয়ে দেওয়া সম্ভব হলেও কিছুক্ষণ পর কাপ্তাই প্রবেশপথের দিকে আবারও একটি বন্যহাতি সড়কের ওপর অবস্থান নেয়।

এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন পার্বত্য চট্টগ্রাম  দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) এস এম সাজ্জাদ হোসেন। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় বন বিভাগের কর্মকর্তা, বনকর্মী ও ইআরটি সদস্যরা দ্রুত ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। ফলে সম্ভাব্য হাতির আক্রমণ ও বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে অনেক যাত্রী রক্ষা পান।

কাপ্তাই উপজেলা বিএনপির সভাপতি লোকমান আহমেদ বলেন, “আমি রাঙামাটি থেকে কাপ্তাই আসার সময় হঠাৎ সড়কের ওপর হাতি দেখতে পাই। সন্ধ্যার পর এ সড়কে চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তাই সবাইকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করার অনুরোধ করছি।”

কাপ্তাই রেঞ্জ কর্মকর্তা মামুনুর রহমান  বলেন, “সন্ধ্যার পর কাপ্তাই-রাঙামাটি সড়কে বন্যহাতির চলাচল বেড়ে যেতে পারে। তাই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কোনো ধরনের যানবাহন নিয়ে এ পথে চলাচল না করার জন্য সবাইকে সতর্ক করা হচ্ছে।”

পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) এস এম সাজ্জাদ হোসেন বলেন, “বন্যহাতির উপস্থিতির কারণে সন্ধ্যার পর ওই সড়কে চলাচলের ক্ষেত্রে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। কেউ যেন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ পথে চলাচল না করেন। এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকার অনুরোধ করছি।”