Lama ১১:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বেলা ১ টা পর্যন্ত ২৮ হাজার ৮৬৬ কেজি মাছ অবতরণ, রাজস্ব আয় ৬ লাখ ২০ হাজার টাকা

কাপ্তাই লেকে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা শেষে প্রাণচাঞ্চল্য কাপ্তাই  মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে: 

দীর্ঘ ৩ মাস ১৫ দিন পর রাঙামাটির কাপ্তাই লেকে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা শেষে আবারও মাছ ধরা শুরু হয়েছে। সোমবার (১০ আগস্ট) মধ্যরাত থেকে কাপ্তাই লেকে মাছ ধরার অনুমতি দেওয়ার পর মঙ্গলবার সকাল থেকেই প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে কাপ্তাইয়ের জেটিঘাটে অবস্থিত মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে।

দীর্ঘদিন পর মাছ নিয়ে জেলেদের বোট ভিড়তে শুরু করায় কর্মচাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে জেলে, মৎস্য ব্যবসায়ী ও ঘাট শ্রমিকদের মাঝে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৬টা থেকে কাপ্তাই মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে কাপ্তাই লেকের বিভিন্ন এলাকা বাঘাইছড়ি, লংগদু, বরকল, বিলাইছড়িসহ বিভিন্ন উপজেলা থেকে ইঞ্জিনচালিত বোটে করে জেলেরা নানা প্রজাতির মাছ নিয়ে আসতে থাকেন। সারি সারি বোটে চাপিলা, কাচকি, টেংরা, আইড়, বাইম, বাচা, কালিগুনিয়া, পাবদাসহ বিভিন্ন জাতের মাছের ড্রাম নিয়ে ঘাটে ভিড় করতে দেখা যায়।

 

মৎস্য ব্যবসায়ীরা শুল্ক পরিশোধের পর মাছগুলো বরফ দিয়ে সংরক্ষণ করে ট্রাকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। দীর্ঘ বিরতির পর জেলে, ব্যবসায়ী ও ঘাট শ্রমিকদের ব্যস্ততায় মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রটি যেন ফিরে পেয়েছে পুরোনো প্রাণচাঞ্চল্য।

মৎস্য ব্যবসায়ী জিয়াউল হক জিয়া, সাজ্জাদ, মো. মাইনুদ্দীন এবং ঘাট শ্রমিক আজগর আলীসহ সংশ্লিষ্টরা জানান, নিষেধাজ্ঞা শেষে মঙ্গলবার সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে জেলেরা ইঞ্জিনচালিত বোটে করে মাছ নিয়ে আসছেন।

নিখোঁজ বিজ্ঞপ্তি:

[নিখোঁজের পিতা- হেমায়েত সিকদার এর 01606207470]

প্রথম দিন কাচকি, চাপিলা, টেংরা, বাচা, আইড়, কালিগুনিয়া, পাবদা ও বাইম মাছ বেশি ধরা পড়েছে। লেকের পানি কমে এলে ধীরে ধীরে বড় আকারের মাছও বেশি ধরা পড়বে বলে তারা জানান।

তারা আরও জানান, কাপ্তাই লেক থেকে আহরিত এসব মাছ চট্টগ্রাম, ঢাকা ও উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হচ্ছে।
কাপ্তাই মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি বেলাল হোসেন, সহ সভাপতি আলতাফ মিয়া, সাধারণ সম্পাদক নবী হোসেন ও অর্থ সম্পাদক মো. শাহাবুদ্দীন জানান, দীর্ঘ ৩ মাস ১৫ দিন পর নিষেধাজ্ঞা শেষে সোমবার মধ্যরাত থেকে কাপ্তাই লেকে মাছ ধরা শুরু হয়েছে। রাঙামাটির মাইনি, শুভলং, বিলাইছড়ির গাছকাটা ছড়া, রাইংখং খালসহ লেকের বিভিন্ন এলাকা থেকে জেলেরা মাছ ধরে কাপ্তাই মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে নিয়ে আসছেন।

এসব মাছ শুল্ক পরিশোধের পর চট্টগ্রাম, ঢাকা ও উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হচ্ছে। তবে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের পাশে লেকে কচুরিপানা থাকায় অবতরণ কেন্দ্রে বোট ভীড়তে কষ্ট হচ্ছে।

কাপ্তাই মৎস্য উন্নয়ন উপকেন্দ্রের প্রধান জসিম উদ্দিন জানান, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৬টা থেকে কাপ্তাই মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে মাছ অবতরণ শুরু হয়। এদিন বেলা ১টা পর্যন্ত এই কেন্দ্রে ২৮ হাজার ৮৬৬ কেজি বিভিন্ন প্রজাতির মাছ অবতরণ হয়েছে। এসব মাছের বিপরীতে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ৬ লাখ ২০ হাজার টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে।

প্রসঙ্গত: কাপ্তাই লেকে মাছের প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে চলতি বছর ২৫ এপ্রিল থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত তিন মাসের জন্য মাছ আহরণ, বাজারজাত ও পরিবহনের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। পরে লেকের পানির পরিস্থিতি বিবেচনায় নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও ১০ দিন বাড়িয়ে ১০ আগস্ট মধ্যরাত পর্যন্ত করা হয়। নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সোমবার মধ্যরাত থেকে পুনরায় কাপ্তাই লেকে মাছ ধরা শুরু হয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

সেই ‘চোর’ বাবা আসলে চোর নন, পরিস্থিতির শিকার

Bandarban Tribune

বেলা ১ টা পর্যন্ত ২৮ হাজার ৮৬৬ কেজি মাছ অবতরণ, রাজস্ব আয় ৬ লাখ ২০ হাজার টাকা

কাপ্তাই লেকে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা শেষে প্রাণচাঞ্চল্য কাপ্তাই  মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে: 

Update Time : ০৫:৫০:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

দীর্ঘ ৩ মাস ১৫ দিন পর রাঙামাটির কাপ্তাই লেকে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা শেষে আবারও মাছ ধরা শুরু হয়েছে। সোমবার (১০ আগস্ট) মধ্যরাত থেকে কাপ্তাই লেকে মাছ ধরার অনুমতি দেওয়ার পর মঙ্গলবার সকাল থেকেই প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে কাপ্তাইয়ের জেটিঘাটে অবস্থিত মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে।

দীর্ঘদিন পর মাছ নিয়ে জেলেদের বোট ভিড়তে শুরু করায় কর্মচাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে জেলে, মৎস্য ব্যবসায়ী ও ঘাট শ্রমিকদের মাঝে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৬টা থেকে কাপ্তাই মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে কাপ্তাই লেকের বিভিন্ন এলাকা বাঘাইছড়ি, লংগদু, বরকল, বিলাইছড়িসহ বিভিন্ন উপজেলা থেকে ইঞ্জিনচালিত বোটে করে জেলেরা নানা প্রজাতির মাছ নিয়ে আসতে থাকেন। সারি সারি বোটে চাপিলা, কাচকি, টেংরা, আইড়, বাইম, বাচা, কালিগুনিয়া, পাবদাসহ বিভিন্ন জাতের মাছের ড্রাম নিয়ে ঘাটে ভিড় করতে দেখা যায়।

 

মৎস্য ব্যবসায়ীরা শুল্ক পরিশোধের পর মাছগুলো বরফ দিয়ে সংরক্ষণ করে ট্রাকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। দীর্ঘ বিরতির পর জেলে, ব্যবসায়ী ও ঘাট শ্রমিকদের ব্যস্ততায় মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রটি যেন ফিরে পেয়েছে পুরোনো প্রাণচাঞ্চল্য।

মৎস্য ব্যবসায়ী জিয়াউল হক জিয়া, সাজ্জাদ, মো. মাইনুদ্দীন এবং ঘাট শ্রমিক আজগর আলীসহ সংশ্লিষ্টরা জানান, নিষেধাজ্ঞা শেষে মঙ্গলবার সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে জেলেরা ইঞ্জিনচালিত বোটে করে মাছ নিয়ে আসছেন।

নিখোঁজ বিজ্ঞপ্তি:

[নিখোঁজের পিতা- হেমায়েত সিকদার এর 01606207470]

প্রথম দিন কাচকি, চাপিলা, টেংরা, বাচা, আইড়, কালিগুনিয়া, পাবদা ও বাইম মাছ বেশি ধরা পড়েছে। লেকের পানি কমে এলে ধীরে ধীরে বড় আকারের মাছও বেশি ধরা পড়বে বলে তারা জানান।

তারা আরও জানান, কাপ্তাই লেক থেকে আহরিত এসব মাছ চট্টগ্রাম, ঢাকা ও উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হচ্ছে।
কাপ্তাই মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি বেলাল হোসেন, সহ সভাপতি আলতাফ মিয়া, সাধারণ সম্পাদক নবী হোসেন ও অর্থ সম্পাদক মো. শাহাবুদ্দীন জানান, দীর্ঘ ৩ মাস ১৫ দিন পর নিষেধাজ্ঞা শেষে সোমবার মধ্যরাত থেকে কাপ্তাই লেকে মাছ ধরা শুরু হয়েছে। রাঙামাটির মাইনি, শুভলং, বিলাইছড়ির গাছকাটা ছড়া, রাইংখং খালসহ লেকের বিভিন্ন এলাকা থেকে জেলেরা মাছ ধরে কাপ্তাই মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে নিয়ে আসছেন।

এসব মাছ শুল্ক পরিশোধের পর চট্টগ্রাম, ঢাকা ও উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হচ্ছে। তবে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের পাশে লেকে কচুরিপানা থাকায় অবতরণ কেন্দ্রে বোট ভীড়তে কষ্ট হচ্ছে।

কাপ্তাই মৎস্য উন্নয়ন উপকেন্দ্রের প্রধান জসিম উদ্দিন জানান, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৬টা থেকে কাপ্তাই মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে মাছ অবতরণ শুরু হয়। এদিন বেলা ১টা পর্যন্ত এই কেন্দ্রে ২৮ হাজার ৮৬৬ কেজি বিভিন্ন প্রজাতির মাছ অবতরণ হয়েছে। এসব মাছের বিপরীতে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ৬ লাখ ২০ হাজার টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে।

প্রসঙ্গত: কাপ্তাই লেকে মাছের প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে চলতি বছর ২৫ এপ্রিল থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত তিন মাসের জন্য মাছ আহরণ, বাজারজাত ও পরিবহনের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। পরে লেকের পানির পরিস্থিতি বিবেচনায় নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও ১০ দিন বাড়িয়ে ১০ আগস্ট মধ্যরাত পর্যন্ত করা হয়। নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সোমবার মধ্যরাত থেকে পুনরায় কাপ্তাই লেকে মাছ ধরা শুরু হয়।