
লামা উপজেলায় উল্লেখযোগ্য তিনটি খেলার মাঠের মধ্যে লামা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ, চাম্পাতলী মাঠ ও টিটিএনডিসি মাঠ। উল্লেখ করার মত লামা সরকারি মাতামুহুরি কলেজেও একটি মাঠ বিদ্যমান। সাবেক লামা মহকুমা টিটিএন্ডসি প্রশাসনিক মাঠটি চার দশক আগে থেকে পরিত্যাক্ত।

লামা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠটি সংস্কার বিহীন। কলেজ মাঠ আয়তনের দিক থেকে ছোট ও সংস্কার বিহীন। চাম্পাতলী মাঠটি খেলার উপযোগি। তবে আনসার বাহিনীর প্রশিক্ষণ মাঠ হিসেবে সেটিতে খেলাধুলার মুক্ত পরিবেশ নেই।
ইতোপূর্বে সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকলেও বর্তমানে তা আনসার বাহিনীর অধিন হওয়ায় বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় সেটিতে জনসাধারণে আয়োজনে কোনো টিম খেলতে পারে না। এর ফলে সাম্প্রতিক সময়ে লামায় ছোট বড় কোনো খেলার আসর আয়োজন করা যাচ্ছে না।

অপরদিকে শিশুপার্ক নেই। বিগত শতাব্দির আশির দশকে লামা মহকুমা প্রশাসকের কার্যালয় লাগুয়া পূর্বপাশে (বর্তমান উপজেলা পরিষদ ভবন) একটি শিশুপার্ক করা হয়েছিল। প্রশাসনিক কার্যালয় সম্প্রসারণের ফলে পার্কটি বিলিন হয়ে যায়। যা রীতিমত প্রশাসনিকভাবে শিশুদের অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে বলা যায়।

খেলার মাঠ আমাদের সামাজিকীকরণ বাড়ায় ও উদারচিত্ত হৃদয়ের মানুষ গড়তে সহায়তা করে। সমাজকল্যাণ, মনোবিদ্যা এবং অপরাধ-সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, কিশোর-তরুণদের দ্বারা অপরাধের মাত্রার সঙ্গে খেলার মাঠের সুবিধা, পার্কের সংখ্যা, খোলা জায়গার পরিমাণ প্রভৃতির উল্লেখযোগ্য সম্পর্ক বিদ্যমান।
সাম্প্রতিক সময়ে আমরা যেসব কিশোর অপরাধ ও কিশোর গ্যাংয়ের অস্তিত্ব দেখতে পাই, তার পেছনে আমাদের শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার সুযোগের অভাবের দায় এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। একই সঙ্গে আমাদের শিশু-কিশোরদের স্থূলতাসহ বিভিন্ন শারীরিক অসুস্থতা এবং বিষণ্নতাসহ বিভিন্ন মানসিক অবসাদের পেছনেও খেলাধুলার সুযোগ থেকে তাদের বঞ্চিত করার দায় আছে।

আমাদের শিশু-কিশোরেরা মোবাইল গেমস কিংবা স্মার্ট ডিভাইসে আসক্ত; কিশোর তরুণদের অনেকেই মাদকাসক্ত। এতে উচ্ছন্নে যাচ্ছে আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্ম।

অথচ এসব ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধির অনেকটা সমাধান সম্ভব ছিল শিশু কিশোরদের খেলাধুলার সুযোগ করে দিয়ে। লাভ ক্ষতির হিসাব করতে গিয়ে বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক খেলার মাঠ ধ্বংস করা হচ্ছে।
অথচ আমরা শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের অর্থনৈতিক ও সামগ্রিক মূল্য নিরূপণ করতে বেমালুম ভুলে গেছি।

এই ভুলে যাওয়ার খেসারতও দিতে হচ্ছে গোটা জাতিকে। ডিজিটালখাতে রাষ্ট্রের অর্থ ব্যায় সংকোচন করে সরকারকে এখনই পার্ক আর খেলার মাঠ তৈরির বরাদ্দ প্রদানে অগ্রাধিকার দেয়া উচিত।
ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী প্রশাসকদেরকে খেলার জায়গা নির্বাচনের জন্য নির্দেশও দিয়েছেন। এই নির্দেশ বাস্তবায়নে যদি আমলাতান্ত্রিক জটিলতা না থাকে, তবে পার্বত্য লামা উপজেলায় খেলার মাঠ ও শিশুপার্কের যতেষ্ট জায়গা রয়েছে মর্মে একটি প্রতিবেদন সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে।
নিজস্ব সংবাদদাতা: 




















