
সম্প্রতি লামা বিভাগীয় বন কর্মকর্তার অদক্ষতায় তৈন রেঞ্জের সংরক্ষিত বনের গাছ কাটাসহ ফ্রি পারমিট ৫০ নং এফএল সংক্রান্ত অভিযোগ হয়।
তদন্তে উচ্চপদস্থ ২ সদস্যের একটি টিম ২৩ জুলাই লামা বিভাগীয় বন কার্যালয়ে যান।

অভিযোগকারী মোঃ ওমর ফারুক জানান, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত তদন্ত টিম ভোজন রসিকতার মাধ্যমে সময় ক্ষেপন করেন। এক পর্যায়ে অভিযোগকারীকে নিয়ে ওইদিন অপরাহ্নে ৫০ নং এফ এল এর জোতভূমিতে যান তদন্তকারী দল।
অভিযোগকারী ওমর ফারুক ৫০ নং এফএল ইয়াংছা মৌজায় পৌঁছলে সেখানে ওঁত পেতে থাকা কয়েকজন বৃক্ষ লুটেরা সন্ত্রাসীদল তাকে খোঁজতে থাকে। বিপদজনক পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে অভিযোগকারী ওমর ফারুক দ্রুতই সেখান থেকে সরে যায়।
এদিকে অভিযোগকারীর অনুপস্থিতিতে তদন্ত টিম সেখানে লামার ডিএফও মোস্তাফিজুর রহমানের সেটআপ করা বন উজাড়কারীদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে চলে আসেন বলে জানান ওমর ফারুক।
অভিযোগকারী ওমর ফারুক বলেন, তদন্ত টিমের ওই দুই সদস্যের সাথে অভিযোগকারী ঘটনা স্থলে যেনো জেরা করতে না পারে, সে জন্য ডিএফও মোস্তাফিজুর রহমান আগে থেকে সেখানে একদল ভাড়াটিয়া সন্ত্রাস প্রস্তুত রাখেন।

সে ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পরিবেশ রক্ষায় সারা দেশে ২৫ কোটি বৃক্ষ চারা সৃজন উদ্বোধন করে দেশের জলবায়ু ও পরিবেশ উন্নয়নে আপ্রান চেষ্টা করছেন।
কিন্তু ফ্যাসিবদের মদদপুষ্ট লামার ডিএফও সহ বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা রিজার্ভ ভূমির বন উজাড় করে নিজেদের আখের গোছাতে ব্যাস্ত হয়ে পড়েছেন। আমরা জিয়ার সৈনিকেরা স্বার্থান্বেষী দুর্নীতিগ্রস্ত কতক বন বিভাগের কর্মকর্তাদের এহেন কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করতে গিয়ে মামলা হামলার মিকার হচ্ছি।”

আজ সোমবার (২৭ জুলাই) মোঃ ওমর ফারুক একটি অনলাইন জিডি করেন যার নং। জিডিতে
০১। মোস্তাফিজুর রহমান, পিতা- আহম্মদ হোসেন, বর্তমান ঠিকানা: মধুঝিরি, ০৭নং ওয়ার্ড, লামা পৌরসভা, লামা, বান্দরবান। ০২। নাজিম উদ্দিন, পিতা- আব্দুল কাদের, সাং- হাজিয়ান, ০৯নং ওয়ার্ড, কাকারা, চকরিয়া, কক্সবাজার। ০৩। জামাল, পিতা- অজ্ঞাত (নাজেমের কেয়ারটেকার), সাং- ইয়াংছা মুখ, মুসলিম পাড়া, ০৭নং ওয়ার্ড, ০৩নং ফাঁসিয়াখালী ইউপি, লামা, বান্দরবান। ০৪। আব্বাস, পিতা- অজ্ঞাত, বর্তমান সাং- চকরিয়া জমজম হাসপাতালের দক্ষিণ-পূর্বে, চকরিয়া, কক্সবাজার। স্থায়ী সাং- হাজিয়ান, ০৯নং ওয়ার্ড, কাকারা, চকরিয়া, কক্সবাজার এর নাম উল্লেখ করেন।

এছাড়াও অতিসম্প্রতি ওসমান গনি নামের লামার অপর এক নাগরিক বান্দরবান কোর্টে একটি ফৌজদারি মামলায় লামা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমানকে অভিযুক্ত করেন বলে জানাগেছে।
লামা বন বিভাগে সরকারি বন লুটসহ বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতি তদন্তে বন বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত নিষ্ঠাবান অফিসারদের সমন্বয়ে নির্বাহী ম্যাজেস্ট্রেটসহ তদন্ত টিম গঠন করার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী ওমর ফারুক।

প্রসঙ্গতঃ লামা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বিগত দুই বছর আগে লামা বন ডিভিশনে যোগদানের পর নানা ধরনের দুর্নীতি, বন ও পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনিক ব্যার্থতা ইত্যাদি বিষয়ে বন বিভাগের ঊধর্তন কর্তৃপক্ষের কাছে একের পর এক অভিযোগ হচ্ছে।
এ বিষয়ে লামা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান এর কাছে জানতে চাইলে তিনি এসব অভিযোগের বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানান। তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সত্য নয় বলেও দাবি করেন তিনি।
ট্রিবিউন ডেস্ক: 




















