Lama ০৭:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
হেডম্যান কারবারী সম্মেলনে মেজর হাফিজ

রাজস্থলীতে সন্ত্রাস চাঁদাবাজ যে হোক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে

রাঙ্গামাটি জেলার কাপ্তাই জোনের জোন কমান্ডার লে, কর্ণেল নাজমুল কাদির শুভ পি এস সি এর নির্দেশনায় এবং রাজস্থলী সাব-জোন কমান্ডার মেজর হাফিজ আহম্মদ সৈকত এর তত্ত্বাবধানে রাজস্থলী আর্মি ক্যাম্পে হেডম্যান ও কারবারী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার (২৬ জুলাই ) সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন, রাজস্থলী সাব-জোন কমান্ডার মেজর হাফিজ আহম্মদ সৈকত ।

সম্মেলনটি নিয়মিত মাসিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আয়োজন করা হয়। সাব-জোন কমান্ডার স্থানীয় হেডম্যান ও কারবারীদের সাথে মতবিনিময়ের মাধ্যমে তাদের বিভিন্ন সমস্যা, প্রয়োজন ও সম্ভাবনা সম্পর্কে অবগত হন।

সভাপতির বক্তব্যে মেজর হাফিজ বলেন, “রণজয়ী আটত্রিশ দায়িত্বভার গ্রহণের পর থেকে অত্যন্ত নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে এলাকায় কাজ করে যাচ্ছে। এই অঞ্চলে দায়িত্ব পালন করতে পেরে তিনি নিজেকে গর্বিত মনে করেন।

সম্প্রতি প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় সেনাবাহিনী নিরলস ভাবে কাজ পরিচালনা করে আসছে, আমরা জানি এলাকার মানুষের যে পরিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়ছে সেটা অপূরণীয়। আমরা সামান্য সহযোগিতা করতে পেরে নিজেকে গর্বীত মনে করছি, তবে দুর্যোগে নিজেকে সচেতন হতে হবে নইলে নিজেই বিপদের সম্মুখিন হতে হয়।”

তিনি আরও বলেন, “পার্বত্য চট্টগ্রামে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দীর্ঘদিন ধরে নানা ঝুঁকি মোকাবিলা করে সফলতার সাথে কাজ করে যাচ্ছে এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে নিরলসভাবে অবদান রেখে চলেছে।

আমরা চাই এলাকায় কেউ সন্ত্রাসী চাঁদাবাজি করে তাহলে তাদের কে প্রতিহত করবো। অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী কোন দিন উন্নয়ন চাইনা। যে এলাকায় শান্তি থাকবে, সে এলাকা উন্নয়ন হবে। সন্ত্রাস চাঁদাবাজ যে হোক না কেন তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। সন্ত্রাসীদের মাথা গোজার ঠায় এ এলাকায় হতে দেওয়া যাবেনা।”

মাদকের বিষয়ে সাব জোন অধিনায়ক মেজর হাফিজ বলেন, “আমি শুনতেছি এলাকায় মাদকের ছড়াছড়ি হচ্ছে মাদককে নির্মুল করতে হবে। আপনারা আমাদের কে সঠিক তথ্য দিন আমরা মাদক সেবন কারী ও মাদক ব্যবসায়ীকে উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে আইনের আওতায় এনে শাস্তি মূলক ব্যবস্থা হাতে নিব। আশা করি কয়েক দিনের ভিতরে মাদক বিরোধী যুব সমাজ কে নিয়ে একটি প্রীতি ফুটবল টুর্ণামেন্ট করার সিদ্ধান্ত গ্রহন করা যেতে পারে। কাপ্তাই জোনের উদ্যোগে আয়োজিত এই সম্মেলনের মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের সাথে আরও সুসম্পর্ক গড়ে তোলা এবং উন্নয়ন কার্যক্রমকে ত্বরান্বিত করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।”

সেনাবাহিনীর বরাদ দিয়ে জানান “আপনাদের সহযোগিতা নিয়ে আমরা একসাথে কাজ করতে চাই। দুর্গম এলাকার মানুষ যারা এখনো আধুনিকতার ছোঁয়া পায়নি, তাদেরকে একবিংশ শতাব্দীর আধুনিক সুবিধার আওতায় আনার জন্য আমরা কাজ করছি। ভবিষ্যতেও এই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকবে।”

এলাকার শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, রাজস্থলী সাব-জোনের জেসিও মিজানুর রহমান, ১ নং ঘিলাছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবার্ট ত্রিপুরা, ২ নং গাইন্দ্যা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পুচিংমং মারমা, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান উথিনসিন মারমাসহ বিভিন্ন মৌজা থেকে আগত ৯ জন মেম্বার, ৮ জন হেডম্যান ও ১০২ জন কারবারী ও গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post
Bandarban Tribune

হেডম্যান কারবারী সম্মেলনে মেজর হাফিজ

রাজস্থলীতে সন্ত্রাস চাঁদাবাজ যে হোক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে

Update Time : ০৪:০৯:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

রাঙ্গামাটি জেলার কাপ্তাই জোনের জোন কমান্ডার লে, কর্ণেল নাজমুল কাদির শুভ পি এস সি এর নির্দেশনায় এবং রাজস্থলী সাব-জোন কমান্ডার মেজর হাফিজ আহম্মদ সৈকত এর তত্ত্বাবধানে রাজস্থলী আর্মি ক্যাম্পে হেডম্যান ও কারবারী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার (২৬ জুলাই ) সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন, রাজস্থলী সাব-জোন কমান্ডার মেজর হাফিজ আহম্মদ সৈকত ।

সম্মেলনটি নিয়মিত মাসিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আয়োজন করা হয়। সাব-জোন কমান্ডার স্থানীয় হেডম্যান ও কারবারীদের সাথে মতবিনিময়ের মাধ্যমে তাদের বিভিন্ন সমস্যা, প্রয়োজন ও সম্ভাবনা সম্পর্কে অবগত হন।

সভাপতির বক্তব্যে মেজর হাফিজ বলেন, “রণজয়ী আটত্রিশ দায়িত্বভার গ্রহণের পর থেকে অত্যন্ত নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে এলাকায় কাজ করে যাচ্ছে। এই অঞ্চলে দায়িত্ব পালন করতে পেরে তিনি নিজেকে গর্বিত মনে করেন।

সম্প্রতি প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় সেনাবাহিনী নিরলস ভাবে কাজ পরিচালনা করে আসছে, আমরা জানি এলাকার মানুষের যে পরিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়ছে সেটা অপূরণীয়। আমরা সামান্য সহযোগিতা করতে পেরে নিজেকে গর্বীত মনে করছি, তবে দুর্যোগে নিজেকে সচেতন হতে হবে নইলে নিজেই বিপদের সম্মুখিন হতে হয়।”

তিনি আরও বলেন, “পার্বত্য চট্টগ্রামে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দীর্ঘদিন ধরে নানা ঝুঁকি মোকাবিলা করে সফলতার সাথে কাজ করে যাচ্ছে এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে নিরলসভাবে অবদান রেখে চলেছে।

আমরা চাই এলাকায় কেউ সন্ত্রাসী চাঁদাবাজি করে তাহলে তাদের কে প্রতিহত করবো। অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী কোন দিন উন্নয়ন চাইনা। যে এলাকায় শান্তি থাকবে, সে এলাকা উন্নয়ন হবে। সন্ত্রাস চাঁদাবাজ যে হোক না কেন তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। সন্ত্রাসীদের মাথা গোজার ঠায় এ এলাকায় হতে দেওয়া যাবেনা।”

মাদকের বিষয়ে সাব জোন অধিনায়ক মেজর হাফিজ বলেন, “আমি শুনতেছি এলাকায় মাদকের ছড়াছড়ি হচ্ছে মাদককে নির্মুল করতে হবে। আপনারা আমাদের কে সঠিক তথ্য দিন আমরা মাদক সেবন কারী ও মাদক ব্যবসায়ীকে উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে আইনের আওতায় এনে শাস্তি মূলক ব্যবস্থা হাতে নিব। আশা করি কয়েক দিনের ভিতরে মাদক বিরোধী যুব সমাজ কে নিয়ে একটি প্রীতি ফুটবল টুর্ণামেন্ট করার সিদ্ধান্ত গ্রহন করা যেতে পারে। কাপ্তাই জোনের উদ্যোগে আয়োজিত এই সম্মেলনের মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের সাথে আরও সুসম্পর্ক গড়ে তোলা এবং উন্নয়ন কার্যক্রমকে ত্বরান্বিত করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।”

সেনাবাহিনীর বরাদ দিয়ে জানান “আপনাদের সহযোগিতা নিয়ে আমরা একসাথে কাজ করতে চাই। দুর্গম এলাকার মানুষ যারা এখনো আধুনিকতার ছোঁয়া পায়নি, তাদেরকে একবিংশ শতাব্দীর আধুনিক সুবিধার আওতায় আনার জন্য আমরা কাজ করছি। ভবিষ্যতেও এই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকবে।”

এলাকার শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, রাজস্থলী সাব-জোনের জেসিও মিজানুর রহমান, ১ নং ঘিলাছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবার্ট ত্রিপুরা, ২ নং গাইন্দ্যা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পুচিংমং মারমা, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান উথিনসিন মারমাসহ বিভিন্ন মৌজা থেকে আগত ৯ জন মেম্বার, ৮ জন হেডম্যান ও ১০২ জন কারবারী ও গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।