Lama ১১:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ইভটিজিং ও মাদক নির্মূলে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে

লামায় জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত 

পার্বত্য লামায় জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ ও মোকাবিলায় কমিউনিটি পর্যায়ে পুলিশ সার্ভিস ডেস্কের সেবা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বেলা ১১টায় লামা থানা হলরুমে  জাতিসংঘের জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ)-এর সহযোগিতায় এ সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, বান্দরবান পুলিশ সুপার মোঃ ওহাবুল ইসলাম খন্দকার।

লামা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ কাইছার হামিদের সভাপতিত্বে ও সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বান্দরবান জেলা বিএনপি’র যুগ্ন আহ্বায়ক লামা পৌসভার সাবেক মেয়র মোঃ আমির হোসেন, জামায়াতে ইসলামী লামা উপজেলা আমির কাজী মোঃ ইব্রাহীম, এনজেড একতা মহিলা সমিতির নির্বাহী পরিচালক আনোয়ারা বেগম, লামা ট্রাফিক ইন্সপেক্টর গোবিন্দ।

বক্তারা বলেন, জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ ও মোকাবিলায় কমিউনিটি পর্যায়ে পুলিশ সার্ভিস ডেস্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। শারীরিক, মানসিক, যৌন, অর্থনৈতিক এবং অনলাইন হয়রানিসহ বিভিন্ন ধরনের সহিংসতার শিকার নারী, শিশু, কিশোরী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী এ ডেস্কের মাধ্যমে নিরাপদ পরিবেশে অভিযোগ করতে পারবেন।

পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে জানানো হয় বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

আলোচনা সভায় বক্তারা আরো বলেন, জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা শুধু ব্যক্তিগত সমস্যা নয়; এটি সমাজের নিরাপত্তা, মানবাধিকার এবং সার্বিক উন্নয়নের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এ ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধে বিদ্যালয়, কলেজ, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা, যুবসমাজ, নারী সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং প্রতিটি পরিবারের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

বিজ্ঞাপন

শুধু পুলিশের একক প্রচেষ্টায় সহিংসতামুক্ত সমাজ গঠন সম্ভব নয়। সবাইকে সচেতন হয়ে ভুক্তভোগীর পাশে দাঁড়াতে হবে এবং সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে বৈষম্য ও সহিংসতামুক্ত, নিরাপদ, সমতাভিত্তিক ও মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে হবে।

সভায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, অভিভাবক, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

বিজ্ঞাপন

মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন, মাতামুহুরি কলেজ বাংলা বিভাগের প্রভাষক মোঃ আক্তার কামাল, নুনারবিল মডেল প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক জাহিদ সরোয়ার, এনসিপি লামা উপজেলা আহ্বায়ক মোঃ নাজিম উদ্দিন, এনসিপি যুগ্ন আহ্বায়ক আবদুল করিম, ইঞ্জিনিয়ার, শাহদাত হোসেন, রিপোর্টার চৌধুরী মোঃ সুজন, নজরুল ইসলাম। ছাত্র পরিষদ নেতা রফিক ও মোঃ রিয়াজ প্রমূখ।

মুক্ত আলোচনায় একজন ছাত্রী বলেন, “স্কুলে যাওয়া আসার পথে রিক্সা থেকে শুরু করে সবখানে আমরা ইভটিজিংয়ের শিকার হই।” ৮ম শ্রেণিতে পড়ুয়া ওই ছাত্রী আরো বলেন, “লামা উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স পুকুর পাড়ে মাদকের আসর বসে। মাদক সেবীরা বিদ্যালয়ে যাওয়া আসাকালীন ছাত্রীদেরকে টিজিং করে, এতে আমরা ভয়ে আছি।”

মুক্ত আলোচনায় আরো বলা হয় সর্বত্রয় মাদকের ভয়াবহ বিস্তার ও আগ্রাসনের গোটা সমাজ পরিমন্ডলে অশান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ থেকে পরিত্রাণের জন্য পারিবার, রাষ্ট্র সমাজ সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জাননো হয়। পুলিশ সুপার সর্বশেষ আশ্বস্ত করে বলেন, “জেন্ডার ভিত্তিক সহিংসতা (GBV) রোধে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন স্তরে প্রতিরোধ ও সহায়তা কমিটি গঠন করা হবে। এরই মধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র ও সরকারি প্রশাসনিক পর্যায়ে সুনির্দিষ্ট কমিটি গঠন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের নির্দেশনায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে ‘সেক্সুয়াল হ্যারেসম্যান্ট প্রিভেনশন কমিটি’ (SHPC) বা জেন্ডারভিত্তিক হয়রানি/সহিংসতা রোধ কমিটি গঠন করা বাধ্যতামূলক।

এই কমিটি শিক্ষাঙ্গনে বুলিং ও জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে কাজ করে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের মনোসামাজিক সহায়তা প্রদানের ব্যবস্থা করে।

বিজ্ঞাপন

যেকোনো সরকারি বা উন্নয়ন প্রকল্পে নারী কর্মীদের যৌন হয়রানি ও জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা রোধে ‘অভিযোগ নিরসন ব্যবস্থা’ (GRM) এবং জেন্ডার কমিটি আছে। এই কমিটিগুলোতে নারীদের কার্যকর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হয়।

“তিঁনি আরো বলেন, এসব অপরাধ নির্মুল করতে পুলিশ বিশেষ কৌশল অবলম্বন করছেন। এর মধ্যে রাতের বেলা কিশোরদের আড্ডাস্থল চিহ্নিত করে পুলিশ সেখানে গিয়ে ধারাবাহিকভাবে কাউন্সিলিং করবেন। তাতেও প্রতিকার না হলে আইনগতভাবে কঠোরতা অবলম্বন করা হবে।

এসব বিষয়ে যে কোনো তথ্য লামা থানার সার্ভিস ডেস্কে অবহিত করার জন্য অনুরোধ জানিয়ে পুলিশ সুপার আরো বলেন, “থানায় গুরুত্ব না দিলে মুঠোফোন কিংবা হোয়াটসঅ্যাপে সরাসরি আমাকে জানালে ব্যবস্থা নিব।”

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

কক্সবাজারে আইন-শৃঙ্খলা, সুশাসন নিশ্চিতকরণ ও মাদক বিরোধী বিশেষ সভা

Bandarban Tribune

ইভটিজিং ও মাদক নির্মূলে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে

লামায় জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত 

Update Time : ০৬:০৬:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

পার্বত্য লামায় জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ ও মোকাবিলায় কমিউনিটি পর্যায়ে পুলিশ সার্ভিস ডেস্কের সেবা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বেলা ১১টায় লামা থানা হলরুমে  জাতিসংঘের জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ)-এর সহযোগিতায় এ সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, বান্দরবান পুলিশ সুপার মোঃ ওহাবুল ইসলাম খন্দকার।

লামা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ কাইছার হামিদের সভাপতিত্বে ও সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বান্দরবান জেলা বিএনপি’র যুগ্ন আহ্বায়ক লামা পৌসভার সাবেক মেয়র মোঃ আমির হোসেন, জামায়াতে ইসলামী লামা উপজেলা আমির কাজী মোঃ ইব্রাহীম, এনজেড একতা মহিলা সমিতির নির্বাহী পরিচালক আনোয়ারা বেগম, লামা ট্রাফিক ইন্সপেক্টর গোবিন্দ।

বক্তারা বলেন, জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ ও মোকাবিলায় কমিউনিটি পর্যায়ে পুলিশ সার্ভিস ডেস্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। শারীরিক, মানসিক, যৌন, অর্থনৈতিক এবং অনলাইন হয়রানিসহ বিভিন্ন ধরনের সহিংসতার শিকার নারী, শিশু, কিশোরী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী এ ডেস্কের মাধ্যমে নিরাপদ পরিবেশে অভিযোগ করতে পারবেন।

পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে জানানো হয় বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

আলোচনা সভায় বক্তারা আরো বলেন, জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা শুধু ব্যক্তিগত সমস্যা নয়; এটি সমাজের নিরাপত্তা, মানবাধিকার এবং সার্বিক উন্নয়নের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এ ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধে বিদ্যালয়, কলেজ, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা, যুবসমাজ, নারী সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং প্রতিটি পরিবারের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

বিজ্ঞাপন

শুধু পুলিশের একক প্রচেষ্টায় সহিংসতামুক্ত সমাজ গঠন সম্ভব নয়। সবাইকে সচেতন হয়ে ভুক্তভোগীর পাশে দাঁড়াতে হবে এবং সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে বৈষম্য ও সহিংসতামুক্ত, নিরাপদ, সমতাভিত্তিক ও মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে হবে।

সভায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, অভিভাবক, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

বিজ্ঞাপন

মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন, মাতামুহুরি কলেজ বাংলা বিভাগের প্রভাষক মোঃ আক্তার কামাল, নুনারবিল মডেল প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক জাহিদ সরোয়ার, এনসিপি লামা উপজেলা আহ্বায়ক মোঃ নাজিম উদ্দিন, এনসিপি যুগ্ন আহ্বায়ক আবদুল করিম, ইঞ্জিনিয়ার, শাহদাত হোসেন, রিপোর্টার চৌধুরী মোঃ সুজন, নজরুল ইসলাম। ছাত্র পরিষদ নেতা রফিক ও মোঃ রিয়াজ প্রমূখ।

মুক্ত আলোচনায় একজন ছাত্রী বলেন, “স্কুলে যাওয়া আসার পথে রিক্সা থেকে শুরু করে সবখানে আমরা ইভটিজিংয়ের শিকার হই।” ৮ম শ্রেণিতে পড়ুয়া ওই ছাত্রী আরো বলেন, “লামা উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স পুকুর পাড়ে মাদকের আসর বসে। মাদক সেবীরা বিদ্যালয়ে যাওয়া আসাকালীন ছাত্রীদেরকে টিজিং করে, এতে আমরা ভয়ে আছি।”

মুক্ত আলোচনায় আরো বলা হয় সর্বত্রয় মাদকের ভয়াবহ বিস্তার ও আগ্রাসনের গোটা সমাজ পরিমন্ডলে অশান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ থেকে পরিত্রাণের জন্য পারিবার, রাষ্ট্র সমাজ সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জাননো হয়। পুলিশ সুপার সর্বশেষ আশ্বস্ত করে বলেন, “জেন্ডার ভিত্তিক সহিংসতা (GBV) রোধে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন স্তরে প্রতিরোধ ও সহায়তা কমিটি গঠন করা হবে। এরই মধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র ও সরকারি প্রশাসনিক পর্যায়ে সুনির্দিষ্ট কমিটি গঠন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের নির্দেশনায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে ‘সেক্সুয়াল হ্যারেসম্যান্ট প্রিভেনশন কমিটি’ (SHPC) বা জেন্ডারভিত্তিক হয়রানি/সহিংসতা রোধ কমিটি গঠন করা বাধ্যতামূলক।

এই কমিটি শিক্ষাঙ্গনে বুলিং ও জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে কাজ করে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের মনোসামাজিক সহায়তা প্রদানের ব্যবস্থা করে।

বিজ্ঞাপন

যেকোনো সরকারি বা উন্নয়ন প্রকল্পে নারী কর্মীদের যৌন হয়রানি ও জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা রোধে ‘অভিযোগ নিরসন ব্যবস্থা’ (GRM) এবং জেন্ডার কমিটি আছে। এই কমিটিগুলোতে নারীদের কার্যকর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হয়।

“তিঁনি আরো বলেন, এসব অপরাধ নির্মুল করতে পুলিশ বিশেষ কৌশল অবলম্বন করছেন। এর মধ্যে রাতের বেলা কিশোরদের আড্ডাস্থল চিহ্নিত করে পুলিশ সেখানে গিয়ে ধারাবাহিকভাবে কাউন্সিলিং করবেন। তাতেও প্রতিকার না হলে আইনগতভাবে কঠোরতা অবলম্বন করা হবে।

এসব বিষয়ে যে কোনো তথ্য লামা থানার সার্ভিস ডেস্কে অবহিত করার জন্য অনুরোধ জানিয়ে পুলিশ সুপার আরো বলেন, “থানায় গুরুত্ব না দিলে মুঠোফোন কিংবা হোয়াটসঅ্যাপে সরাসরি আমাকে জানালে ব্যবস্থা নিব।”