Lama ০৩:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
চরম দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

লামা ফাঁসিয়াখালী বড় ছনখোলা সেতু নির্মাণে মন্থর গতি, দ্রুত সময়ে কাজ শেষ করার দাবি

লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের কুমারী–ডুলাহাজারা–ফাঁসিয়াখালী সড়কের বড় ছনখোলা সেতু নির্মাণকাজে ধীরগতি। এই সড়কের গুরুত্ব অনুধ্যান না করা ও পরিকল্পনার অভাবে কাজের মন্থরগতি। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন এলাকার হাজারো মানুষ।

বিজ্ঞাপন

প্রায় ৪ কোটি টাকার এই উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শুরু হলেও সাধারণ মানুষের যাতায়াতের জন্য কার্যকর বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয় নাই। যার কারণে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ যাত্রীদেরকে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বহুদিনের প্রত্যাশিত সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু করতে গিয়ে বিকল্প সেতু না বানিয়ে পুরোনো সেতুটি ভেঙে ফেলা হয়। ফলে লামা উপজেলা সদররের সাথে  ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের একমাত্র অভ্যান্তরীণ যোগাযোগ কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।

বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। জরুরি রোগী পরিবহন, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত, কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণসহ দৈনন্দিন জীবনযাত্রা মারাত্মক ভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, “Climate Resilient Livelihood Improvement and Watershed Management in the Chattogram Hill Tracts (CRLIWM-CHT)” প্রকল্পের আওতায় বান্দরবান এলজিইডি ৪০ মিটার দীর্ঘ পিএসসি গার্ডার সেতু নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছেন।

প্যাকেজ নম্বর: W-B-BAN-Lama-Bridge/48। প্রকল্পটির চুক্তিমূল্য ৩ কোটি ৯৮ লাখ ৩৪ হাজার ৪০৯ টাকা ৪৭ পয়সা। ২০২৫ সালের ২৪ জুন কাজের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ২০২৭ সালের ৪ জানুয়ারি কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছে “S&B-DK JV”।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, উন্নয়নকাজের বিরোধিতা নয়, বরং পরিকল্পনাহীন বাস্তবায়নের কারণেই সাধারণ মানুষ চরম কষ্টের মুখে পড়েছেন। নির্মাণ কাজ শুরুর আগেই যদি একটি নিরাপদ বিকল্প সেতু বা ডাইভারশন নির্মাণ করা হতো, তাহলে হাজারো মানুষকে এ ধরনের দুর্ভোগ পোহাতে হতো না।

সচেতন মহলের প্রশ্ন; উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমের যথাযথ তদারকি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হচ্ছে কি না। জনগণের স্বার্থ বিবেচনায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মানসম্মত কাজ সম্পন্ন করা এবং কাজ চলাকালে জনদুর্ভোগ কমাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নবাসী দ্রুত এই সমস্যার সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একই সঙ্গে তারা পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দিন, বান্দরবান-৩০০ আসনের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের জরুরি নজরদারির দাবি জানিয়েছেন।

ফাঁসিয়াখালীবাসীর নিরাপদ চলাচলের জন্য বিকল্প সেতু তৈরি ও নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পটি সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামণা করেছেন স্থানীয়রা।

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

কক্সবাজারে আইন-শৃঙ্খলা, সুশাসন নিশ্চিতকরণ ও মাদক বিরোধী বিশেষ সভা

Bandarban Tribune

চরম দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

লামা ফাঁসিয়াখালী বড় ছনখোলা সেতু নির্মাণে মন্থর গতি, দ্রুত সময়ে কাজ শেষ করার দাবি

Update Time : ০৬:৫৭:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের কুমারী–ডুলাহাজারা–ফাঁসিয়াখালী সড়কের বড় ছনখোলা সেতু নির্মাণকাজে ধীরগতি। এই সড়কের গুরুত্ব অনুধ্যান না করা ও পরিকল্পনার অভাবে কাজের মন্থরগতি। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন এলাকার হাজারো মানুষ।

বিজ্ঞাপন

প্রায় ৪ কোটি টাকার এই উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শুরু হলেও সাধারণ মানুষের যাতায়াতের জন্য কার্যকর বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয় নাই। যার কারণে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ যাত্রীদেরকে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বহুদিনের প্রত্যাশিত সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু করতে গিয়ে বিকল্প সেতু না বানিয়ে পুরোনো সেতুটি ভেঙে ফেলা হয়। ফলে লামা উপজেলা সদররের সাথে  ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের একমাত্র অভ্যান্তরীণ যোগাযোগ কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।

বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। জরুরি রোগী পরিবহন, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত, কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণসহ দৈনন্দিন জীবনযাত্রা মারাত্মক ভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, “Climate Resilient Livelihood Improvement and Watershed Management in the Chattogram Hill Tracts (CRLIWM-CHT)” প্রকল্পের আওতায় বান্দরবান এলজিইডি ৪০ মিটার দীর্ঘ পিএসসি গার্ডার সেতু নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছেন।

প্যাকেজ নম্বর: W-B-BAN-Lama-Bridge/48। প্রকল্পটির চুক্তিমূল্য ৩ কোটি ৯৮ লাখ ৩৪ হাজার ৪০৯ টাকা ৪৭ পয়সা। ২০২৫ সালের ২৪ জুন কাজের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ২০২৭ সালের ৪ জানুয়ারি কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছে “S&B-DK JV”।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, উন্নয়নকাজের বিরোধিতা নয়, বরং পরিকল্পনাহীন বাস্তবায়নের কারণেই সাধারণ মানুষ চরম কষ্টের মুখে পড়েছেন। নির্মাণ কাজ শুরুর আগেই যদি একটি নিরাপদ বিকল্প সেতু বা ডাইভারশন নির্মাণ করা হতো, তাহলে হাজারো মানুষকে এ ধরনের দুর্ভোগ পোহাতে হতো না।

সচেতন মহলের প্রশ্ন; উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমের যথাযথ তদারকি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হচ্ছে কি না। জনগণের স্বার্থ বিবেচনায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মানসম্মত কাজ সম্পন্ন করা এবং কাজ চলাকালে জনদুর্ভোগ কমাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নবাসী দ্রুত এই সমস্যার সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একই সঙ্গে তারা পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দিন, বান্দরবান-৩০০ আসনের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের জরুরি নজরদারির দাবি জানিয়েছেন।

ফাঁসিয়াখালীবাসীর নিরাপদ চলাচলের জন্য বিকল্প সেতু তৈরি ও নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পটি সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামণা করেছেন স্থানীয়রা।