
ভূমিকা:
বান্দরবান জেলার লামা উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত মাতামুহুরি নদী প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে তীব্র ভাঙনের সৃষ্টি করে। নদীর তীরবর্তী বসতবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় স্থাপনা, কবরস্থান, কৃষিজমি, সড়ক ও জনসাধারণের বিভিন্ন স্থাপনা ঝুঁকির মুখে পড়ে। স্থানীয় জনগণের দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী জরুরি ভিত্তিতে নদী তীর সংরক্ষণে কংক্রিটের ব্লক স্থাপন ও স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি।
ভাঙনপ্রবণ প্রধান এলাকাসমূহ:
১. বমু বিলছড়ি: বমুর মুখ ব্রিজ ও কবরস্থানের তীরবর্তী এলাকা।
২. মেরাখোলা (২ নম্বর লামা ইইপি): মাতামুহুরি ব্রিজ, মেরাখোলা গ্রাম ও রাজবাড়ী সংলগ্ন নদীতীর।
৩. লামা পৌরসভা ৬ নম্বর ওয়ার্ড: সাবেক বিলছড়ি রাস্তা ও কলিঙ্গা বিল এলাকায় নদী ভাঙন।
৪. সাবেক বিলছড়ি নিচের মার্মাপাড়া: মাতামুহুরি নদীর তীরবর্তী ভাঙন এলাকা।
৫. লাইন ঝিরি ফকিরপাড়া নদী ভাঙনের কারণে বসতভিটা হুমকির মুখে।
৬. ছাগল খাইয়া এলাকা হেডম্যানের বাড়ি থেকে রাজা মিয়ার বাড়ি পর্যন্ত নদীতীর।
৭. শিলেরতুয়া বৌদ্ধ ভিটা থেকে উপরের নিজপাড়া পর্যন্ত নদী ভাঙন।
৮. ছাহ্লাহইন হেডম্যানের বাড়ি থেকে নিচের পাড়া: ভাঙন রোধে কংক্রিটের ব্লক স্থাপনের প্রয়োজনীয় এলাকা।
৯. শিলেরতুয়া ক্যাং থেকে মং মহ্লাচিং কমিশনারের বাড়ি হয়ে উপরের পাড়া পর্যন্ত: নদী ভাঙনের ঝুঁকিপূর্ণ অংশ।
১০. বমু বিলছড়ি পশ্চিমপাড়া: মাতামুহুরি নদীর ব্রিজ থেকে মাইজপাড়া বমু খালের মুখ পর্যন্ত।
১১. বমু বিলছড়ি: বমু খাল থেকে বমু বন বিট পর্যন্ত নদীতীর।

সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি:
– বসতবাড়ি ও জনবসতির ক্ষতি।
– কবরস্থান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক স্থাপনা ঝুঁকির মুখে।
– সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা।
– কৃষিজমি ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ঝুঁকি।
– বর্ষা মৌসুমে জননিরাপত্তা ও জীবন-জীবিকার ওপর মারাত্মক প্রভাব।
সুপারিশ:
– বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে জরুরি ভিত্তিতে সব ভাঙনপ্রবণ এলাকায় বিস্তারিত সমীক্ষা পরিচালনা।
– ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় কংক্রিটের ব্লক (CC Block) স্থাপন ও স্থায়ী নদী তীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণ।
– নদীর গতিপ্রকৃতি ও ভাঙনের কারণ নিয়ে কারিগরি মূল্যায়ন সম্পন্ন করা।
– সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে পর্যায়ক্রমে প্রকল্প বাস্তবায়ন।
– স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও জনগণের সমন্বয়ে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
– বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) ও বিশেষ বরাদ্দের মাধ্যমে দ্রুত অর্থায়নের ব্যবস্থা করা।

উপসংহার:
মাতামুহুরি নদীর অব্যাহত ভাঙন লামা উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষের জীবন, সম্পদ ও অবকাঠামোর জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই দ্রুত ও পরিকল্পিত নদী তীর সংরক্ষণ প্রকল্প বাস্তবায়ন না হলে ভবিষ্যতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পাবে।
শেষ কথা:
জনস্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ এবং টেকসই নদী ব্যবস্থাপনা এখন সময়ের দাবি।
এম. রুহুল আমিন সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী 




















