Lama ০২:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাঙ্গালহালিয়ায় জলাবদ্ধতা নিরসনে সেনাবাহিনীর জরুরি উদ্যোগ, ড্রেন পরিষ্কারে স্বস্তি ফিরছে প্লাবিত এলাকায়

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:১০:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
  • ১৫ Time View

রাজস্থলী প্রতিনিধি:

রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলার বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নে টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় প্লাবিত এলাকায় পানি নিষ্কাশনের জরুরি উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাপ্তাই জোন (৩৮ বীর)। সেনাবাহিনীর তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে ড্রেন পরিষ্কার ও পানি নিষ্কাশনের কাজ শুরু হওয়ায় দুর্ভোগে থাকা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

বিজ্ঞাপন

টানা বৃষ্টিতে বাঙ্গালহালিয়া বাজার, বাজারসংলগ্ন ডাকবাংলা মধ্যমপাড়া, দক্ষিণেশ্বর কালী মন্দিরের পেছনের এলাকা এবং আশপাশের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। এতে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০টি পরিবারের বসতঘর ও উঠানে হাঁটুসমান পানি জমে যায়। দীর্ঘ সময় ধরে পানি আটকে থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা।

পরবর্তীতে কাপ্তাই জোনের জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল কাদির শুভ, পিএসসি-এর নির্দেশনায় বাঙ্গালহালিয়া সেনা ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডার মেজর মো: এস আরেফিন বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন।

বিজ্ঞাপন

এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আদোমং মারমা, ইউপি সদস্য শিমুল দাস, সংরক্ষিত মহিলা সদস্য বাপ্পী দেব, বাজার কমিটির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি শামসুল আলমসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

পরিদর্শন শেষে স্থানীয় মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে তাৎক্ষণিকভাবে বুলডোজার এনে বাজার ও আশপাশের দীর্ঘদিন ধরে ভরাট হয়ে থাকা ড্রেন পরিষ্কার এবং পানি নিষ্কাশনের কার্যক্রম শুরু করা হয়। সেনাবাহিনীর এ দ্রুত মানবিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

মেজর আরেফিন বলেন, উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী জনদুর্ভোগ নিরসনে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। প্রয়োজনীয় ত্রাণ সহায়তা, চিকিৎসাসেবা, উদ্ধার কার্যক্রম এবং বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমরা সর্বাত্মক প্রস্তুত রয়েছি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আমাদের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ডাকবাংলা পাড়ার ওপর দিয়ে প্রবল স্রোতে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। পাশাপাশি বাঙ্গালহালিয়া বাজার ও গ্রামের পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। সেনাবাহিনীর উদ্যোগে সেই বাধা অপসারণ করে পানি দ্রুত নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এদিকে, টানা বর্ষণ ও পাহাড়ধসের আশঙ্কায় উপজেলা প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে মাইকিং করছে। ইতোমধ্যে উপজেলার তিনটি ইউনিয়নে মোট ৯টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

নবযোগদানকৃত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইউসুফ হাসান আশ্রয়কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি জানান, বন্যা ও পাহাড়ধস মোকাবিলায় প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, সেনাবাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে জলাবদ্ধতা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করত। তারা সেনাবাহিনী, উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার স্থায়ী সমাধানের দাবি জানান।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

কাপ্তাই নতুনবাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, ১০ হাজার টাকা জরিমানা

Bandarban Tribune

বাঙ্গালহালিয়ায় জলাবদ্ধতা নিরসনে সেনাবাহিনীর জরুরি উদ্যোগ, ড্রেন পরিষ্কারে স্বস্তি ফিরছে প্লাবিত এলাকায়

Update Time : ০৬:১০:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

রাজস্থলী প্রতিনিধি:

রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলার বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নে টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় প্লাবিত এলাকায় পানি নিষ্কাশনের জরুরি উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাপ্তাই জোন (৩৮ বীর)। সেনাবাহিনীর তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে ড্রেন পরিষ্কার ও পানি নিষ্কাশনের কাজ শুরু হওয়ায় দুর্ভোগে থাকা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

বিজ্ঞাপন

টানা বৃষ্টিতে বাঙ্গালহালিয়া বাজার, বাজারসংলগ্ন ডাকবাংলা মধ্যমপাড়া, দক্ষিণেশ্বর কালী মন্দিরের পেছনের এলাকা এবং আশপাশের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। এতে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০টি পরিবারের বসতঘর ও উঠানে হাঁটুসমান পানি জমে যায়। দীর্ঘ সময় ধরে পানি আটকে থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা।

পরবর্তীতে কাপ্তাই জোনের জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল কাদির শুভ, পিএসসি-এর নির্দেশনায় বাঙ্গালহালিয়া সেনা ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডার মেজর মো: এস আরেফিন বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন।

বিজ্ঞাপন

এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আদোমং মারমা, ইউপি সদস্য শিমুল দাস, সংরক্ষিত মহিলা সদস্য বাপ্পী দেব, বাজার কমিটির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি শামসুল আলমসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

পরিদর্শন শেষে স্থানীয় মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে তাৎক্ষণিকভাবে বুলডোজার এনে বাজার ও আশপাশের দীর্ঘদিন ধরে ভরাট হয়ে থাকা ড্রেন পরিষ্কার এবং পানি নিষ্কাশনের কার্যক্রম শুরু করা হয়। সেনাবাহিনীর এ দ্রুত মানবিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

মেজর আরেফিন বলেন, উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী জনদুর্ভোগ নিরসনে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। প্রয়োজনীয় ত্রাণ সহায়তা, চিকিৎসাসেবা, উদ্ধার কার্যক্রম এবং বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমরা সর্বাত্মক প্রস্তুত রয়েছি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আমাদের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ডাকবাংলা পাড়ার ওপর দিয়ে প্রবল স্রোতে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। পাশাপাশি বাঙ্গালহালিয়া বাজার ও গ্রামের পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। সেনাবাহিনীর উদ্যোগে সেই বাধা অপসারণ করে পানি দ্রুত নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এদিকে, টানা বর্ষণ ও পাহাড়ধসের আশঙ্কায় উপজেলা প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে মাইকিং করছে। ইতোমধ্যে উপজেলার তিনটি ইউনিয়নে মোট ৯টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

নবযোগদানকৃত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইউসুফ হাসান আশ্রয়কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি জানান, বন্যা ও পাহাড়ধস মোকাবিলায় প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, সেনাবাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে জলাবদ্ধতা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করত। তারা সেনাবাহিনী, উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার স্থায়ী সমাধানের দাবি জানান।