Lama ০৫:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রতিবেশী লোক ঘরে আটকে রেখে কিশোরীকে ধর্ষণ করে

বাবা কর্তৃক সৎ মেয়েকে ধর্ষণের নতুন মোড়

  • গোলাম রহমান:
  • Update Time : ০১:০৭:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৪ Time View

রাঙ্গামাটির লংগদু উপজেলার আটারকছড়া ইউনিয়নে সৎ বাবা কর্তৃক মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগকে অস্বীকার করে, প্রতিবেশী পান্না শরীফের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ করেছন মেয়ে ও তার মা।

ভিকটিম কিশোরী জানান,  ঘটনার ৯দিন আগে মায়ের সাথে রাগ করে রাস্তা দাড়িয়ে কান্না করছিলো সে। এমতাবস্থায় প্রতিবেশী পান্না শরীফ (৭০) রাস্তা থেকে তাকে নিয়ে যায়। ঘরে নিয়ে কিশোরীকে ধর্ষণ করে। পরবর্তীতে পান্না শরীফের প্রতিবন্ধী ছেলের সাথে একই রুমে ৯দিন আটকে রাখে।

কিশোরীর অভিযোগ পান্না শরীফ তার প্রতিবন্ধি ছেলের সাথে কিশোরীকে বিয়ে দিবে বলে তাকে ধর্ষণ করে এবং এসব কথা কাউকে না বলার জন্য বলে। যদি কারো সাথে বলে তাহলে মেরে বস্তা বন্ধি করে পানিতে ফেলে দিবে ভয় ভীতি দেখায়।

এছাড়াও ভুয়া পুলিশ সাজিয়ে তাকে দিয়ে কিশোরীকে নিজের  বাবা এবং প্রতিবেশী শহিদুল ও ইব্রাহিম নাম থানা পুলিশের কাছে স্বীকার করতে বলে। অন্যথায় মেরে ফেলার ভয় দেখানো হয়। পরবর্তীতে ঘটনা ধামাচাপা দিতে পান্না শরীফ নিজেই স্থানীয় গণ্যমান্য ও প্রশাসনকে বিষয়টি জানান দেয়। অথচ পরিবার এবং কিশোরীর কর্তৃক কোন অভিযোগ হয়নি বলে জানান তারা।

কিশোরীর মা জানান, স্বামী হিসেবে তিনি একজন ফরেজগার ও নামাজি মানুষ। তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ আমরা প্রথমেও মানতে পারিনি। মেয়ে প্রথমে ভয়ে কিছু স্বীকার করেনি পরবর্তীতে কিশোরী সকল কিছু স্বীকার করে।  পান্না শরীফ মেয়েকে আটকে রেখেছে ৯দিন।এর ভেতরে প্রথম দিনেই মেয়েকে ধর্ষণ করে সে।

অথচ এদিকে মেয়েকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি করে তাদের বাসায়ও জিজ্ঞেস করলে তারা তখন নাই বলে স্বীকার করে। দ্রুত সময়ে আসল অপরাধীকে গ্রেফতার করে নিজের স্বামী ও নিরাপদ ব্যক্তিদের মুক্তির  জন্য জোর আকুতি জানিয়েছে পরিবারটি।

স্থানীয়রা জানান, পান্না শরীফের চরিত্র আগে থেকেই খারাপ। তিনি তার প্রতিবন্ধি ছেলেকে আগে আরো দুটি বিয়ে করান।  একে একে দুজনকে ধষর্ণন করলে, প্রতিবন্ধি ছেলের আগের দুইটি স্ত্রী বিদায় নেয়। এলাকার যুব সমাজ ও মুরব্বিদের আকুতি দ্রুত সময়ে পান্না শরীফকে গ্রেফতার করে সমাজকে মুক্ত করা হোক।

এদিকে এসকল বিষয় অস্বীকার করে পান্না শরীফ বলেন, ‘ঘটনাটি হচ্ছে আমি গাছের কাজ করছিলাম,হঠাৎ মেয়েটি কান্না করতে করতে আমার কাছে আসে। পরবর্তীতে আমি তাকে কি হয়েছে জানতে চাইলে, মেয়েটি বলে তার বাবা তাকে বাসায় গেলে মারধর করে সে আর বাসায় যাবেনা। পরে আমি তাকে আমার বাসায় নিয়ে যাই। তিনদিন আমার বাসায় থাকে। তিন দিন পর হঠাৎ বাসায় থেকে পালিয়ে যায়।  পরে খোঁজখবর নিয়ে তাকে পেয়ে তার মা বাবার কাছে পৌছে দিয়েছি।’

লংগদু থানার অফিসার ইনচার্জ জাকারিয়া বলেন, এখনো নতুন কোন কিছুর আলামত পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনার দিন যা পেয়েছি তৎক্ষনাৎ আসামীদের গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post
Bandarban Tribune

প্রতিবেশী লোক ঘরে আটকে রেখে কিশোরীকে ধর্ষণ করে

বাবা কর্তৃক সৎ মেয়েকে ধর্ষণের নতুন মোড়

Update Time : ০১:০৭:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাঙ্গামাটির লংগদু উপজেলার আটারকছড়া ইউনিয়নে সৎ বাবা কর্তৃক মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগকে অস্বীকার করে, প্রতিবেশী পান্না শরীফের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ করেছন মেয়ে ও তার মা।

ভিকটিম কিশোরী জানান,  ঘটনার ৯দিন আগে মায়ের সাথে রাগ করে রাস্তা দাড়িয়ে কান্না করছিলো সে। এমতাবস্থায় প্রতিবেশী পান্না শরীফ (৭০) রাস্তা থেকে তাকে নিয়ে যায়। ঘরে নিয়ে কিশোরীকে ধর্ষণ করে। পরবর্তীতে পান্না শরীফের প্রতিবন্ধী ছেলের সাথে একই রুমে ৯দিন আটকে রাখে।

কিশোরীর অভিযোগ পান্না শরীফ তার প্রতিবন্ধি ছেলের সাথে কিশোরীকে বিয়ে দিবে বলে তাকে ধর্ষণ করে এবং এসব কথা কাউকে না বলার জন্য বলে। যদি কারো সাথে বলে তাহলে মেরে বস্তা বন্ধি করে পানিতে ফেলে দিবে ভয় ভীতি দেখায়।

এছাড়াও ভুয়া পুলিশ সাজিয়ে তাকে দিয়ে কিশোরীকে নিজের  বাবা এবং প্রতিবেশী শহিদুল ও ইব্রাহিম নাম থানা পুলিশের কাছে স্বীকার করতে বলে। অন্যথায় মেরে ফেলার ভয় দেখানো হয়। পরবর্তীতে ঘটনা ধামাচাপা দিতে পান্না শরীফ নিজেই স্থানীয় গণ্যমান্য ও প্রশাসনকে বিষয়টি জানান দেয়। অথচ পরিবার এবং কিশোরীর কর্তৃক কোন অভিযোগ হয়নি বলে জানান তারা।

কিশোরীর মা জানান, স্বামী হিসেবে তিনি একজন ফরেজগার ও নামাজি মানুষ। তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ আমরা প্রথমেও মানতে পারিনি। মেয়ে প্রথমে ভয়ে কিছু স্বীকার করেনি পরবর্তীতে কিশোরী সকল কিছু স্বীকার করে।  পান্না শরীফ মেয়েকে আটকে রেখেছে ৯দিন।এর ভেতরে প্রথম দিনেই মেয়েকে ধর্ষণ করে সে।

অথচ এদিকে মেয়েকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি করে তাদের বাসায়ও জিজ্ঞেস করলে তারা তখন নাই বলে স্বীকার করে। দ্রুত সময়ে আসল অপরাধীকে গ্রেফতার করে নিজের স্বামী ও নিরাপদ ব্যক্তিদের মুক্তির  জন্য জোর আকুতি জানিয়েছে পরিবারটি।

স্থানীয়রা জানান, পান্না শরীফের চরিত্র আগে থেকেই খারাপ। তিনি তার প্রতিবন্ধি ছেলেকে আগে আরো দুটি বিয়ে করান।  একে একে দুজনকে ধষর্ণন করলে, প্রতিবন্ধি ছেলের আগের দুইটি স্ত্রী বিদায় নেয়। এলাকার যুব সমাজ ও মুরব্বিদের আকুতি দ্রুত সময়ে পান্না শরীফকে গ্রেফতার করে সমাজকে মুক্ত করা হোক।

এদিকে এসকল বিষয় অস্বীকার করে পান্না শরীফ বলেন, ‘ঘটনাটি হচ্ছে আমি গাছের কাজ করছিলাম,হঠাৎ মেয়েটি কান্না করতে করতে আমার কাছে আসে। পরবর্তীতে আমি তাকে কি হয়েছে জানতে চাইলে, মেয়েটি বলে তার বাবা তাকে বাসায় গেলে মারধর করে সে আর বাসায় যাবেনা। পরে আমি তাকে আমার বাসায় নিয়ে যাই। তিনদিন আমার বাসায় থাকে। তিন দিন পর হঠাৎ বাসায় থেকে পালিয়ে যায়।  পরে খোঁজখবর নিয়ে তাকে পেয়ে তার মা বাবার কাছে পৌছে দিয়েছি।’

লংগদু থানার অফিসার ইনচার্জ জাকারিয়া বলেন, এখনো নতুন কোন কিছুর আলামত পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনার দিন যা পেয়েছি তৎক্ষনাৎ আসামীদের গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।