Lama ০৮:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চরফ্যাশনে স্কুলছাত্রী নিখোঁজের ঘটনায় একজন গ্রেফতার

চরফ্যাশন উপজেলার শশীভূষণ থানায় এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় মাইনুল হাজারি নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ সকালে সংঘটিত এই অপহরণ ঘটনার পর ভুক্তভোগী ছাত্রীর চাচা শশীভূষণ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বাদী হয়ে শশীভূষণ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

তবে আটককৃতের পরিবারের দাবি, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক গ্রুপিংয়ের জেরে তাকে এই মামলায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে জড়ানো হয়েছে।

মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ সকাল আনুমানিক ০৯:৩০ ঘটিকার সময় শশীভূষণ থানাধীন রসুলপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের নিজ বাড়ি থেকে উত্তর আইচা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয় সুমাইয়া নাদিয়া নামের এক ছাত্রী। সে উক্ত বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী।

পথিমধ্যে উত্তর আইচা ৮নং ওয়ার্ড এলাকায় পৌঁছালে ওত পেতে থাকা মাইনুল হাজারি ও তার সহযোগীরা পরিকল্পিতভাবে একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশা নিয়ে তার গতিপথ রোধ করে। পরবর্তীতে তারা বিভিন্ন প্রলোভন ও ফুসলাইয়া সুমাইয়া নাদিয়াকে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়।

এই ঘটনার পর ভুক্তভোগী ছাত্রীর চাচা শশীভূষণ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বাদী শশীভূষণ থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করা হয়। মামলার প্রেক্ষিতে শশীভূষণ থানা পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে এজাহারনামীয় প্রধান আসামি মাইনুল হাজারিকে আজ (২৪ সেপ্টেম্বর) গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

এদিকে, গ্রেফতারকৃত মাইনুল হাজারির পরিবারের পক্ষ থেকে অপহরণের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করা হয়েছে। তাদের দাবি, মাইনুল এই ঘটনার সাথে কোনোভাবেই জড়িত নন। রসুলপুর ইউনিয়নে আসন্ন ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের গ্রুপিং ও রাজনৈতিক বিরোধের জেরে মাইনুলকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন ও কোণঠাসা করতেই এই সাজানো মামলায় তাকে আসামি করা হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে শশীভূষণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ আহম্মদ গণমাধ্যমকে জানান, স্কুলছাত্রী অপহরণের সুনিন্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা মামলা রুজু করেছি এবং মামলার প্রধান আসামি মাইনুল হাজারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ভুক্তভোগী ছাত্রীকে উদ্ধার এবং ঘটনার সাথে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।

ঘটনার পেছনে অন্য কোনো পারিবারিক বা রাজনৈতিক বিরোধ রয়েছে কি না, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। গ্রেফতারকৃত আসামিকে আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপন্দ করার প্রস্তুতি চলছে বলে থানা পুলিশ নিশ্চিত করেছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

‎১৮তম বিজিএস-এ জজ হলেন ববির তিন শিক্ষার্থী

Bandarban Tribune

চরফ্যাশনে স্কুলছাত্রী নিখোঁজের ঘটনায় একজন গ্রেফতার

Update Time : ০৬:০৭:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চরফ্যাশন উপজেলার শশীভূষণ থানায় এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় মাইনুল হাজারি নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ সকালে সংঘটিত এই অপহরণ ঘটনার পর ভুক্তভোগী ছাত্রীর চাচা শশীভূষণ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বাদী হয়ে শশীভূষণ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

তবে আটককৃতের পরিবারের দাবি, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক গ্রুপিংয়ের জেরে তাকে এই মামলায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে জড়ানো হয়েছে।

মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ সকাল আনুমানিক ০৯:৩০ ঘটিকার সময় শশীভূষণ থানাধীন রসুলপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের নিজ বাড়ি থেকে উত্তর আইচা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয় সুমাইয়া নাদিয়া নামের এক ছাত্রী। সে উক্ত বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী।

পথিমধ্যে উত্তর আইচা ৮নং ওয়ার্ড এলাকায় পৌঁছালে ওত পেতে থাকা মাইনুল হাজারি ও তার সহযোগীরা পরিকল্পিতভাবে একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশা নিয়ে তার গতিপথ রোধ করে। পরবর্তীতে তারা বিভিন্ন প্রলোভন ও ফুসলাইয়া সুমাইয়া নাদিয়াকে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়।

এই ঘটনার পর ভুক্তভোগী ছাত্রীর চাচা শশীভূষণ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বাদী শশীভূষণ থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করা হয়। মামলার প্রেক্ষিতে শশীভূষণ থানা পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে এজাহারনামীয় প্রধান আসামি মাইনুল হাজারিকে আজ (২৪ সেপ্টেম্বর) গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

এদিকে, গ্রেফতারকৃত মাইনুল হাজারির পরিবারের পক্ষ থেকে অপহরণের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করা হয়েছে। তাদের দাবি, মাইনুল এই ঘটনার সাথে কোনোভাবেই জড়িত নন। রসুলপুর ইউনিয়নে আসন্ন ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের গ্রুপিং ও রাজনৈতিক বিরোধের জেরে মাইনুলকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন ও কোণঠাসা করতেই এই সাজানো মামলায় তাকে আসামি করা হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে শশীভূষণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ আহম্মদ গণমাধ্যমকে জানান, স্কুলছাত্রী অপহরণের সুনিন্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা মামলা রুজু করেছি এবং মামলার প্রধান আসামি মাইনুল হাজারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ভুক্তভোগী ছাত্রীকে উদ্ধার এবং ঘটনার সাথে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।

ঘটনার পেছনে অন্য কোনো পারিবারিক বা রাজনৈতিক বিরোধ রয়েছে কি না, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। গ্রেফতারকৃত আসামিকে আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপন্দ করার প্রস্তুতি চলছে বলে থানা পুলিশ নিশ্চিত করেছে।