Lama ১১:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বিলিন হচ্ছে পাহাড় প্রকৃতি

লামায় লাল মাটির পাহাড় ধসিয়ে বালু বিক্রি

​লামা উপজেলা আজিজনগর ইউনিয়ন ৯ নং ওয়ার্ডে পাহাড় গলিয়ে (কেটে বা পানি দিয়ে ধসিয়ে) বালু তৈরির অভিযোগ উঠেছে।

​জানাযায়, লোগাড়া এলাকায় এক শ্রেণির প্রভাবশালী চক্র লামা আজিজনগরের ৯ নং ওয়ার্ডে হারেস মেম্বারের বাড়ির কিছু দক্ষিনে গরুরলোড়া খালের আগায় উত্তর পাশে পাহাড় কেটে এবং কৃত্রিমভাবে পাহাড়ি মাটি গলিয়ে বালু বানিয়ে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, এই অপরাধে জড়িত রয়েছে; মোঃ মনসুর আলী পিতা- ইসলাম, মোহাম্মদ বদি আলম, পিতা- গুনো মিয়া, মোহাম্মদ শাহেদ, পিতা- আব্বাস উদ্দিন, মোহাম্মদ হাশেম পিতা – কবির আহমদ ও মোহাম্মদ লিয়াকত আলী, পিতা- মাওলানা রহমত উল্লাহ গং। এরা সবাই পার্শ্ববর্তী লোহাগাড়া উপজেলার বাসিন্দা।

জানাযায়, বর্ষার সময় বা কৃত্রিম পানির পাম্প ব্যবহার করে পাহাড়ের গা ধসিয়ে সেই মাটি ছড়া ও ছড়ায় প্রবাহিত করে বালু ছেঁকে আলাদা করা হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে এই বালু সরবরাহ করা হচ্ছে বিভিন্ন আবাসন প্রকল্প ও নির্মাণকাজে।

স্থানীয়রা জানান, উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ড্রেজার ও ওয়াটার পাম্পের মাধ্যমে পাহাড়ে তীব্র বেগে পানি ছিটিয়ে মাটিকে কাদায় রূপান্তর করা হয়।

​এর পর পাহাড়ি ছড়া দিয়ে বয়ে যাওয়ার সময় বিশেষ ছাঁকনি ও বাঁধ দিয়ে নিচে বালু জমা করা হয় এবং পলি ধুইয়ে পরে রাতের আঁধারে এবং ভোরবেলায় ডাম্প ট্রাকে করে এই বালুমাটি বিভিন্ন কনস্ট্রাকশন সাইটে বিক্রি করা হচ্ছে।

এর ফলে পাহাড়ের গঠন নষ্ট হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই বড় ধরনের পাহাড় ধসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে সেখানে। যা সেখানকার জনবসতির জন্য প্রাণঘাতী বলে স্থানীয়রা জানান।

​অপরদিকে পাহাড়ি মাটি ধসে নিম্নাঞ্চলের ছড়া, খাল ও নদী ভরাট হয়ে যাচ্ছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই কৃত্রিম বন্যার সৃষ্টি হয়। পানির স্রোতে পলি ও কাদা ছড়িয়ে পড়ার কারণে নিম্নাঞ্চলের আবাদি জমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে।

​এছাড়াও পাহাড়ি বনাঞ্চল ও বন্যপ্রাণীর প্রাকৃতিক আবাসস্থল চিরতরে বিনষ্ট হচ্ছে।

​ ​বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) অনুযায়ী, সরকারি বা বেসরকারি যেকোনো উদ্দেশ্যে পাহাড় কাটা বা টিলা মোচন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও দণ্ডনীয় অপরাধ। পাহাড় ধসিয়ে বালু উত্তোলন পরিবেশ সংরক্ষণ আইন এবং বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর স্পষ্ট লঙ্ঘন।

​পরিবেশ অধিদপ্তর, স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে দ্রুত এলাকাটিতে অভিযান পরিচালনা দরকার। অভিযুক্ত সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে পরিবেশগত ক্ষতিপূরণ মামলাসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি জানিয়েন স্থানীয়রা।

অভিযুক্তরা অন্য এলাকার হওয়ায়, তাদের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয় নি।

​এ ব্যপারে বান্দরবান পরিবেশ অধিদপ্তর এর উপ-পরিচালকের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে; তিনি অভিযান করে আইনি ব্যবস্থা নিবেন বলে বান্দরবান ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন। পাহাড় পরিবেশ ধ্বংসকারীদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নিবেন;  স্থানীয়রা এমনটা প্রত্যাশা করেছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

লামায় রূপসীপাড়া ইউনিয়নে ক্রাশ প্রোগ্রামের আওতায় ম্রো শিশুদের টিকাদান

Bandarban Tribune

বিলিন হচ্ছে পাহাড় প্রকৃতি

লামায় লাল মাটির পাহাড় ধসিয়ে বালু বিক্রি

Update Time : ০৬:৫৪:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

​লামা উপজেলা আজিজনগর ইউনিয়ন ৯ নং ওয়ার্ডে পাহাড় গলিয়ে (কেটে বা পানি দিয়ে ধসিয়ে) বালু তৈরির অভিযোগ উঠেছে।

​জানাযায়, লোগাড়া এলাকায় এক শ্রেণির প্রভাবশালী চক্র লামা আজিজনগরের ৯ নং ওয়ার্ডে হারেস মেম্বারের বাড়ির কিছু দক্ষিনে গরুরলোড়া খালের আগায় উত্তর পাশে পাহাড় কেটে এবং কৃত্রিমভাবে পাহাড়ি মাটি গলিয়ে বালু বানিয়ে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, এই অপরাধে জড়িত রয়েছে; মোঃ মনসুর আলী পিতা- ইসলাম, মোহাম্মদ বদি আলম, পিতা- গুনো মিয়া, মোহাম্মদ শাহেদ, পিতা- আব্বাস উদ্দিন, মোহাম্মদ হাশেম পিতা – কবির আহমদ ও মোহাম্মদ লিয়াকত আলী, পিতা- মাওলানা রহমত উল্লাহ গং। এরা সবাই পার্শ্ববর্তী লোহাগাড়া উপজেলার বাসিন্দা।

জানাযায়, বর্ষার সময় বা কৃত্রিম পানির পাম্প ব্যবহার করে পাহাড়ের গা ধসিয়ে সেই মাটি ছড়া ও ছড়ায় প্রবাহিত করে বালু ছেঁকে আলাদা করা হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে এই বালু সরবরাহ করা হচ্ছে বিভিন্ন আবাসন প্রকল্প ও নির্মাণকাজে।

স্থানীয়রা জানান, উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ড্রেজার ও ওয়াটার পাম্পের মাধ্যমে পাহাড়ে তীব্র বেগে পানি ছিটিয়ে মাটিকে কাদায় রূপান্তর করা হয়।

​এর পর পাহাড়ি ছড়া দিয়ে বয়ে যাওয়ার সময় বিশেষ ছাঁকনি ও বাঁধ দিয়ে নিচে বালু জমা করা হয় এবং পলি ধুইয়ে পরে রাতের আঁধারে এবং ভোরবেলায় ডাম্প ট্রাকে করে এই বালুমাটি বিভিন্ন কনস্ট্রাকশন সাইটে বিক্রি করা হচ্ছে।

এর ফলে পাহাড়ের গঠন নষ্ট হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই বড় ধরনের পাহাড় ধসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে সেখানে। যা সেখানকার জনবসতির জন্য প্রাণঘাতী বলে স্থানীয়রা জানান।

​অপরদিকে পাহাড়ি মাটি ধসে নিম্নাঞ্চলের ছড়া, খাল ও নদী ভরাট হয়ে যাচ্ছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই কৃত্রিম বন্যার সৃষ্টি হয়। পানির স্রোতে পলি ও কাদা ছড়িয়ে পড়ার কারণে নিম্নাঞ্চলের আবাদি জমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে।

​এছাড়াও পাহাড়ি বনাঞ্চল ও বন্যপ্রাণীর প্রাকৃতিক আবাসস্থল চিরতরে বিনষ্ট হচ্ছে।

​ ​বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) অনুযায়ী, সরকারি বা বেসরকারি যেকোনো উদ্দেশ্যে পাহাড় কাটা বা টিলা মোচন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও দণ্ডনীয় অপরাধ। পাহাড় ধসিয়ে বালু উত্তোলন পরিবেশ সংরক্ষণ আইন এবং বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর স্পষ্ট লঙ্ঘন।

​পরিবেশ অধিদপ্তর, স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে দ্রুত এলাকাটিতে অভিযান পরিচালনা দরকার। অভিযুক্ত সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে পরিবেশগত ক্ষতিপূরণ মামলাসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি জানিয়েন স্থানীয়রা।

অভিযুক্তরা অন্য এলাকার হওয়ায়, তাদের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয় নি।

​এ ব্যপারে বান্দরবান পরিবেশ অধিদপ্তর এর উপ-পরিচালকের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে; তিনি অভিযান করে আইনি ব্যবস্থা নিবেন বলে বান্দরবান ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন। পাহাড় পরিবেশ ধ্বংসকারীদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নিবেন;  স্থানীয়রা এমনটা প্রত্যাশা করেছেন।