Lama ০৮:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিদ্যালয় ভবনের বিভিন্ন জায়গায় ফাটল, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই চলছে পাঠদান

দীঘিনালা উপজেলার বাঁচা মরং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই চলছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান। দীর্ঘদিন ধরে ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দেওয়ার পাশাপাশি বৃষ্টির সময় ছাদ চুইয়ে শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ছে। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়টি প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়টির জন্য রয়েছে মাত্র দুটি শ্রেণিকক্ষ। অথচ এখানে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করছে। ফলে শ্রেণিকক্ষ সংকটের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান করতে গিয়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয় ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটল রয়েছে। বৃষ্টির সময় ছাদ দিয়ে পানি পড়ায় শ্রেণিকক্ষের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হয় এবং পাঠদান ব্যাহত হয়। দুটি কক্ষেই একাধিক শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে। ফলে একদিকে রয়েছে জায়গার সংকট, অন্যদিকে ভবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনিসুর রহমান বলেন, “বিদ্যালয় ভবনের দেয়ালে ফাটল ধরেছে। বৃষ্টি হলে ছাদ দিয়ে পানি পড়ে। ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় অভিভাবকেরাও সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে ভয় পান। মাত্র দুটি কক্ষে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাতে হচ্ছে। অনেক কষ্টের মধ্যেই শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি।”

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়টি প্রয়োজনীয় উন্নয়নমূলক কাজ থেকে বঞ্চিত। পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ না থাকায় শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পরিবেশে পাঠদান সম্ভব হচ্ছে না। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা জরুরি।

দীঘিনালা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার কণিকা খীশা বলেন, “বিদ্যালয়টির ভবন ঝুঁকিপূর্ণ—এ বিষয়ে আমরা অবগত আছি। বিষয়টি জানিয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে আবেদন করা হয়েছে। আশা করছি, দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অভিভাবকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়টির অবকাঠামোগত উন্নয়ন না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের ঝুঁকি নিয়ে পড়াশোনা করতে হচ্ছে। তাদের দাবি, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান বন্ধ করে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ, পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষের ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন করতে হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

লামায় রূপসীপাড়া ইউনিয়নে ক্রাশ প্রোগ্রামের আওতায় ম্রো শিশুদের টিকাদান

Bandarban Tribune

বিদ্যালয় ভবনের বিভিন্ন জায়গায় ফাটল, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই চলছে পাঠদান

Update Time : ০৪:০৪:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দীঘিনালা উপজেলার বাঁচা মরং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই চলছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান। দীর্ঘদিন ধরে ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দেওয়ার পাশাপাশি বৃষ্টির সময় ছাদ চুইয়ে শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ছে। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়টি প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়টির জন্য রয়েছে মাত্র দুটি শ্রেণিকক্ষ। অথচ এখানে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করছে। ফলে শ্রেণিকক্ষ সংকটের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান করতে গিয়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয় ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটল রয়েছে। বৃষ্টির সময় ছাদ দিয়ে পানি পড়ায় শ্রেণিকক্ষের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হয় এবং পাঠদান ব্যাহত হয়। দুটি কক্ষেই একাধিক শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে। ফলে একদিকে রয়েছে জায়গার সংকট, অন্যদিকে ভবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনিসুর রহমান বলেন, “বিদ্যালয় ভবনের দেয়ালে ফাটল ধরেছে। বৃষ্টি হলে ছাদ দিয়ে পানি পড়ে। ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় অভিভাবকেরাও সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে ভয় পান। মাত্র দুটি কক্ষে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাতে হচ্ছে। অনেক কষ্টের মধ্যেই শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি।”

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়টি প্রয়োজনীয় উন্নয়নমূলক কাজ থেকে বঞ্চিত। পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ না থাকায় শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পরিবেশে পাঠদান সম্ভব হচ্ছে না। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা জরুরি।

দীঘিনালা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার কণিকা খীশা বলেন, “বিদ্যালয়টির ভবন ঝুঁকিপূর্ণ—এ বিষয়ে আমরা অবগত আছি। বিষয়টি জানিয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে আবেদন করা হয়েছে। আশা করছি, দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অভিভাবকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়টির অবকাঠামোগত উন্নয়ন না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের ঝুঁকি নিয়ে পড়াশোনা করতে হচ্ছে। তাদের দাবি, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান বন্ধ করে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ, পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষের ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন করতে হবে।