Lama ০৮:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ধারাবাহিক প্রতিবেদন-৫

লামা বন বিভাগে সংরক্ষিত বন উজাড়: ডিএফও মোস্তাফিজুর রহমান বন সংরক্ষক মিহির কুমার দে’র, বিরুদ্ধে অভিযোগ

সিএফ মিহির কুমার দে ও ডিএফও মোস্তাফিজুর রহমান; বন ও পরিবেশ রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও তাদের বিরুদ্ধে দায়িত্বে চরম অবহেলা, ক্ষমতার অপব্যবহার, অবৈধ অর্থ আদায়, দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেট পরিচালনা এবং সরকারি বনজ সম্পদ ধ্বংসে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতার অভিযোগ উঠেছে।

বন সংরক্ষণের পরিবর্তে তারা ব্যক্তিগত আর্থিক সুবিধা অর্জনের উদ্দেশ্যে সরকারি ক্ষমতা ব্যবহার করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। ফলে লামা বন বিভাগ বর্তমানে দুর্নীতি, অনিয়ম ও অবৈধ বনজ সম্পদ পাচারের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে, যা রাষ্ট্রীয় প্রশাসন ও আইনের শাসনের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

সিএফ মিহির কুমার দে ও ডিএফও মোস্তাফিজুর রহমান কর্তৃক সংঘটিত দুর্নীতি, অনিয়ম ও বনজ সম্পদ পাচারের একাধিক ঘটনার বিষয়ে প্রতিনিয়ত প্রিন্ট ও ইলেকট্রিক মিডিয়ায় নিউজ হচ্ছে এবং স্থানীয় জনগণ, সাংবাদিক ও বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ উত্থাপিত হলেও তা বারবার ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

তদন্তে অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেলেও দায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করে নামমাত্র শাস্তি, সাময়িক বরখাস্ত কিংবা পরবর্তীতে পুনরায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। এতে প্রতীয়মান হয় যে, বন বিভাগের অভ্যন্তরে একটি প্রভাবশালী দুর্নীতিবাজ চক্র পরস্পরকে রক্ষা করে আসছে এবং প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে অভিযোগসমূহ নিষ্ক্রিয় করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। ফলে সাধারণ জনগণের মধ্যে বিচারহীনতার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থাহীনতা সৃষ্টি হয়েছে।

এমতাবস্থায়, ডিএফও মোস্তাফিজুর রহমান অবসরে যাওয়ার আগেই উপরোক্ত বিষয়সমূহ গুরুত্বসহকারে আমলে নিয়ে একটি সৎ, নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল তদন্ত কমিটি গঠনপূর্বক সঠিক তদন্তের মাধ্যমে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি অবৈধ বন উজাড় ও কাঠ পাচারের সাথে জড়িত সিন্ডিকেট চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধেও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হউক। এতে সরকারি বনজ সম্পদ, জীববৈচিত্র্য, পরিবেশ ও পাহাড়ি অঞ্চলের পানির উৎস সংরক্ষণ সম্ভব হবে।

ধারাবহিক এই রিপোর্টের সত্র: (বন ও পরিবেশ মন্ত্রী বরাবর প্রেরিত অভিযোগ) যাচাই সম্ভব হয়নি।

চলবে……

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

লামায় রূপসীপাড়া ইউনিয়নে ক্রাশ প্রোগ্রামের আওতায় ম্রো শিশুদের টিকাদান

Bandarban Tribune

ধারাবাহিক প্রতিবেদন-৫

লামা বন বিভাগে সংরক্ষিত বন উজাড়: ডিএফও মোস্তাফিজুর রহমান বন সংরক্ষক মিহির কুমার দে’র, বিরুদ্ধে অভিযোগ

Update Time : ০৭:৩৭:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সিএফ মিহির কুমার দে ও ডিএফও মোস্তাফিজুর রহমান; বন ও পরিবেশ রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও তাদের বিরুদ্ধে দায়িত্বে চরম অবহেলা, ক্ষমতার অপব্যবহার, অবৈধ অর্থ আদায়, দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেট পরিচালনা এবং সরকারি বনজ সম্পদ ধ্বংসে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতার অভিযোগ উঠেছে।

বন সংরক্ষণের পরিবর্তে তারা ব্যক্তিগত আর্থিক সুবিধা অর্জনের উদ্দেশ্যে সরকারি ক্ষমতা ব্যবহার করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। ফলে লামা বন বিভাগ বর্তমানে দুর্নীতি, অনিয়ম ও অবৈধ বনজ সম্পদ পাচারের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে, যা রাষ্ট্রীয় প্রশাসন ও আইনের শাসনের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

সিএফ মিহির কুমার দে ও ডিএফও মোস্তাফিজুর রহমান কর্তৃক সংঘটিত দুর্নীতি, অনিয়ম ও বনজ সম্পদ পাচারের একাধিক ঘটনার বিষয়ে প্রতিনিয়ত প্রিন্ট ও ইলেকট্রিক মিডিয়ায় নিউজ হচ্ছে এবং স্থানীয় জনগণ, সাংবাদিক ও বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ উত্থাপিত হলেও তা বারবার ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

তদন্তে অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেলেও দায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করে নামমাত্র শাস্তি, সাময়িক বরখাস্ত কিংবা পরবর্তীতে পুনরায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। এতে প্রতীয়মান হয় যে, বন বিভাগের অভ্যন্তরে একটি প্রভাবশালী দুর্নীতিবাজ চক্র পরস্পরকে রক্ষা করে আসছে এবং প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে অভিযোগসমূহ নিষ্ক্রিয় করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। ফলে সাধারণ জনগণের মধ্যে বিচারহীনতার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থাহীনতা সৃষ্টি হয়েছে।

এমতাবস্থায়, ডিএফও মোস্তাফিজুর রহমান অবসরে যাওয়ার আগেই উপরোক্ত বিষয়সমূহ গুরুত্বসহকারে আমলে নিয়ে একটি সৎ, নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল তদন্ত কমিটি গঠনপূর্বক সঠিক তদন্তের মাধ্যমে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি অবৈধ বন উজাড় ও কাঠ পাচারের সাথে জড়িত সিন্ডিকেট চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধেও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হউক। এতে সরকারি বনজ সম্পদ, জীববৈচিত্র্য, পরিবেশ ও পাহাড়ি অঞ্চলের পানির উৎস সংরক্ষণ সম্ভব হবে।

ধারাবহিক এই রিপোর্টের সত্র: (বন ও পরিবেশ মন্ত্রী বরাবর প্রেরিত অভিযোগ) যাচাই সম্ভব হয়নি।

চলবে……