Lama ০৮:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ধারাবাহিক প্রতিবেদন-৩

লামা বন বিভাগে সংরক্ষিত বন উজাড়: ডিএফও মোস্তাফিজুর রহমান বন সংরক্ষক মিহির কুমার দে’র, বিরুদ্ধে অভিযোগ

নানান অব্যবস্থাপনার দরুন লামায় বন সমূহ উজাড় হয়ে যাচ্ছে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ঘুষের বিনিময় করাতকল চলতে দেয়া হয়।  এছাড়াও কোনো ব্যক্তি নিজ বসত বাড়ির পাছ কাটতে গিয়েও দিতে হয় মোটা অঙ্কের ঘুষ। অন্যথায় বিভিন্ন ধরণের হয়রানি ও মামলার শিকার হতে হয়।

অভিযোগ রয়েছে যে, রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পরও ডিএফও মোস্তাফিজুর রহমান স্থানীয় আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মীর সহযোগিতায় বেপরোয়াভাবে অবৈধ কাঠ পাচার কার্যক্রমে সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছেন।

লামা বন বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন রিজার্ভ বন নির্বিচারে ধ্বংস ও লুণ্ঠনের শিকার হচ্ছে। লামা বন বিভাগের কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীর সহযোগিতায় স্থানীয় কাঠ চোরাকারবারীরা বিগত এপ্রিল/২০২৪ ইং তারিখে তৈন রেঞ্জ এলাকায় এক হাজারের অধিক গাছ কর্তন করে।

বর্তমানে উক্ত গাছের মোথাসমূহ এখনও বনাঞ্চলে বিদ্যমান রয়েছে, যা সরেজমিন তদন্তে সহজেই প্রতীয়মান হবে। অর্থলোভী দুর্নীতিবাজ চক্রের কারণে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাছাড়াও ডিএফও এর বিরুদ্ধে কেউ কোনো অভিযোগ করলে, ডিএফও’র মদদে একটি চক্র অভিযোগকারীকে নাজেহাল ও হামলা করে।

স্থানীয় জনগণ ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে তদন্তে সত্যতা প্রমাণিত হওয়ার পরও কয়েকজন স্টাফকে নামমাত্র বরখাস্ত করা হয় এবং পরবর্তীতে বরখাস্তকৃত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পুনরায় পদোন্নতি প্রদান করা হয়। এতে প্রতীয়মান হয় যে, সিএফ জনাব মিহির কুমার দে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের রক্ষা করে আসছে এবং পরোক্ষভাবে উৎসাহিত করছে। ফলে লামা বন বিভাগ বর্তমানে দুর্নীতির নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে।

বিগত দিনের অপরাধ সমূহের সুষ্ঠু বিচার না হওয়ার কারণে ডিএফও মোস্তাফিজুর রহমান পুনরায় তাঁর ঘনিষ্ঠ দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহযোগিতায় স্থানীয় কাঠ চোরাকারবারীদের মাধ্যমে ০৭/০৫/২০২৬ ইং তারিখে তৈন রেঞ্জের রিজার্ভফরেস্ট হতে একশতাধিক গাছ কর্তন করান বলে অভিযোগ রয়েছে। পূর্বের ঘটনার বিচার না হওয়ায় এ চক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে এবং ভবিষ্যতেও শতবর্ষী পুরাতন গাছ ধ্বংসের অপচেষ্টা অব্যাহত রাখবে মর্মে স্থানীয় জনগণের মধ্যে আশঙ্কা বিরাজ করছে।

সিএফ ও ডিএফও এর এই সিন্ডিকেটের এর অধীনে লামার ডলুছড়িতে ৪০টি অবৈধ ব্রিকফিল্ড রয়েছে। যেগুলোতে মোটা অঙ্কের  ঘুষের বিনিময়ে ডিএফও জ্বালানী কাঠ সরবরাহ করে। একেকটি ব্রিকফিল্ড হইতে প্রতি মাসে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ আদায় করে। অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়, লামা উপজেলায় এক হাজারেরও অধিক তামাকের তুন্ডুল (তামাক চুল্লি) রয়েছে।

এইসব তামাকের চুল্লির মালিকগণ বেপরোয়া ভাবে গাছ কর্তন করে লাকড়ি হিসেবে ব্যবহার করার জন্য এই সিন্ডিকেট বিশেষ সুবিধা দিয়ে থাকেন। এছাড়াও বমু রিজার্ভ এলাকায় আনুমানিক আড়াইশত তামাকের তুন্ডুল, ২৮৭নং চৈক্ষ্যং মৌজার তৈন রিজার্ভ এলাকায় আনুমানিক ছয়শত তামাকের তুন্ডুল রয়েছে। রিজার্ভ এলাকা সমূহ হতে গাছ কেটে তামাক চুল্লিতে পোড়ানোর জন্য মৌসুমে প্রতি মাসে দুই হইতে আড়াই হাজার টাকা ঘুষ ডিএফও’র এই সিন্ডিকেট আদায় করে।

অন্যদিকে মাতামুহুরী নদী দিয়ে নৌকা যোগে জ্বালানী কাঠ পাচার হয়। মৌসুমে মাসে দুই হইতে তিনশত নৌকা পারাপার করে। এই অবৈধ জ্বালানী কাঠ পাচার করার জন্য প্রতি নৌকা হইতে তিনশত টাকা ঘুষ আদায় করা হয়।

তাছাড়াও নাইক্ষ্যংছড়ি হইতে ১,৬০০ সিএফটি গাছ কেটে ঠুনি হিসেবে দেখিয়ে পাচার করার চেষ্টা করা হয়। পরবর্তীতে এই বিষয়টি সাংবাদিক ও স্থানীয় লোকজন জানতে পারলে, উক্ত ১,৬০০ সিএফটি গাছ নিয়ে যাওয়া চার টি ট্রাক থামিয়ে গাছ হিসেবে পূণরায় রাজস্ব আদায় করা হয়। এসব অনিয়ম জেনে যাওয়ার কারণে, ডিএফও তার দুর্ণীতি ঢাকতে পূণরায় রাজস্ব আদায় করেছে। কিন্তু সকলের অগোচরে কত হাজার লক্ষ সিএফটি গাছ ঠুনি হিসেবে দেখিয়ে পাচার করেছে তার বিষয়ে সঠিক তদন্ত চান তারা।

নাইক্ষ্যংছড়ি রেঞ্জের সরকারি সংরক্ষিত বনভূমির মূল্যবান বৃক্ষসম্পদ অবৈধভাবে অপসারণের উদ্দেশ্যে একটি সুপরিকল্পিত কৌশল অনুসরণ করা হচ্ছে বলে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুসারে, সিএফ ও ডিএফও তাদের ঘনিষ্ঠ সিন্ডিকেটের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সহযোগিতায় সংরক্ষিত বনাঞ্চলের গাছ কর্তন করা হয়। পরবর্তীতে উক্ত কাঠসমূহকে ‘জব্দকৃত মালামাল’ হিসেবে উপস্থাপন করে প্রকৃত বাজারমূল্যের তুলনায় নামমাত্র মূল্যে পূর্বনির্ধারিত ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নিকট বিক্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়।

ফলে সরকারি বনসম্পদ লুন্ঠনের মাধ্যমে অবৈধভাবে আহরিত কাঠ বৈধতার আবরণ লাভ করছে এবং রাষ্ট্রের বিপুল আর্থিক ক্ষতি সাধিত হচ্ছে। বিষয়টি এমন যে, অবৈধ বৃক্ষ নিধন ও পাচারের জন্য প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার আড়ালে বৈধতার সনদ প্রদান করা হচ্ছে।

ইতিপূর্বেও ৫ লক্ষ টাকার বিনিময়ে বন মামলা ০৬ মাস গোপন রাখার অভিযোগ উঠেছে। এই বিষয়ে একাধিক পত্রিকায় নিজউ হওয়ার পরও কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় নি। এযেন অবৈধ টাকার সামনে সকল কিছুই হার মানছে। তাছাড়াও প্রতিনিয়ত ডিএফও’র এই সিন্ডিকেটের দুর্নীতি অনিয়ম এর বিরুদ্ধে পত্রিকায় নিউজ হচ্ছে। কিন্তু কোন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। সামাজিক বনায়ন এ ডিএফও মোস্তাফিজুর রহমানের আমলে সর্বোচ্চ দুর্ণীতি হচ্ছে।

এ যেন আগের সকল রেকর্ড ভেঙ্গে দিচ্ছে। কম টেন্ডার দেখিয়ে কিছু রিজার্ভ এর জমি নিজে বিক্রয় করে দেয়, রিজার্ভ এর মূল্যবান গাছগুলো ডিএফওর বিশ্বস্থ গাছ চোরাকারবারীদের মাধ্যমে বিক্রয় করে দেয়। লামার মাতামুহুরী ও তৈন রেঞ্জ তদন্ত করলে এই সকল তথ্য বেরিয়ে আসবে। মাতামুহরী রেঞ্জ হতে এই উপায়ে শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন সিএফ ও ডিএফও।

ধারাবহিক এই রিপোর্টের সত্র: (বন ও পরিবেশ মন্ত্রী বরাবর প্রেরিত অভিযোগ) যাচাই সম্ভব হয়নি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

লামায় রূপসীপাড়া ইউনিয়নে ক্রাশ প্রোগ্রামের আওতায় ম্রো শিশুদের টিকাদান

Bandarban Tribune

ধারাবাহিক প্রতিবেদন-৩

লামা বন বিভাগে সংরক্ষিত বন উজাড়: ডিএফও মোস্তাফিজুর রহমান বন সংরক্ষক মিহির কুমার দে’র, বিরুদ্ধে অভিযোগ

Update Time : ০৪:২৪:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

নানান অব্যবস্থাপনার দরুন লামায় বন সমূহ উজাড় হয়ে যাচ্ছে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ঘুষের বিনিময় করাতকল চলতে দেয়া হয়।  এছাড়াও কোনো ব্যক্তি নিজ বসত বাড়ির পাছ কাটতে গিয়েও দিতে হয় মোটা অঙ্কের ঘুষ। অন্যথায় বিভিন্ন ধরণের হয়রানি ও মামলার শিকার হতে হয়।

অভিযোগ রয়েছে যে, রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পরও ডিএফও মোস্তাফিজুর রহমান স্থানীয় আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মীর সহযোগিতায় বেপরোয়াভাবে অবৈধ কাঠ পাচার কার্যক্রমে সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছেন।

লামা বন বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন রিজার্ভ বন নির্বিচারে ধ্বংস ও লুণ্ঠনের শিকার হচ্ছে। লামা বন বিভাগের কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীর সহযোগিতায় স্থানীয় কাঠ চোরাকারবারীরা বিগত এপ্রিল/২০২৪ ইং তারিখে তৈন রেঞ্জ এলাকায় এক হাজারের অধিক গাছ কর্তন করে।

বর্তমানে উক্ত গাছের মোথাসমূহ এখনও বনাঞ্চলে বিদ্যমান রয়েছে, যা সরেজমিন তদন্তে সহজেই প্রতীয়মান হবে। অর্থলোভী দুর্নীতিবাজ চক্রের কারণে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাছাড়াও ডিএফও এর বিরুদ্ধে কেউ কোনো অভিযোগ করলে, ডিএফও’র মদদে একটি চক্র অভিযোগকারীকে নাজেহাল ও হামলা করে।

স্থানীয় জনগণ ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে তদন্তে সত্যতা প্রমাণিত হওয়ার পরও কয়েকজন স্টাফকে নামমাত্র বরখাস্ত করা হয় এবং পরবর্তীতে বরখাস্তকৃত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পুনরায় পদোন্নতি প্রদান করা হয়। এতে প্রতীয়মান হয় যে, সিএফ জনাব মিহির কুমার দে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের রক্ষা করে আসছে এবং পরোক্ষভাবে উৎসাহিত করছে। ফলে লামা বন বিভাগ বর্তমানে দুর্নীতির নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে।

বিগত দিনের অপরাধ সমূহের সুষ্ঠু বিচার না হওয়ার কারণে ডিএফও মোস্তাফিজুর রহমান পুনরায় তাঁর ঘনিষ্ঠ দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহযোগিতায় স্থানীয় কাঠ চোরাকারবারীদের মাধ্যমে ০৭/০৫/২০২৬ ইং তারিখে তৈন রেঞ্জের রিজার্ভফরেস্ট হতে একশতাধিক গাছ কর্তন করান বলে অভিযোগ রয়েছে। পূর্বের ঘটনার বিচার না হওয়ায় এ চক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে এবং ভবিষ্যতেও শতবর্ষী পুরাতন গাছ ধ্বংসের অপচেষ্টা অব্যাহত রাখবে মর্মে স্থানীয় জনগণের মধ্যে আশঙ্কা বিরাজ করছে।

সিএফ ও ডিএফও এর এই সিন্ডিকেটের এর অধীনে লামার ডলুছড়িতে ৪০টি অবৈধ ব্রিকফিল্ড রয়েছে। যেগুলোতে মোটা অঙ্কের  ঘুষের বিনিময়ে ডিএফও জ্বালানী কাঠ সরবরাহ করে। একেকটি ব্রিকফিল্ড হইতে প্রতি মাসে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ আদায় করে। অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়, লামা উপজেলায় এক হাজারেরও অধিক তামাকের তুন্ডুল (তামাক চুল্লি) রয়েছে।

এইসব তামাকের চুল্লির মালিকগণ বেপরোয়া ভাবে গাছ কর্তন করে লাকড়ি হিসেবে ব্যবহার করার জন্য এই সিন্ডিকেট বিশেষ সুবিধা দিয়ে থাকেন। এছাড়াও বমু রিজার্ভ এলাকায় আনুমানিক আড়াইশত তামাকের তুন্ডুল, ২৮৭নং চৈক্ষ্যং মৌজার তৈন রিজার্ভ এলাকায় আনুমানিক ছয়শত তামাকের তুন্ডুল রয়েছে। রিজার্ভ এলাকা সমূহ হতে গাছ কেটে তামাক চুল্লিতে পোড়ানোর জন্য মৌসুমে প্রতি মাসে দুই হইতে আড়াই হাজার টাকা ঘুষ ডিএফও’র এই সিন্ডিকেট আদায় করে।

অন্যদিকে মাতামুহুরী নদী দিয়ে নৌকা যোগে জ্বালানী কাঠ পাচার হয়। মৌসুমে মাসে দুই হইতে তিনশত নৌকা পারাপার করে। এই অবৈধ জ্বালানী কাঠ পাচার করার জন্য প্রতি নৌকা হইতে তিনশত টাকা ঘুষ আদায় করা হয়।

তাছাড়াও নাইক্ষ্যংছড়ি হইতে ১,৬০০ সিএফটি গাছ কেটে ঠুনি হিসেবে দেখিয়ে পাচার করার চেষ্টা করা হয়। পরবর্তীতে এই বিষয়টি সাংবাদিক ও স্থানীয় লোকজন জানতে পারলে, উক্ত ১,৬০০ সিএফটি গাছ নিয়ে যাওয়া চার টি ট্রাক থামিয়ে গাছ হিসেবে পূণরায় রাজস্ব আদায় করা হয়। এসব অনিয়ম জেনে যাওয়ার কারণে, ডিএফও তার দুর্ণীতি ঢাকতে পূণরায় রাজস্ব আদায় করেছে। কিন্তু সকলের অগোচরে কত হাজার লক্ষ সিএফটি গাছ ঠুনি হিসেবে দেখিয়ে পাচার করেছে তার বিষয়ে সঠিক তদন্ত চান তারা।

নাইক্ষ্যংছড়ি রেঞ্জের সরকারি সংরক্ষিত বনভূমির মূল্যবান বৃক্ষসম্পদ অবৈধভাবে অপসারণের উদ্দেশ্যে একটি সুপরিকল্পিত কৌশল অনুসরণ করা হচ্ছে বলে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুসারে, সিএফ ও ডিএফও তাদের ঘনিষ্ঠ সিন্ডিকেটের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সহযোগিতায় সংরক্ষিত বনাঞ্চলের গাছ কর্তন করা হয়। পরবর্তীতে উক্ত কাঠসমূহকে ‘জব্দকৃত মালামাল’ হিসেবে উপস্থাপন করে প্রকৃত বাজারমূল্যের তুলনায় নামমাত্র মূল্যে পূর্বনির্ধারিত ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নিকট বিক্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়।

ফলে সরকারি বনসম্পদ লুন্ঠনের মাধ্যমে অবৈধভাবে আহরিত কাঠ বৈধতার আবরণ লাভ করছে এবং রাষ্ট্রের বিপুল আর্থিক ক্ষতি সাধিত হচ্ছে। বিষয়টি এমন যে, অবৈধ বৃক্ষ নিধন ও পাচারের জন্য প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার আড়ালে বৈধতার সনদ প্রদান করা হচ্ছে।

ইতিপূর্বেও ৫ লক্ষ টাকার বিনিময়ে বন মামলা ০৬ মাস গোপন রাখার অভিযোগ উঠেছে। এই বিষয়ে একাধিক পত্রিকায় নিজউ হওয়ার পরও কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় নি। এযেন অবৈধ টাকার সামনে সকল কিছুই হার মানছে। তাছাড়াও প্রতিনিয়ত ডিএফও’র এই সিন্ডিকেটের দুর্নীতি অনিয়ম এর বিরুদ্ধে পত্রিকায় নিউজ হচ্ছে। কিন্তু কোন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। সামাজিক বনায়ন এ ডিএফও মোস্তাফিজুর রহমানের আমলে সর্বোচ্চ দুর্ণীতি হচ্ছে।

এ যেন আগের সকল রেকর্ড ভেঙ্গে দিচ্ছে। কম টেন্ডার দেখিয়ে কিছু রিজার্ভ এর জমি নিজে বিক্রয় করে দেয়, রিজার্ভ এর মূল্যবান গাছগুলো ডিএফওর বিশ্বস্থ গাছ চোরাকারবারীদের মাধ্যমে বিক্রয় করে দেয়। লামার মাতামুহুরী ও তৈন রেঞ্জ তদন্ত করলে এই সকল তথ্য বেরিয়ে আসবে। মাতামুহরী রেঞ্জ হতে এই উপায়ে শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন সিএফ ও ডিএফও।

ধারাবহিক এই রিপোর্টের সত্র: (বন ও পরিবেশ মন্ত্রী বরাবর প্রেরিত অভিযোগ) যাচাই সম্ভব হয়নি।