
বান্দরবান জেলা পরিষদের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় উপজাতীয় বিষয়ক সম্পাদক, বান্দরবান জেলা বিএনপির প্রাক্তন সভাপতি মিজ ম্যা ম্যা চিং (মাম্যাচিং মার্মা)। তাঁর সঙ্গে আরও ১৪ জন সদস্য মিলে গঠিত হয়েছে নতুন পরিষদ। জেলার জনবহুল লামা উপজেলা থেকে এবারও কোনো সদস্য রাখা হয় নাই। 
সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ পুনর্গঠন সম্পন্ন হয়েছে। নতুন চেয়ারম্যানের ঠিকানা পুরাতন রাজবাড়ি রোড, বান্দরবান সদর।
পরিষদের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছে জনাব চনুমং, মং কানু মামা, সুপাই মং, মাওসেতুং তংচংগ্যা, দনওয়াই ম্রো, আপংচিন ত্রিপুরা, অংলাই উচচাক, রিয়াল দাও বম, আবদুল মাজেদ, মশিউর রহমান, মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, ক্যাও প্রু খিয়াং, মিজ উম্যাসিং মার্মা এবং মিজ কাজী নিরুপমা বেগম।
মাম্যাচিং মার্মা পাহাড়ের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ। তিনি এর আগে বান্দরবান জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বর্তমানে বিএনপির কেন্দ্রীয় উপজাতীয় বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০০১ সালে চারদলীয় সরকারের সময় বান্দরবান জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন।

তাঁর রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা নতুন পরিষদে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করবে বলে প্রত্যাশা করছেন বান্দরবানবাসী।
স্থানীয়দের মতে, নতুন পরিষদে বাঙালি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব কম রাখা হয়েছে; বিশেষ করে জনবহুল লামা উপজেলা থেকে কোনো সদস্য রাখা হয়নি। স্থানীয়রা আশাবাদ ব্যাক্ত করেন যে, জেলার সামগ্রিক উন্নয়ন ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে গঠিত পরিষদ ভূমিকা রাখবে।
নতুন পরিষদের লক্ষ্য হবে বান্দরবানের দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, পর্যটন এবং জনসেবার বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করা।
সাধারণ মানুষ অপেক্ষায় আছেন, নতুন পরিষদের কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে বান্দরবানের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের সমস্যা কতটা সমাধান হয়, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে কতটা গতি আসে। বিশেষ করে, নতুন নেতৃত্বের অধীনে শান্তি ও উন্নয়নের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে বলে প্রত্যাশা করছেন বান্দরবানবাসী।

এদিকে লামাকে জেলার পরে গুরুত্ব দেয়া হলেও জেলা নেতৃবৃন্দের বৈষম্য মনোভাবের আরো একবার প্রকাশ ঘটলো; এমনটা মন্তব্য করে লামার সাধারণ নাগরিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়েও লামা উপজেলা থেকে সদস্য রাখা হয় নাই। এর আগে ২০০১ সালেও জোট সরকারের গঠিত পরিষদেও বৃহত্তর এই উপজেলা থেকে বান্দরবান জেলা পরিষদে কোনো সদস্য রাখা হয় নাই।
বান্দরবান ট্রিবিউন ডেস্ক: 




















