Lama ০৫:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মৌসুমের শুরুতেই দুর্যোগের ধাক্কা, ব্যাহত হচ্ছে শুঁটকি উৎপাদন

বঙ্গোপসাগরের সুন্দরবন উপকূলে মাছ আহরণ ও শুঁটকি তৈরির মৌসুম শুরু হতে না হতেই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কবলে পড়েছেন জেলেরা। লঘুচাপের প্রভাবে টানা বৃষ্টি ও উত্তাল সাগরে ব্যাহত হচ্ছে মাছ আহরণ। মৌসুমের প্রথম দিন গত শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দুবলার চরসহ আশপাশের এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ায় কয়েক হাজার জেলে ও মৎস্যজীবী বিপাকে পড়েছেন।

মাছ ধরতে সাগরে যেতে না পারা, নতুন ঘর ও শুঁটকি তৈরির স্থাপনা নির্মাণ করতে না পারা এবং রোদের অভাবে মাছ শুকাতে না পারায় জেলেদের মৌসুমি জীবিকা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

বৈরী আবহাওয়ার কারণে জেলেদের সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি সুন্দরবন বিভাগের রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়েও শঙ্কা দেখা দিয়েছে। মহাজনদের কাছ থেকে দাদন ও ঋণ নিয়ে মাছ আহরণ ও শুঁটকি তৈরির উদ্দেশ্যে দুবলার চরে আসা জেলেরা এখন সংসার চালানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

জেলেরা জানান, প্রতিবছর শুঁটকি মৌসুমকে কেন্দ্র করে সুন্দরবনের দুবলার চর, আলোরকোল, মেহেরআলীসহ বিভিন্ন চরে দেশের উপকূলীয় অঞ্চল থেকে হাজার হাজার জেলে ও মৎস্যজীবী সমবেত হন। অক্টোবরের শেষ দিক থেকে মার্চ পর্যন্ত চলে তাঁদের এই কর্মযজ্ঞ। এ জন্য মৌসুমের শুরুতে তারা প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে চরে পৌঁছে অস্থায়ী বসতঘর, মাছ শুকানোর মাচা ও অন্যান্য স্থাপনা তৈরি করেন। কিন্তু এবার শুরুতেই বৈরী আবহাওয়া তাদের সব প্রস্তুতি বাধাগ্রস্ত করছে।

বৃহস্পতিবার রাত থেকে বৃষ্টি শুরু হয় এবং শুক্রবারও তা অব্যাহত থাকায় জেলেদের নতুন ঘর নির্মাণ ও শুঁটকি তৈরির অবকাঠামো প্রস্তুতের কাজ ব্যাহত হয়। একই সঙ্গে উত্তাল সাগরের কারণে অনেক জেলে মাছ ধরতে গভীর সমুদ্রে যেতে পারেননি। কেউ কেউ উপকূলের কাছাকাছি মাছ ধরলেও রোদের অভাবে তা শুকাতে পারেননি। ফলে মৌসুমের শুরুতেই মাছ আহরণ ও শুঁটকি উৎপাদনের স্বাভাবিক কার্যক্রমে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটেছে।

দুবলার চর জেলেপল্লীর ইনচার্জ ফরেস্ট রেঞ্জার খলিলুর রহমান বলেন, বৃহস্পতিবার রাত থেকে দুবলার চর এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এ কারণে মৌসুমের শুরুতে এখানে আসা জেলেদের মাছ আহরণ ও বসবাসের জন্য ঘর তৈরির কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

ঋণের বোঝার কারণে জেলেদের জন্য পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। মৌসুমে খরচ জোগাতে অনেক জেলেই মহাজনদের কাছ থেকে দাদন ও ধারদেনা নিয়ে দুবলার চরে এসেছেন। তাঁদের প্রত্যাশা ছিল, মৌসুমের শুরু থেকেই সাগরে মাছ ধরে শুঁটকি তৈরি করে বিক্রি করবেন এবং সেই আয় থেকে ঋণ পরিশোধ করবেন। কিন্তু বৈরী আবহাওয়ায় মাছ ধরতে না পারা এবং শুকানোর কাজ বন্ধ থাকায় তাঁদের বিনিয়োগ ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

অন্যদিকে, শুঁটকি মৌসুম ঘিরে বন বিভাগ এবারের মৌসুমে ৮ কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। জেলেদের মাছ আহরণ ও শুঁটকি উৎপাদন কমে গেলে বন বিভাগের রাজস্ব আদায়েও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

যুদ্ধবিরতি নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন বার্তা 

Bandarban Tribune

মৌসুমের শুরুতেই দুর্যোগের ধাক্কা, ব্যাহত হচ্ছে শুঁটকি উৎপাদন

Update Time : ০২:০৫:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

বঙ্গোপসাগরের সুন্দরবন উপকূলে মাছ আহরণ ও শুঁটকি তৈরির মৌসুম শুরু হতে না হতেই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কবলে পড়েছেন জেলেরা। লঘুচাপের প্রভাবে টানা বৃষ্টি ও উত্তাল সাগরে ব্যাহত হচ্ছে মাছ আহরণ। মৌসুমের প্রথম দিন গত শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দুবলার চরসহ আশপাশের এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ায় কয়েক হাজার জেলে ও মৎস্যজীবী বিপাকে পড়েছেন।

মাছ ধরতে সাগরে যেতে না পারা, নতুন ঘর ও শুঁটকি তৈরির স্থাপনা নির্মাণ করতে না পারা এবং রোদের অভাবে মাছ শুকাতে না পারায় জেলেদের মৌসুমি জীবিকা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

বৈরী আবহাওয়ার কারণে জেলেদের সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি সুন্দরবন বিভাগের রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়েও শঙ্কা দেখা দিয়েছে। মহাজনদের কাছ থেকে দাদন ও ঋণ নিয়ে মাছ আহরণ ও শুঁটকি তৈরির উদ্দেশ্যে দুবলার চরে আসা জেলেরা এখন সংসার চালানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

জেলেরা জানান, প্রতিবছর শুঁটকি মৌসুমকে কেন্দ্র করে সুন্দরবনের দুবলার চর, আলোরকোল, মেহেরআলীসহ বিভিন্ন চরে দেশের উপকূলীয় অঞ্চল থেকে হাজার হাজার জেলে ও মৎস্যজীবী সমবেত হন। অক্টোবরের শেষ দিক থেকে মার্চ পর্যন্ত চলে তাঁদের এই কর্মযজ্ঞ। এ জন্য মৌসুমের শুরুতে তারা প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে চরে পৌঁছে অস্থায়ী বসতঘর, মাছ শুকানোর মাচা ও অন্যান্য স্থাপনা তৈরি করেন। কিন্তু এবার শুরুতেই বৈরী আবহাওয়া তাদের সব প্রস্তুতি বাধাগ্রস্ত করছে।

বৃহস্পতিবার রাত থেকে বৃষ্টি শুরু হয় এবং শুক্রবারও তা অব্যাহত থাকায় জেলেদের নতুন ঘর নির্মাণ ও শুঁটকি তৈরির অবকাঠামো প্রস্তুতের কাজ ব্যাহত হয়। একই সঙ্গে উত্তাল সাগরের কারণে অনেক জেলে মাছ ধরতে গভীর সমুদ্রে যেতে পারেননি। কেউ কেউ উপকূলের কাছাকাছি মাছ ধরলেও রোদের অভাবে তা শুকাতে পারেননি। ফলে মৌসুমের শুরুতেই মাছ আহরণ ও শুঁটকি উৎপাদনের স্বাভাবিক কার্যক্রমে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটেছে।

দুবলার চর জেলেপল্লীর ইনচার্জ ফরেস্ট রেঞ্জার খলিলুর রহমান বলেন, বৃহস্পতিবার রাত থেকে দুবলার চর এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এ কারণে মৌসুমের শুরুতে এখানে আসা জেলেদের মাছ আহরণ ও বসবাসের জন্য ঘর তৈরির কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

ঋণের বোঝার কারণে জেলেদের জন্য পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। মৌসুমে খরচ জোগাতে অনেক জেলেই মহাজনদের কাছ থেকে দাদন ও ধারদেনা নিয়ে দুবলার চরে এসেছেন। তাঁদের প্রত্যাশা ছিল, মৌসুমের শুরু থেকেই সাগরে মাছ ধরে শুঁটকি তৈরি করে বিক্রি করবেন এবং সেই আয় থেকে ঋণ পরিশোধ করবেন। কিন্তু বৈরী আবহাওয়ায় মাছ ধরতে না পারা এবং শুকানোর কাজ বন্ধ থাকায় তাঁদের বিনিয়োগ ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

অন্যদিকে, শুঁটকি মৌসুম ঘিরে বন বিভাগ এবারের মৌসুমে ৮ কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। জেলেদের মাছ আহরণ ও শুঁটকি উৎপাদন কমে গেলে বন বিভাগের রাজস্ব আদায়েও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।