Lama ০৫:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কাউনিয়ায় তেজপাতার গ্রাম, বদলাচ্ছে কৃষকের ভাগ্য

মেঠোপথের দুই পাশ, ক্ষেতের আইল কিংবা বাড়ির আঙিনা—যেদিকে চোখ যায়, সেদিকেই তেজপাতার সবুজ সমারোহ। কম খরচে দীর্ঘমেয়াদি আয়ের সুযোগ থাকায় তেজপাতা চাষে ঝুঁকছেন কৃষকরা। রংপুরের কাউনিয়ার কয়েকটি গ্রাম এখন পরিচিতি পেয়েছে ‘তেজপাতার গ্রাম’ হিসেবে।

কাউনিয়া উপজেলার টেপামধুপুর ইউনিয়নের বাজেমসকুর, চৈতারমোড় ও রাজীব গ্রামে গড়ে উঠেছে তেজপাতার বাগান। ধান ও সবজি চাষের পাশাপাশি অনেক কৃষক এখন বেছে নিচ্ছেন এই মসলাজাতীয় ফসল।

বাজেমসকুর গ্রামের কৃষক মোস্তাইন বিল্লাহ জানান, মাত্র ৩০ হাজার টাকা খরচ করে ৬০ শতক জমিতে ৩২০টি গাছ লাগিয়ে এ পর্যন্ত আয় করেছেন দুই লাখ টাকার বেশি।

একই গ্রামের কৃষক আশিকুর ধান ও সবজি চাষ ছেড়ে এখন পুরোদমে তেজপাতা চাষ করছেন। বর্তমানে তাঁর বাগান থেকে বছরে পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ১৫ মণ পাতা।

স্থানীয় বাজার ছাড়িয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও যাচ্ছে কাউনিয়ার তেজপাতা। ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাক জানান, প্রতি সপ্তাহে এখান থেকে প্রায় ৩০০ বস্তা তেজপাতা ঢাকায় পাঠানো হয়। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, এই তেজপাতা সৌদি আরব, দুবাই ও সিঙ্গাপুরেও রপ্তানি হচ্ছে।

কাউনিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সালাহউদ্দিন জানান, বর্তমানে উপজেলায় প্রায় ৬৫ হেক্টর জমিতে তেজপাতার আবাদ হচ্ছে। তেজপাতা চাষ সম্প্রসারণে কৃষকদের পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা দিচ্ছে কৃষি বিভাগ।

কম খরচে দীর্ঘমেয়াদি আয় আর বাজারে বাড়তি চাহিদা—সব মিলিয়ে কাউনিয়ার কৃষকদের কাছে তেজপাতা এখন সম্ভাবনাময় ফসল। পরিকল্পিত উদ্যোগ ও বাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে এই চাষ আরও সমৃদ্ধ হবে, এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

যুদ্ধবিরতি নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন বার্তা 

Bandarban Tribune

কাউনিয়ায় তেজপাতার গ্রাম, বদলাচ্ছে কৃষকের ভাগ্য

Update Time : ০৪:৫২:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

মেঠোপথের দুই পাশ, ক্ষেতের আইল কিংবা বাড়ির আঙিনা—যেদিকে চোখ যায়, সেদিকেই তেজপাতার সবুজ সমারোহ। কম খরচে দীর্ঘমেয়াদি আয়ের সুযোগ থাকায় তেজপাতা চাষে ঝুঁকছেন কৃষকরা। রংপুরের কাউনিয়ার কয়েকটি গ্রাম এখন পরিচিতি পেয়েছে ‘তেজপাতার গ্রাম’ হিসেবে।

কাউনিয়া উপজেলার টেপামধুপুর ইউনিয়নের বাজেমসকুর, চৈতারমোড় ও রাজীব গ্রামে গড়ে উঠেছে তেজপাতার বাগান। ধান ও সবজি চাষের পাশাপাশি অনেক কৃষক এখন বেছে নিচ্ছেন এই মসলাজাতীয় ফসল।

বাজেমসকুর গ্রামের কৃষক মোস্তাইন বিল্লাহ জানান, মাত্র ৩০ হাজার টাকা খরচ করে ৬০ শতক জমিতে ৩২০টি গাছ লাগিয়ে এ পর্যন্ত আয় করেছেন দুই লাখ টাকার বেশি।

একই গ্রামের কৃষক আশিকুর ধান ও সবজি চাষ ছেড়ে এখন পুরোদমে তেজপাতা চাষ করছেন। বর্তমানে তাঁর বাগান থেকে বছরে পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ১৫ মণ পাতা।

স্থানীয় বাজার ছাড়িয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও যাচ্ছে কাউনিয়ার তেজপাতা। ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাক জানান, প্রতি সপ্তাহে এখান থেকে প্রায় ৩০০ বস্তা তেজপাতা ঢাকায় পাঠানো হয়। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, এই তেজপাতা সৌদি আরব, দুবাই ও সিঙ্গাপুরেও রপ্তানি হচ্ছে।

কাউনিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সালাহউদ্দিন জানান, বর্তমানে উপজেলায় প্রায় ৬৫ হেক্টর জমিতে তেজপাতার আবাদ হচ্ছে। তেজপাতা চাষ সম্প্রসারণে কৃষকদের পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা দিচ্ছে কৃষি বিভাগ।

কম খরচে দীর্ঘমেয়াদি আয় আর বাজারে বাড়তি চাহিদা—সব মিলিয়ে কাউনিয়ার কৃষকদের কাছে তেজপাতা এখন সম্ভাবনাময় ফসল। পরিকল্পিত উদ্যোগ ও বাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে এই চাষ আরও সমৃদ্ধ হবে, এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।