Lama ০৫:২০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাইনীমুখ বাজারে প্রভাব বিস্তার করে ফায়ার রোড দখল- নিশ্চুপ বাজার ফান্ড

পাহাড়ের প্রাচীনতম ও বড় বাজারটি রাঙ্গামাটি লংগদু উপজেলায় অবস্থিত। যার নাম রাখা হয়েছিলো মাইনীমুখ বাজার।  বর্তমানে প্রভাবশালীদের খপ্পরে পড়ে  বাজারটি তার ঐতিহ্য ও রুপ হারাতে বসেছে। দখল হয়ে যাচ্ছে বাজারের ফায়ার রোড ও বাজার ফান্ডের জায়গা।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রভাবশালীদের খপ্পরে পড়ে রাঙ্গামাটির লংগদু উপজেলার একমাত্র ঐতিহ্যবাহী মাইনীমুখ বাজারটি এখন তার রুপ বৈচিত্র হারাতে বসেছে। প্রতিনিয়ত জবর দখল হচ্ছে বাজার ফান্ড ও ফায়ার রোডের জায়গা। তৈরী করছে নিজেদের স্থাপনা। তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে প্রভাব দেখিয়ে সাংবাদিকদের সাথেও অশালীন আচরণ করে দখলদাররা। এসব বিষয়ে দায় সারা কথা বলেন বাজার চৌধুরী ও বাজার কমিটি।

এবিষয়ে বাজার চৌধুরি দেব কুমার চাকমা বলেন, বাজার ফান্ডের আওতায় মোট ২৫টি ফায়ার রোড থাকলেও তা এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। তবে দ্রুত সময় তা অপসারণ করার কথা জানান তিনি। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কাঁচা বাজারের পূর্ব পাশ, রুটি ঘাট, মধ্যে বাজার করিম স্টোরের পাশে, গরু বাজারের উত্তর পাশ সহ বেশ কয়েকটি ফায়ার রোড অনেকেই দখল করে নিয়েছে।

বাজার কমিটির সভাপতি আবুল কাশেম বলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশে অবৈধ স্থাপনা গুলো উচ্ছেদ হওয়ার কথা রয়েছে। তবে নিজের দোকানের পাশে ফায়ার রোড দখলের বিষয় কিছু বলেননি তিনি। এছাড়াও এ তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে উল্টো সাংবাদিকদের সাথে অশালীন আচরণ করে তার ছেলে ও ভাই।

দ্রুত সময়ে বাজারের ফায়ার রোড ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে প্রশসানের নিকট জোর দাবী জানিয়েছেন ক্রেতা বিক্রেতারা। প্রতি শনিবার হাটের দিন ক্রেতা বিক্রেতাদের ভোগান্তি দুর করতে অবৈধ দখল ও বাজারে তদারিক বৃদ্ধির দাবী তাদের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ব্যবসায়ী সাংবাদিকদের সাথে এমন আচরণ দেখে বলেন, বাজার কমিটির বর্তমান সভাপতি আবুল কাশেমের ভাগিনা ইসলামি ব্যাংকের কোটি টাকা টাকা নিয়ে উদাও হয়েছে। এছাড়াও কয়েকবছর আগে তার ছেলে হাছান মোবাইলের আই মি নাম্বার জালিয়াতির কারণে ডিবির হাতে গ্রেফতার হয়।

লংগদু ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা হেলাল উদ্দীন বলেন, ইতিমধ্যে মাইনী বাজারে বেশ কয়েকবার আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। দুঃখজন বিষয় অবৈধ দখলদারদের কারণে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন ঠিক সময়ে দুর্ঘটনা স্থলে পৌছাতে পারেনা। যার ফলে বড় ধরণের ক্ষতির মুখোমুখি হতে হয় ব্যবসায়ীদের। দ্রত সময়ে বাজার ফান্ড কর্তৃপক্ষ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করলে সকলের জন্য সুবিধা হবে।

দূর্গম এলাকার ঐতিহ্যবাহী বাজারটির রুপ বৈচিত্র্য ধরে রাখতে এবং ক্রেতা বিক্রেতাদের সুবিধার্থে বাজার ফান্ড কর্তৃপক্ষকে সরেজমিনে তদারকি করে দ্রুত সময়ে প্রভাবশালীদের হাত থেকে অবৈধ দখল পুনরায় উদ্ধার করে বাজার সুন্দর পরিবেশ ফেরানোর জোর দাবী জানিয়েছে এলাকাবাসী।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি, সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে মহালছড়ির পূজামণ্ডপে জোন কমান্ডার

Bandarban Tribune

মাইনীমুখ বাজারে প্রভাব বিস্তার করে ফায়ার রোড দখল- নিশ্চুপ বাজার ফান্ড

Update Time : ০৪:৪৫:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

পাহাড়ের প্রাচীনতম ও বড় বাজারটি রাঙ্গামাটি লংগদু উপজেলায় অবস্থিত। যার নাম রাখা হয়েছিলো মাইনীমুখ বাজার।  বর্তমানে প্রভাবশালীদের খপ্পরে পড়ে  বাজারটি তার ঐতিহ্য ও রুপ হারাতে বসেছে। দখল হয়ে যাচ্ছে বাজারের ফায়ার রোড ও বাজার ফান্ডের জায়গা।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রভাবশালীদের খপ্পরে পড়ে রাঙ্গামাটির লংগদু উপজেলার একমাত্র ঐতিহ্যবাহী মাইনীমুখ বাজারটি এখন তার রুপ বৈচিত্র হারাতে বসেছে। প্রতিনিয়ত জবর দখল হচ্ছে বাজার ফান্ড ও ফায়ার রোডের জায়গা। তৈরী করছে নিজেদের স্থাপনা। তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে প্রভাব দেখিয়ে সাংবাদিকদের সাথেও অশালীন আচরণ করে দখলদাররা। এসব বিষয়ে দায় সারা কথা বলেন বাজার চৌধুরী ও বাজার কমিটি।

এবিষয়ে বাজার চৌধুরি দেব কুমার চাকমা বলেন, বাজার ফান্ডের আওতায় মোট ২৫টি ফায়ার রোড থাকলেও তা এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। তবে দ্রুত সময় তা অপসারণ করার কথা জানান তিনি। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কাঁচা বাজারের পূর্ব পাশ, রুটি ঘাট, মধ্যে বাজার করিম স্টোরের পাশে, গরু বাজারের উত্তর পাশ সহ বেশ কয়েকটি ফায়ার রোড অনেকেই দখল করে নিয়েছে।

বাজার কমিটির সভাপতি আবুল কাশেম বলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশে অবৈধ স্থাপনা গুলো উচ্ছেদ হওয়ার কথা রয়েছে। তবে নিজের দোকানের পাশে ফায়ার রোড দখলের বিষয় কিছু বলেননি তিনি। এছাড়াও এ তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে উল্টো সাংবাদিকদের সাথে অশালীন আচরণ করে তার ছেলে ও ভাই।

দ্রুত সময়ে বাজারের ফায়ার রোড ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে প্রশসানের নিকট জোর দাবী জানিয়েছেন ক্রেতা বিক্রেতারা। প্রতি শনিবার হাটের দিন ক্রেতা বিক্রেতাদের ভোগান্তি দুর করতে অবৈধ দখল ও বাজারে তদারিক বৃদ্ধির দাবী তাদের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ব্যবসায়ী সাংবাদিকদের সাথে এমন আচরণ দেখে বলেন, বাজার কমিটির বর্তমান সভাপতি আবুল কাশেমের ভাগিনা ইসলামি ব্যাংকের কোটি টাকা টাকা নিয়ে উদাও হয়েছে। এছাড়াও কয়েকবছর আগে তার ছেলে হাছান মোবাইলের আই মি নাম্বার জালিয়াতির কারণে ডিবির হাতে গ্রেফতার হয়।

লংগদু ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা হেলাল উদ্দীন বলেন, ইতিমধ্যে মাইনী বাজারে বেশ কয়েকবার আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। দুঃখজন বিষয় অবৈধ দখলদারদের কারণে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন ঠিক সময়ে দুর্ঘটনা স্থলে পৌছাতে পারেনা। যার ফলে বড় ধরণের ক্ষতির মুখোমুখি হতে হয় ব্যবসায়ীদের। দ্রত সময়ে বাজার ফান্ড কর্তৃপক্ষ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করলে সকলের জন্য সুবিধা হবে।

দূর্গম এলাকার ঐতিহ্যবাহী বাজারটির রুপ বৈচিত্র্য ধরে রাখতে এবং ক্রেতা বিক্রেতাদের সুবিধার্থে বাজার ফান্ড কর্তৃপক্ষকে সরেজমিনে তদারকি করে দ্রুত সময়ে প্রভাবশালীদের হাত থেকে অবৈধ দখল পুনরায় উদ্ধার করে বাজার সুন্দর পরিবেশ ফেরানোর জোর দাবী জানিয়েছে এলাকাবাসী।