Lama ০৫:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সরকারি চাকরিজীবী হয়েও সংবাদ সম্মেলন: চরফ্যাশনে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বরখাস্ত

সরকারি চাকরিতে কর্মরত অবস্থায় রাজনৈতিক দলের কমিটিতে পদ পাওয়ার অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন ভোলার চরফ্যাশনের উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো সফিউল্লাহ জগলু। তবে বরখাস্তের আদেশ প্রকাশের পরপরই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া সংবাদ সম্মেলন করায় সরকারি কর্মচারী আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আইনি ও নৈতিক প্রশ্ন উঠেছে।সোমবার (১২ অক্টোবর) প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো শাহজামান খানের স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এর কিছু পরেই সন্ধ্যায় তিনি চরফ্যাশন প্রেসক্লাবে গণমাধ্যমকর্মীদের মুখোমুখি হন।

বিভাগীয় আদেশ সূত্রে জানা যায়, গত ৫ অক্টোবর ঘোষিত জাতীয নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চরফ্যাশন উপজেলা আহ্বাযক কমিটিতে মো সফিউল্লাহ জগলুকে ‘সিনিযর যুগ্ম আহ্বাযক’ পদ দেওয়া হয়। সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯-এর ২৫(১) ধারা অনুযায়ীকোনো সরকারি চাকরিজীবী কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য হতে বা এর কার্যক্রমে অংশ নিতে পারেন না।

এই বিধি লঙ্ঘনের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে লালমোহন উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে (মূল কর্মস্থল) সংযুক্ত করা হয়।তিনি দাবি করেন, ভোলা জেলা এনসিপির কমিটি গঠনের সময় একই নামের একাধিক ব্যক্তি থাকায় ভুলবশত এবং তার অনুমতি ছাড়াই কমিটিতে তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। তার চাকরির মেয়াদ আর মাত্র ছয় মাস বাকি রয়েছে উল্লেখ করে এই সিদ্ধান্তকে তার পরিবারের জন্য একটি বড় ধাক্কা বলে দাবি করেন তিনি।

এনসিপির ভোলা জেলা আহ্বাযক অ্যাডভোকেট মো জিয়াউর রহমানও পরবর্তীতে গণমাধ্যমকে জানান, ভুলবশত তার নাম কমিটিতে এসেছিল এবং পরে তারা কমিটি সংশোধন করেছেন। তারা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কাছে বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিতে বিবেচনার অনুরোধ জানান।সফিউল্লাহ জগলু রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার দায় এড়ানোর চেষ্টা করলেও, বরখাস্তের পর তার করা এই সংবাদ সম্মেলন সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নির্ধারিত অপর একটি কঠোর বিধির লঙ্ঘন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

১৯৭৯ সালের সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালার ২২ নম্বর বিধি অনুযায়ীকোনো সরকারি কর্মচারী বিভাগীয প্রধানের পূর্বানুমতি ছাড়া অথবা তার সরকারি দায়ত্বি পালনের ক্ষেত্র ব্যতীত কোনো বেতার বা টেলিভিশন সম্প্রচারে অংশ নিতে পারবেন না এবং সংবাদপত্র বা অন্য কোনো গণমাধ্যমে নিজের নামে কোনো নিবন্ধ বা পত্র প্রকাশ করতে পারবেন না। এই বিধি অনুযায়ী সরাসরি সংবাদ সম্মেলন বা গণমাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিগত ক্ষোভ প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

উল্লেখ্য, গত ৫ অক্টোবর এনসিপির ভোলা জেলা আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো জিয়াউর রহমান ও সদস্যসচিব শরীফ হাওলাদার সাগরের যৌথ স্বাক্ষরে আগামী ছয় মাসের জন্য দলটির চরফ্যাশন উপজেলা আহ্বায়ক কমিটির আংশিক অনুমোদন দেওয়া হয়। সাত সদস্যবিশিষ্ট ওই কমিটিতে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক পদে সরকারি কর্মকর্তা সফিউল্ল্যাহ জগলুর নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

দুর্গাপূজা ঘিরে কোনো শঙ্কা নেই: ডিএমপি

Bandarban Tribune

সরকারি চাকরিজীবী হয়েও সংবাদ সম্মেলন: চরফ্যাশনে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বরখাস্ত

Update Time : ০৮:৩০:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

সরকারি চাকরিতে কর্মরত অবস্থায় রাজনৈতিক দলের কমিটিতে পদ পাওয়ার অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন ভোলার চরফ্যাশনের উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো সফিউল্লাহ জগলু। তবে বরখাস্তের আদেশ প্রকাশের পরপরই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া সংবাদ সম্মেলন করায় সরকারি কর্মচারী আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আইনি ও নৈতিক প্রশ্ন উঠেছে।সোমবার (১২ অক্টোবর) প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো শাহজামান খানের স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এর কিছু পরেই সন্ধ্যায় তিনি চরফ্যাশন প্রেসক্লাবে গণমাধ্যমকর্মীদের মুখোমুখি হন।

বিভাগীয় আদেশ সূত্রে জানা যায়, গত ৫ অক্টোবর ঘোষিত জাতীয নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চরফ্যাশন উপজেলা আহ্বাযক কমিটিতে মো সফিউল্লাহ জগলুকে ‘সিনিযর যুগ্ম আহ্বাযক’ পদ দেওয়া হয়। সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯-এর ২৫(১) ধারা অনুযায়ীকোনো সরকারি চাকরিজীবী কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য হতে বা এর কার্যক্রমে অংশ নিতে পারেন না।

এই বিধি লঙ্ঘনের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে লালমোহন উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে (মূল কর্মস্থল) সংযুক্ত করা হয়।তিনি দাবি করেন, ভোলা জেলা এনসিপির কমিটি গঠনের সময় একই নামের একাধিক ব্যক্তি থাকায় ভুলবশত এবং তার অনুমতি ছাড়াই কমিটিতে তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। তার চাকরির মেয়াদ আর মাত্র ছয় মাস বাকি রয়েছে উল্লেখ করে এই সিদ্ধান্তকে তার পরিবারের জন্য একটি বড় ধাক্কা বলে দাবি করেন তিনি।

এনসিপির ভোলা জেলা আহ্বাযক অ্যাডভোকেট মো জিয়াউর রহমানও পরবর্তীতে গণমাধ্যমকে জানান, ভুলবশত তার নাম কমিটিতে এসেছিল এবং পরে তারা কমিটি সংশোধন করেছেন। তারা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কাছে বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিতে বিবেচনার অনুরোধ জানান।সফিউল্লাহ জগলু রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার দায় এড়ানোর চেষ্টা করলেও, বরখাস্তের পর তার করা এই সংবাদ সম্মেলন সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নির্ধারিত অপর একটি কঠোর বিধির লঙ্ঘন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

১৯৭৯ সালের সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালার ২২ নম্বর বিধি অনুযায়ীকোনো সরকারি কর্মচারী বিভাগীয প্রধানের পূর্বানুমতি ছাড়া অথবা তার সরকারি দায়ত্বি পালনের ক্ষেত্র ব্যতীত কোনো বেতার বা টেলিভিশন সম্প্রচারে অংশ নিতে পারবেন না এবং সংবাদপত্র বা অন্য কোনো গণমাধ্যমে নিজের নামে কোনো নিবন্ধ বা পত্র প্রকাশ করতে পারবেন না। এই বিধি অনুযায়ী সরাসরি সংবাদ সম্মেলন বা গণমাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিগত ক্ষোভ প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

উল্লেখ্য, গত ৫ অক্টোবর এনসিপির ভোলা জেলা আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো জিয়াউর রহমান ও সদস্যসচিব শরীফ হাওলাদার সাগরের যৌথ স্বাক্ষরে আগামী ছয় মাসের জন্য দলটির চরফ্যাশন উপজেলা আহ্বায়ক কমিটির আংশিক অনুমোদন দেওয়া হয়। সাত সদস্যবিশিষ্ট ওই কমিটিতে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক পদে সরকারি কর্মকর্তা সফিউল্ল্যাহ জগলুর নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।