
ঢাকার ধামরাইয়ে বসতবাড়ি ভেঙে জমি দখলের চেষ্টাকালে গ্রামবাসীদের ধাওয়ায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ফেলে রেখে পালিয়ে গেছে একদল দখলকারী।
এ ঘটনায় সোমবার (০৫ অক্টোবর) বিকেলে ভুক্তভোগী নাজিম উদ্দীন বাদী হয়ে ৯ জনের নাম উল্লেখসহ ২০ থেকে ৩০ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করে ধামরাই থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এর আগে শুক্রবার (০২ অক্টোবর) দিনগত সন্ধ্যায় উপজেলার আমতা ইউনিয়নের বাউখন্ড গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগপত্রে উল্লেখিত আসামিরা হলেন—বাউখন্ড গ্রামের বাসিন্দা মনোয়ার হোসেন মানু, আঃ মুন্নাফ, লাল মিয়া, মোঃ মামুন, ফরিদা (স্বামী আঃ মুন্নাফ), সোনিয়া (স্বামী শওকত), সখিনা (স্বামী মনোয়ার হোসেন মানু); বালিয়া ইউনিয়নের সুত্রাপুর গ্রামের মৃত জাম্বু মিয়ার ছেলে আঃ রহিম এবং আমতা ইউনিয়নের আগজেঠাইল গ্রামের লাল মিয়ার ছেলে ইনছাদ আলী।
স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার (০২ অক্টোবর) সন্ধ্যার দিকে একদল বহিরাগত নাজিম উদ্দীনের বসতবাড়িতে ঢুকে ঘরবাড়ি ভেঙে জমি দখলের চেষ্টা চালায়। বিষয়টি জানতে পেরে গ্রামের বাসিন্দারা একজোট হয়ে তাদের ধাওয়া দেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে দখলকারীরা তাদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল রেখে দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে খবর পেয়ে কাওয়ালিপাড়া তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ বিষয়ে নাজিম উদ্দীন বলেন, “আমি পৈতৃক সূত্রে জমির মালিক হয়ে নিজ নামে নামজারি করে ভোগদখল করে আসছি। কিন্তু বিবাদীরা জমিটি নিজেদের দাবি করে দখলের অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। শুক্রবার (০২ অক্টোবর) বিকেলে আমি কাজের প্রয়োজনে বাইরে গেলে অভিযুক্তরা সন্ত্রাসী ভাড়া করে আমার বসতবাড়ি দখলের চেষ্টা করে। পরে গ্রামবাসী একত্র হয়ে ধাওয়া দিলে তারা পালিয়ে যায়।”
তাসলিমা আক্তার নামে এক প্রবাসীর স্ত্রী জানান, ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা যখন ঘরবাড়ি ভেঙে জমি দখল করছিল, তখন বাধা দেওয়ায় তাঁকে মারধর করে গলার চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে তাঁর চিৎকার-চেঁচামেচিতে মসজিদের মাইকে ডাকাত পড়ার ঘোষণা দেওয়া হলে গ্রামবাসী ঐক্যবদ্ধ হয়ে উদ্ধার করতে এগিয়ে আসেন এবং দখলকারীদের ধাওয়া করেন।
ধামরাই থানার ওসি (অপারেশন) দেবাশীষ সানা বলেন, “ঘরবাড়ি ভেঙে জমি দখলের চেষ্টার বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাটি তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
নিজস্ব সংবাদদাতা: 




















