Lama ০২:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চরফ্যাশনে কালকিনি চরে জবাইকৃত হরিণ উদ্ধার: আদালতে মামলা, পলাতক শিকারিরা

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার মেঘনা নদীর বুক চিরে জেগে ওঠা কালকিনি চরে বন বিভাগের একটি চিত্রা হরিণ জবাইকৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। চরফ্যাশন রেঞ্জের বিট কর্মকর্তা আব্বাস উদ্দিনের নেতৃত্বে বন বিভাগের একটি দল হরিণটি উদ্ধার করে।

এই ঘটনায় বন বিভাগের পক্ষ থেকে চরফ্যাশন উপজেলা আদালতে একটি নিয়মিত মামলা (অভিযোগ) দায়ের করা হয়েছে, তবে ঘটনার সাথে জড়িত কোনো অপরাধীকে এখনও গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।

বন বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৪আগষ্ঠ ২০২৬ তারিখে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কালকিনি চরের বনাঞ্চলে অভিযান চালায় বন কর্মীরা। অভিযানে শিকারিদের পেতে রাখা ফাঁদ বা আস্তানা থেকে জবাই করা অবস্থায় একটি পূর্ণবয়স্ক হরিণ উদ্ধার করা হয়।

বন বিভাগের উপস্থিতি টের পেয়ে সংঘবদ্ধ চোরাশিকারী চক্রটি হরিণের মাংস ও চামড়া রেখেই গহীন বনে পালিয়ে যায়। ফলে ঘটনাস্থল থেকে কাউকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা যায়নি বলে কালকিনি চরের বন বিভাগের বিট কর্মকর্তা আব্বাস উদ্দিন দাবী করলেও চর এলাকায় চাউর আছে। বিট কর্মকর্তা আব্বাস উদ্দিন মোটা টাকার বিনিময় চোরাশিকারী চক্রটি কে পালিয়ে যেতে সাহায্য করেছে।

আইনি প্রক্রিয়া ও পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে বিট কর্মকর্তা আব্বাস উদ্দিন জানান, বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ অনুযায়ী অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে চরফ্যাশন উপজেলা আদালতে আজ ০৬ আগষ্ঠ ২০২৬ একটি নালিশি মামলা দায়ের করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত হরিণটির ময়নাতদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতের নিন্দেশনা অনুযায়ী চরের মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়েছে।

স্থানীয় পরিবেশবাদীদের মতে, চরফ্যাশনের চর কুকরি-মুকরি, ঢালচর ও কালকিনি চরের বনাঞ্চল হরিণের অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত। তবে সাম্প্রতিক সময়ে জোয়ারের পানিতে হরিণ ভেসে আসা এবং চরাঞ্চলে বন বিভাগের জনবল সংকটের সুযোগ নিয়ে স্থানীয় কিছু চোরা শিকারী চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। হরিণ জবাইয়ের এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা দ্রুত অপরাধীদের চিহ্নিত করে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।

বন বিভাগ জানিয়েছে, পলাতক আসামিদের শনাক্ত করতে স্থানীয় পর্যায়ে তদন্ত চলছে এবং চরাঞ্চলে বন্যপ্রাণী রক্ষায় টহল জোরদার করা হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

বাঘাইছড়িতে সৈয়দ নুর মোহাম্মদ শাহ্ (রহ:)-এর ২৬তম ওফাত বার্ষিকী উপলক্ষে ওরশ মোবারক

Bandarban Tribune

চরফ্যাশনে কালকিনি চরে জবাইকৃত হরিণ উদ্ধার: আদালতে মামলা, পলাতক শিকারিরা

Update Time : ১১:৩৬:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার মেঘনা নদীর বুক চিরে জেগে ওঠা কালকিনি চরে বন বিভাগের একটি চিত্রা হরিণ জবাইকৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। চরফ্যাশন রেঞ্জের বিট কর্মকর্তা আব্বাস উদ্দিনের নেতৃত্বে বন বিভাগের একটি দল হরিণটি উদ্ধার করে।

এই ঘটনায় বন বিভাগের পক্ষ থেকে চরফ্যাশন উপজেলা আদালতে একটি নিয়মিত মামলা (অভিযোগ) দায়ের করা হয়েছে, তবে ঘটনার সাথে জড়িত কোনো অপরাধীকে এখনও গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।

বন বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৪আগষ্ঠ ২০২৬ তারিখে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কালকিনি চরের বনাঞ্চলে অভিযান চালায় বন কর্মীরা। অভিযানে শিকারিদের পেতে রাখা ফাঁদ বা আস্তানা থেকে জবাই করা অবস্থায় একটি পূর্ণবয়স্ক হরিণ উদ্ধার করা হয়।

বন বিভাগের উপস্থিতি টের পেয়ে সংঘবদ্ধ চোরাশিকারী চক্রটি হরিণের মাংস ও চামড়া রেখেই গহীন বনে পালিয়ে যায়। ফলে ঘটনাস্থল থেকে কাউকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা যায়নি বলে কালকিনি চরের বন বিভাগের বিট কর্মকর্তা আব্বাস উদ্দিন দাবী করলেও চর এলাকায় চাউর আছে। বিট কর্মকর্তা আব্বাস উদ্দিন মোটা টাকার বিনিময় চোরাশিকারী চক্রটি কে পালিয়ে যেতে সাহায্য করেছে।

আইনি প্রক্রিয়া ও পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে বিট কর্মকর্তা আব্বাস উদ্দিন জানান, বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ অনুযায়ী অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে চরফ্যাশন উপজেলা আদালতে আজ ০৬ আগষ্ঠ ২০২৬ একটি নালিশি মামলা দায়ের করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত হরিণটির ময়নাতদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতের নিন্দেশনা অনুযায়ী চরের মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়েছে।

স্থানীয় পরিবেশবাদীদের মতে, চরফ্যাশনের চর কুকরি-মুকরি, ঢালচর ও কালকিনি চরের বনাঞ্চল হরিণের অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত। তবে সাম্প্রতিক সময়ে জোয়ারের পানিতে হরিণ ভেসে আসা এবং চরাঞ্চলে বন বিভাগের জনবল সংকটের সুযোগ নিয়ে স্থানীয় কিছু চোরা শিকারী চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। হরিণ জবাইয়ের এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা দ্রুত অপরাধীদের চিহ্নিত করে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।

বন বিভাগ জানিয়েছে, পলাতক আসামিদের শনাক্ত করতে স্থানীয় পর্যায়ে তদন্ত চলছে এবং চরাঞ্চলে বন্যপ্রাণী রক্ষায় টহল জোরদার করা হয়েছে।