
শিক্ষা কোনো বিলাসিতা নয়, প্রতিটি শিশুর মৌলিক অধিকার। অথচ সেই অধিকার থেকেই যেন বঞ্চিত হাতিয়ার দুর্গম তিন চর—চর গাছিয়া, ঢালচর ও চর আতাউরের শিশুরা। নদীভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়ে মেঘনার বুকে জেগে ওঠা এসব চরে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে বসবাস মানুষের। কিন্তু আজও সেখানে গড়ে ওঠেনি একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও।
ফলে পড়ালেখার বয়সে পৌঁছেও স্কুলের মুখ দেখতে পারছে না প্রায় ১০ হাজার শিশু। দুর্গম চরাঞ্চলের এসব শিশুর শিক্ষাজীবন নিয়ে প্রশ্ন উঠছে—এত বছরেও কেন নেওয়া হয়নি কার্যকর উদ্যোগ? হাতিয়ার থেকে বিস্তারিত জানাচ্ছেন শামীমুজ্জামান শামীম।
চারদিকে শুধু পানি আর পানি। মেঘনার বুক চিরে জেগে ওঠা এই জনপদ—চর আতাউর। নদীর সঙ্গে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করে এখানে ঘর বেঁধেছেন হাজারো মানুষ। ভাঙনের পর ভাঙন পেরিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখেছেন একটু ভালোভাবে বাঁচার। কিন্তু সেই স্বপ্নের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ সন্তানদের ভবিষ্যৎ আজও যেন অন্ধকারে।
লেখাপড়ার বয়সে পৌঁছেছে শিশুরা। কারও হাতে থাকার কথা বই-খাতা, কাঁধে থাকার কথা স্কুলব্যাগ। সকালে ঘুম থেকে উঠে স্কুলে যাওয়ার কথা তাদের।কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন।স্কুল নেই। তাই বই-খাতার বদলে অনেক শিশুর দিন কাটছে খেলাধুলা কিংবা পরিবারের কাজে। কেউ জানে না, কবে তাদের গ্রামে বাজবে স্কুলের ঘণ্টা।
শুধু চর আতাউর নয়। হাতিয়ার চর গাছিয়া ও ঢালচরেও একই চিত্র। তিনটি চরে বসবাস প্রায় ৫০ হাজার মানুষের। আর এসব চর মিলিয়ে প্রায় ১০ হাজার শিশু শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত বলে স্থানীয়দের দাবি। একটি বিদ্যালয়ের অভাবে থমকে যাচ্ছে তাদের শিক্ষাজীবন।
শিশুদের পড়াশোনা করাতে হলে পাড়ি দিতে হয় কয়েক কিলোমিটার নদীপথ। বর্ষায় উত্তাল নদী, নৌযাত্রার খরচ আর দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থা—সব মিলিয়ে অধিকাংশ পরিবারের পক্ষেই সন্তানদের নিয়মিত দূরের স্কুলে পাঠানো সম্ভব হয় না। ফলে অনেক শিশুর স্কুলে ভর্তি হওয়ার আগেই শেষ হয়ে যাচ্ছে শিক্ষার স্বপ্ন। একটি বিদ্যালয়ের অভাবে সেই স্বপ্নই যেন বারবার আটকে যাচ্ছে মেঘনার ঢেউয়ে।
দুর্গম চরাঞ্চলের শিশুদের শিক্ষার বিষয়টি নিয়ে উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট প্রাথমিক শিক্ষা কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি স্থানীয়দের।
হাতিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল জব্বার বলেন হাতিয়ার দুর্গম যে তিনটি চর রয়েছেন সেখানে নিরাপত্তার কারণে প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থানান্তর বা স্থাপন করা সম্ভব হয়নি এসব বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কোন নির্দেশ পেলে চরে বিদ্যালয় স্থাপনের ব্যবস্থা করবেন।
হাতিয়ার দুর্গম চরাঞ্চলের এই শিশুদের চোখে ফুটুক স্বপ্ন, হাতে উঠুক বই-খাতা এটাই এখন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
নিজস্ব প্রতিবেদক, হাতিয়া 



















