Lama ০৪:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ক্ষোভ ও সংকটে স্থানীয় কাঠ ব্যবসায়ী ও বাগান সৃজনকারীরা

লামা বন বিভাগ হোম পারমিট বন্ধ রাখায় স্থবির বেসরকারি বন উন্নয়ন

লামায় বন বিভাগে হোম পারমিট (গৃহস্থালি কাজের বা নিজস্ব জমির গাছ পরিবহনের অনুমতিপত্র) অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকায় বেসরকারি পর্যায়ে বন উন্নয়ন ও বনায়ন কার্যক্রম চরম স্থবিরতার মুখে পড়েছে। নিজস্ব জমিতে গাছ রোপণ করে তা বাজারজাত করতে না পেরে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন হাজার হাজার প্রান্তিক বাগান সৃজনকারী ও ব্যবসায়ীরা। ফলে বেসরকারি উদ্যোক্তারা নতুন করে বনায়নে উৎসাহ হারিয়ে ফেলছেন, যা সার্বিক পরিবেশ ও অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

অনুসন্ধানে জানাযায়, বন বিভাগের পক্ষ থেকে কাঠ পাচার রোধ ও বন সংরক্ষণের অজুহাতে লামা বন বিভাগ কর্তৃক হোম পারমিট প্রদান স্থগিত করে রাখা হয়েছে। এর ফলে বাগান সৃজনকারীরা নিজের রোপণ করা গাছ পরিপক্ক হওয়ার পরও গৃহস্থালি প্রয়োজন কিংবা বিক্রির জন্য এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না।

​এদিকে বনায়নে বিনিয়োগ করা বিপুল পরিমাণ অর্থ দীর্ঘদিন আটকে থাকায়, চরম হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন ক্ষুদ্র ও মাঝারি কাঠ ব্যবসায়ীরা।

অপরদিকে স্থানীয়দের মাঝে ​নতুন বনায়নে অনীহা দেখা দিয়েছে। গাছ বিক্রি ও পরিবহনে জটিলতা তৈরি হওয়ায় সাধারণ মানুষ ও বেসরকারী সংস্থাগুলো অব্যবহৃত বা অনাবাদি জমিতে নতুন গাছ লাগাতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে।

​স্থানীয় কাঠ ব্যবসায়ী ও বাগান মালিকদের মতে, কাঠ পাচারকারীদের দমন করতে গিয়ে সাধারণ ও বৈধ গাছ বাগান মালিকদের ওপর বিধিনিষেধ চাপিয়ে দেওয়া কোনো টেকসই সমাধান হতে পারে না।

​একজন ক্ষতিগ্রস্ত বাগান মালিক জানান, “অনেক কষ্টে ২০/৩০/৪০ বছর ধরে গাছ বড় করেছি। এখন দরকারের সময় ২/৪টি নিজের গাছ কেটে পারমিটের অভাবে বিক্রি করতে পারছি না। এতে নতুন করে গাছ লাগানোর আর কোনো ইচ্ছেই থাকছে না।”

​ব্যবসায়ীরা জানান, হোম পারমিট বন্ধ থাকার কারণে বাজারে দেশীয় কাঠের সংকট তৈরি হচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে স্থানীয় আসবাবপত্র শিল্প ও নির্মাণ খাতে।

​সরকার যখন দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ জোরদার করার আহ্বান জানাচ্ছে, তখন হোম পারমিট জটিলতার কারণে বেসরকারি উদ্যোগ থমকে যাচ্ছে।

অপরদিকে হোম পারমিট না পাওয়ায় অনেকে বাধ্য হয়ে গোপনে বা অসদুপায়ে গাছ পরিবহনের ঝুঁকি নিচ্ছেন, যা প্রশাসনিক অনিয়মকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

এছাড়া রাজস্ব আয় কমার পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিতে কাঠের বাজার কেন্দ্রিক কর্মসংস্থান সংকুচিত হচ্ছে। অপরদিকে ব্যক্তির নিজের গাছ বিভিন্ন প্রশাসন জব্দ করে বন বিভাগ তা নিলামে বিক্রি করে সরকারি তহবিলে জমা করছেন(!)।

পরিবেশকর্মী ও বিশেষজ্ঞদের মতে, নীতিগত জটিলতা নিরসন করে দ্রুত সমাধান বের করা জরুরি। এক কথায় ব্যাক্তি মালিকানা বাগানের ২/৪টি গাছ হোম পারমিটের মাধ্যমে বাজারজাত ও পরিবহনের অনুমতি পুন:চালু করে দেয়া।

বর্জাতমানে লিয়াতি ও পাচার রোধে দ্রুত ও স্বচ্ছ ডিজিটাল যাচাইকরণ ব্যবস্থার মাধ্যমে গৃহস্থালি কাঠের অনুমতিপ্রক্রিয়া সহজ করার দাবি উঠেছে। পারমিট দেওয়ার পূর্বে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার দ্রুত সরেজমিন পরিদর্শন নিশ্চিত করে প্রকৃত মালিকদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পারমিট দেওয়া দরকার।

​ব্যক্তি মালিকানাধীন ভূমির বনায়নের কাঠ, পরিবহনে বিশেষ শিথিলতা বা সহজ কাঠামোর নীতিমালা তৈরি করা দরকার; যাতে নতুন বনায়নে মানুষ উৎসাহিত হয়।

এছাড়া বেসরকারি পর্যায়ে বনায়ন রক্ষা এবং গাছ সৃজনকারীদেরকে স্বাবলম্বী রাখতে দ্রুত হোম পারমিট সংক্রান্ত জটিলতার নিরসন ঘটানো প্রয়োজন। একদিকে বনাঞ্চল রক্ষা এবং অন্যদিকে বেসরকারি বন উন্নয়নকে উৎসাহিত করার মাঝে ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন সময়ের দাবি।

বিষয়টি জেলা বন উন্নয়ন বন বিভাগের ঊধর্তন কর্তৃপক্ষ

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

বাঘাইছড়িতে সৈয়দ নুর মোহাম্মদ শাহ্ (রহ:)-এর ২৬তম ওফাত বার্ষিকী উপলক্ষে ওরশ মোবারক

Bandarban Tribune

ক্ষোভ ও সংকটে স্থানীয় কাঠ ব্যবসায়ী ও বাগান সৃজনকারীরা

লামা বন বিভাগ হোম পারমিট বন্ধ রাখায় স্থবির বেসরকারি বন উন্নয়ন

Update Time : ০১:৫৮:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

লামায় বন বিভাগে হোম পারমিট (গৃহস্থালি কাজের বা নিজস্ব জমির গাছ পরিবহনের অনুমতিপত্র) অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকায় বেসরকারি পর্যায়ে বন উন্নয়ন ও বনায়ন কার্যক্রম চরম স্থবিরতার মুখে পড়েছে। নিজস্ব জমিতে গাছ রোপণ করে তা বাজারজাত করতে না পেরে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন হাজার হাজার প্রান্তিক বাগান সৃজনকারী ও ব্যবসায়ীরা। ফলে বেসরকারি উদ্যোক্তারা নতুন করে বনায়নে উৎসাহ হারিয়ে ফেলছেন, যা সার্বিক পরিবেশ ও অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

অনুসন্ধানে জানাযায়, বন বিভাগের পক্ষ থেকে কাঠ পাচার রোধ ও বন সংরক্ষণের অজুহাতে লামা বন বিভাগ কর্তৃক হোম পারমিট প্রদান স্থগিত করে রাখা হয়েছে। এর ফলে বাগান সৃজনকারীরা নিজের রোপণ করা গাছ পরিপক্ক হওয়ার পরও গৃহস্থালি প্রয়োজন কিংবা বিক্রির জন্য এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না।

​এদিকে বনায়নে বিনিয়োগ করা বিপুল পরিমাণ অর্থ দীর্ঘদিন আটকে থাকায়, চরম হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন ক্ষুদ্র ও মাঝারি কাঠ ব্যবসায়ীরা।

অপরদিকে স্থানীয়দের মাঝে ​নতুন বনায়নে অনীহা দেখা দিয়েছে। গাছ বিক্রি ও পরিবহনে জটিলতা তৈরি হওয়ায় সাধারণ মানুষ ও বেসরকারী সংস্থাগুলো অব্যবহৃত বা অনাবাদি জমিতে নতুন গাছ লাগাতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে।

​স্থানীয় কাঠ ব্যবসায়ী ও বাগান মালিকদের মতে, কাঠ পাচারকারীদের দমন করতে গিয়ে সাধারণ ও বৈধ গাছ বাগান মালিকদের ওপর বিধিনিষেধ চাপিয়ে দেওয়া কোনো টেকসই সমাধান হতে পারে না।

​একজন ক্ষতিগ্রস্ত বাগান মালিক জানান, “অনেক কষ্টে ২০/৩০/৪০ বছর ধরে গাছ বড় করেছি। এখন দরকারের সময় ২/৪টি নিজের গাছ কেটে পারমিটের অভাবে বিক্রি করতে পারছি না। এতে নতুন করে গাছ লাগানোর আর কোনো ইচ্ছেই থাকছে না।”

​ব্যবসায়ীরা জানান, হোম পারমিট বন্ধ থাকার কারণে বাজারে দেশীয় কাঠের সংকট তৈরি হচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে স্থানীয় আসবাবপত্র শিল্প ও নির্মাণ খাতে।

​সরকার যখন দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ জোরদার করার আহ্বান জানাচ্ছে, তখন হোম পারমিট জটিলতার কারণে বেসরকারি উদ্যোগ থমকে যাচ্ছে।

অপরদিকে হোম পারমিট না পাওয়ায় অনেকে বাধ্য হয়ে গোপনে বা অসদুপায়ে গাছ পরিবহনের ঝুঁকি নিচ্ছেন, যা প্রশাসনিক অনিয়মকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

এছাড়া রাজস্ব আয় কমার পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিতে কাঠের বাজার কেন্দ্রিক কর্মসংস্থান সংকুচিত হচ্ছে। অপরদিকে ব্যক্তির নিজের গাছ বিভিন্ন প্রশাসন জব্দ করে বন বিভাগ তা নিলামে বিক্রি করে সরকারি তহবিলে জমা করছেন(!)।

পরিবেশকর্মী ও বিশেষজ্ঞদের মতে, নীতিগত জটিলতা নিরসন করে দ্রুত সমাধান বের করা জরুরি। এক কথায় ব্যাক্তি মালিকানা বাগানের ২/৪টি গাছ হোম পারমিটের মাধ্যমে বাজারজাত ও পরিবহনের অনুমতি পুন:চালু করে দেয়া।

বর্জাতমানে লিয়াতি ও পাচার রোধে দ্রুত ও স্বচ্ছ ডিজিটাল যাচাইকরণ ব্যবস্থার মাধ্যমে গৃহস্থালি কাঠের অনুমতিপ্রক্রিয়া সহজ করার দাবি উঠেছে। পারমিট দেওয়ার পূর্বে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার দ্রুত সরেজমিন পরিদর্শন নিশ্চিত করে প্রকৃত মালিকদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পারমিট দেওয়া দরকার।

​ব্যক্তি মালিকানাধীন ভূমির বনায়নের কাঠ, পরিবহনে বিশেষ শিথিলতা বা সহজ কাঠামোর নীতিমালা তৈরি করা দরকার; যাতে নতুন বনায়নে মানুষ উৎসাহিত হয়।

এছাড়া বেসরকারি পর্যায়ে বনায়ন রক্ষা এবং গাছ সৃজনকারীদেরকে স্বাবলম্বী রাখতে দ্রুত হোম পারমিট সংক্রান্ত জটিলতার নিরসন ঘটানো প্রয়োজন। একদিকে বনাঞ্চল রক্ষা এবং অন্যদিকে বেসরকারি বন উন্নয়নকে উৎসাহিত করার মাঝে ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন সময়ের দাবি।

বিষয়টি জেলা বন উন্নয়ন বন বিভাগের ঊধর্তন কর্তৃপক্ষ