Lama ০৪:৫৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
লামায় নাগরিক সমাবেশে আল্লামা মামুনুল হক:

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও আপোষহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সন্তানকে ফ্যাসিবাদের পথে চলতে দিবনা

লামায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির শায়খুল হাদিস আল্লামা মামুনুল হক নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, সরকার ফ্যাসিবাদের পথে হাটছেন। নতুন স্বাধীন হওয়া বাংলাদেশে আর কোনো ফ্যাসিবাদী শক্তির উত্থান হতে দেবেনা বাংলার জনগন।

বৃহস্পতিবার (৩সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে চারটায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির শায়খুল হাদিস আল্লামা মামুনুল হক লামা উপজেলা খেলাফত মজলিসের উদ্যােগে আয়োজিত এক নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য আরো বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলেও বিএনপির সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। অন্যদিকে ৫১% ভোটে সংসদ সদস্য হিসেবে তারা শপথ নিয়ে ক্ষমতালোভীর পরিচয় দিলেন।

প্রসঙ্গক্রমে আল্লামা মামুনুল হক বলেন, দু’টি জমজ সন্তানের মধ্যে একটি অবৈধ হলে, আরেকটি কিভাবে বৈধতা পায়(!)।

গণভোটের রায় ও জুলাই সনদের প্রস্তাবনা উপেক্ষা করে সরকার নিজেদের মনগড়া পথে হাঁটলে, তা আত্মঘাতী হবে বলে তিনি সতর্ক করেন। মামুনুল হক হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, দেশের জনগণ জীবন দিয়ে ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান রুখে দিবে।

সংবিধান সংস্কারের দাবি বাস্তবায়ন না হলে, নতুন কোনো ফ্যাসিবাদের জন্ম দিবে। তিনি বলেন, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই সনদের ওপর গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটের পক্ষে রায় দেয়। ৭০% গন ভোট অবৈধ হলে, ৫১% ধানের শীষের ভোটও অবৈধ।

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করায় সরকারের বিরুদ্ধে আমাদের রাজনৈতিক অবস্থান।

মামুনুল হক আরো বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার ১৭ বছর হাজার হাজার মানুষকে গুমখুন, জনগনের সম্পদ লুটতরাজ, বহু আলেম ওলামাকে হত্যা করেছে।

জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে এদেশের ছাত্র যুবক বিভিন্ন পেশার মানুষ অকাতরে প্রাণ দিয়ে ফ্যাসিবাদকে তাড়িয়েছে; ইনসাফ ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য।

তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও আপোষহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সন্তানকে ফ্যাসিবাদের পথে চলতে আমরা দিবনা। সরকারের মনে এক কথা, প্রকাশ ঘটান আরেক কথা; এটা মোনাফেকি।

সমাবেশে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিন আহমেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য পেশ করেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ন মহাসচিব মাওলানা আতা উল্যাহ আমিন, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আবু সাঈদ নোমান।

সভাপতিত্ব করবেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সুরা সদস্য ও বান্দরবান দক্ষিণ জেলা সভাপতি হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ তৈয়্যুব হোসেন। সঞ্চালনায় ছিলেন,

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সুরা সদস্য ও বান্দরবান দক্ষিণ জেলা সেক্রেটারি সমাবেশের আহ্বায়ক ডাক্তার মাওলানা শফিকুর রহমান। বক্তরা বলেন, খেলাফত ব্যতিত রাষ্ট্র সমাজে শান্তি সম্ভব নয়। দেশের মানুষ ফ্যাসিবাদের যুগে ১৭ বছর জেল জুলুমের শিকার হয়েছিল। দেশে ঘুষ দুর্নীতি কমেনাই, আরো বেড়েছে। সিন্ডিকেট মুক্ত বাংলাদেশ হয়নি এখনো।

ফ্যাসিবাদের চরিত্র বর্তমান সরকারের মধ্য লক্ষ করা যাচ্ছে। দেশে ৬ মাস ধরে নির্বাচিত সরকার আছে, বিদ্যুত নাই, গ্যাস নেই, যার কারণে অনেক কলকারখানা বন্ধ হয়ে শ্রমজীবীদের মধ্যে দুর্ভিক্ষ চলছে। তেল, চাল, ডালসহ নিত্যপন্যের আকাশচুম্বী মুল্য।  খুনখারাপি চাঁদাবাজি চলছে।

বিএনপি বলেছিলো তারা ক্ষমতায় গেলে, মানুষের জীবন মানোন্নয়ন হবে; কিন্তু বাস্তবতা তার উল্টো। অবিলম্বে দ্রব্যমুল্য কমাতে হবে, আইন শৃঙ্খলার উন্নয়ন করতে হবে; জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে। এসব না করলে জনগন সরকারকে লাল কার্ড দেখাবে।

বক্তারা আরো বলেন, সরকারের দ্বিচারিতা বন্ধ করে, একটি নিয়মতান্ত্রিক পক্রিয়ায়, সংবিধান সংস্কারের মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের হাতকে শক্তিশালী করে ইনসাফ ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান বক্তারা।

নাগরিক সমাবেশে বক্তব্য শেষে আসন্ন লামা পৌরসভা নির্বাচনে  বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের দক্ষিন জেলা সেক্রেটারি ডা: মাওলানা শফিকুর রহমানকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন আল্লামা মামুনুল হক।

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

বাঘাইছড়িতে সৈয়দ নুর মোহাম্মদ শাহ্ (রহ:)-এর ২৬তম ওফাত বার্ষিকী উপলক্ষে ওরশ মোবারক

Bandarban Tribune

লামায় নাগরিক সমাবেশে আল্লামা মামুনুল হক:

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও আপোষহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সন্তানকে ফ্যাসিবাদের পথে চলতে দিবনা

Update Time : ০৭:২৮:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

লামায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির শায়খুল হাদিস আল্লামা মামুনুল হক নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, সরকার ফ্যাসিবাদের পথে হাটছেন। নতুন স্বাধীন হওয়া বাংলাদেশে আর কোনো ফ্যাসিবাদী শক্তির উত্থান হতে দেবেনা বাংলার জনগন।

বৃহস্পতিবার (৩সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে চারটায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির শায়খুল হাদিস আল্লামা মামুনুল হক লামা উপজেলা খেলাফত মজলিসের উদ্যােগে আয়োজিত এক নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য আরো বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলেও বিএনপির সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। অন্যদিকে ৫১% ভোটে সংসদ সদস্য হিসেবে তারা শপথ নিয়ে ক্ষমতালোভীর পরিচয় দিলেন।

প্রসঙ্গক্রমে আল্লামা মামুনুল হক বলেন, দু’টি জমজ সন্তানের মধ্যে একটি অবৈধ হলে, আরেকটি কিভাবে বৈধতা পায়(!)।

গণভোটের রায় ও জুলাই সনদের প্রস্তাবনা উপেক্ষা করে সরকার নিজেদের মনগড়া পথে হাঁটলে, তা আত্মঘাতী হবে বলে তিনি সতর্ক করেন। মামুনুল হক হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, দেশের জনগণ জীবন দিয়ে ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান রুখে দিবে।

সংবিধান সংস্কারের দাবি বাস্তবায়ন না হলে, নতুন কোনো ফ্যাসিবাদের জন্ম দিবে। তিনি বলেন, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই সনদের ওপর গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটের পক্ষে রায় দেয়। ৭০% গন ভোট অবৈধ হলে, ৫১% ধানের শীষের ভোটও অবৈধ।

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করায় সরকারের বিরুদ্ধে আমাদের রাজনৈতিক অবস্থান।

মামুনুল হক আরো বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার ১৭ বছর হাজার হাজার মানুষকে গুমখুন, জনগনের সম্পদ লুটতরাজ, বহু আলেম ওলামাকে হত্যা করেছে।

জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে এদেশের ছাত্র যুবক বিভিন্ন পেশার মানুষ অকাতরে প্রাণ দিয়ে ফ্যাসিবাদকে তাড়িয়েছে; ইনসাফ ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য।

তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও আপোষহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সন্তানকে ফ্যাসিবাদের পথে চলতে আমরা দিবনা। সরকারের মনে এক কথা, প্রকাশ ঘটান আরেক কথা; এটা মোনাফেকি।

সমাবেশে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিন আহমেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য পেশ করেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ন মহাসচিব মাওলানা আতা উল্যাহ আমিন, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আবু সাঈদ নোমান।

সভাপতিত্ব করবেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সুরা সদস্য ও বান্দরবান দক্ষিণ জেলা সভাপতি হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ তৈয়্যুব হোসেন। সঞ্চালনায় ছিলেন,

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সুরা সদস্য ও বান্দরবান দক্ষিণ জেলা সেক্রেটারি সমাবেশের আহ্বায়ক ডাক্তার মাওলানা শফিকুর রহমান। বক্তরা বলেন, খেলাফত ব্যতিত রাষ্ট্র সমাজে শান্তি সম্ভব নয়। দেশের মানুষ ফ্যাসিবাদের যুগে ১৭ বছর জেল জুলুমের শিকার হয়েছিল। দেশে ঘুষ দুর্নীতি কমেনাই, আরো বেড়েছে। সিন্ডিকেট মুক্ত বাংলাদেশ হয়নি এখনো।

ফ্যাসিবাদের চরিত্র বর্তমান সরকারের মধ্য লক্ষ করা যাচ্ছে। দেশে ৬ মাস ধরে নির্বাচিত সরকার আছে, বিদ্যুত নাই, গ্যাস নেই, যার কারণে অনেক কলকারখানা বন্ধ হয়ে শ্রমজীবীদের মধ্যে দুর্ভিক্ষ চলছে। তেল, চাল, ডালসহ নিত্যপন্যের আকাশচুম্বী মুল্য।  খুনখারাপি চাঁদাবাজি চলছে।

বিএনপি বলেছিলো তারা ক্ষমতায় গেলে, মানুষের জীবন মানোন্নয়ন হবে; কিন্তু বাস্তবতা তার উল্টো। অবিলম্বে দ্রব্যমুল্য কমাতে হবে, আইন শৃঙ্খলার উন্নয়ন করতে হবে; জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে। এসব না করলে জনগন সরকারকে লাল কার্ড দেখাবে।

বক্তারা আরো বলেন, সরকারের দ্বিচারিতা বন্ধ করে, একটি নিয়মতান্ত্রিক পক্রিয়ায়, সংবিধান সংস্কারের মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের হাতকে শক্তিশালী করে ইনসাফ ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান বক্তারা।

নাগরিক সমাবেশে বক্তব্য শেষে আসন্ন লামা পৌরসভা নির্বাচনে  বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের দক্ষিন জেলা সেক্রেটারি ডা: মাওলানা শফিকুর রহমানকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন আল্লামা মামুনুল হক।