Lama ০৯:১০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ধারাবাহিক প্রতিবেদন-১

লামা বন বিভাগে সংরক্ষিত বন উজাড়: ডিএফও মোস্তাফিজুর রহমান বন সংরক্ষক মিহির কুমার দে’র, বিরুদ্ধে অভিযোগ

লামা বন বিভাগের সরকারি বনজ সম্পদ ধ্বংস, দুর্নীতি, অনিয়ম ও অবৈধ বনজ সম্পদ পাচারের সাথে জড়িত বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমানসহ বন সংরক্ষক মিহির কুমার দে’র, বিরুদ্ধে অভিযোগ। নিরপেক্ষ তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর কাছে অভিযোগ করেন মনছুর নামের এক নাগরিক। নাতিদীর্ঘ এই অভিযোগে উল্লেখ করা হয়;

পার্বত্য অঞ্চলের পানির উৎস, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় সংরক্ষিত বনাঞ্চল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় যে, লামা বন বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন রিজার্ভ বন বর্তমানে একটি সংঘবদ্ধ দুর্নীতিবাজ চক্রের মাধ্যমে নির্বিচারে ধ্বংস ও লুষ্ঠনের শিকার হচ্ছে।

বিগত অক্টোবর ২০২৪ ইং তারিখে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মোস্তাফিজুর রহমান লামা বন বিভাগে যোগদান করেন। তিনি যোগদানের পর হতে চট্টগ্রাম অঞ্চলের সিএফ জনাব মিহির কুমার দে এর মদদে রিজার্ভ ফরেস্টের গাছ পাচার, নামমাত্র টিপি প্রদান, অবৈধভাবে পাচারকৃত কাঠ বিক্রির টাকা উত্তোলন এবং তথাকথিত “গোল্ড রিজার্ভ” ধ্বংসের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পায়। অভিযোগ রয়েছে যে, ডিএফও পূর্বে রাঙ্গামাটি বন বিভাগে কর্মরত থাকাকালীন বিভিন্ন অনিয়ম ও রিজার্ভ ফরেস্টের গাছ বিক্রির অভিযোগে ওএসডি হয়েছিলেন। পরবর্তীতে সিএফ এর প্রভাব খাটিয়ে পুনরায় লামা বন বিভাগে বদলি হয়ে এসে পূর্ববর্তী দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের, সহায়তায় একই কার্যক্রম অব্যাহত রাখছেন।

এছাড়াও, ২৮/০৭/২০২৬ খ্রিস্টাব্দ তারিখে ডিএফও মোস্তাফিজুর রহমান লামা উপজেলার নিষিদ্ধ ঘোষিত এক ছাত্রলীগ কর্মীকে তৈন রেঞ্জের রিজার্ভ বনাঞ্চলে মৌখিকভাবে গাছ কাটার অনুমতি প্রদান করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। উক্ত ব্যক্তি সেই সুযোগে সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে ৩০টির অধিক গাছ কর্তন করে নিয়ে যায়।

পরবর্তীতে স্থানীয়দের অভিযোগের প্রেক্ষিতে নাটকীয় ভাবে নামমাত্র কয়েক টুকরো গাছ জব্দ করে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালানো হয়। বিষয়টি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্তের মাধ্যমে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান এর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, অবৈধ কাঠ পাচার চক্রের কার্যক্রম বন্ধ এবং সংরক্ষিত বনাঞ্চল রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানিয়েছেন।

লামা বন বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ বমু, মাতামুহরী ও তৈন রিজার্ভ ফরেস্টে ব্যাপকভাবে বন উজাড় করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে যে, সিএফ জনাব মিহির কুমার দে এর প্রত্যক্ষ মদদে ডিএফও মোস্তাফিজুর রহমানের অদক্ষ নিয়ন্ত্রণে শতবর্ষী মাদার ট্রি বা মাতৃগাছ কেটে পাচার হয়ে যায়। গত ০২/০১/২০২৫ ইং এবং ১৭/০২/২০২৬ ইং তারিখে জব্দকৃত অবৈধ কাঠ বোঝাই ট্রাকসমূহ উক্ত অনিয়মের সুস্পষ্ট প্রমাণ বহন করে। ডিএফও মোস্তাফিজুর রহমান মাসিক মাসোহারা প্রদানের মাধ্যমে সিএফ মিহির কুমার দে এর সুরক্ষায় প্রকাশ্যে লাগামহীন অনিয়ম ও দূর্নীতি করে আসছে।

ডিএফও মোস্তাফিজুর রহমান ইয়াংছা মৌজার “এফএল-৫০” (যার মালিক আব্বাস) নামে নামমাত্র ফ্রি পারমিট দেখিয়ে ১৯,০০০ সিএফটি কাঠ পাচার করে। সবচেয়ে ভয়ংকর সত্য হলো উক্ত বাগান হইতে একটি গাছও কর্তন করা হয় নি। এই পারমিটের আদলে মাতামুহরী, তৈন, মানিকপুরসহ বিভিন্ন রিজার্ভ ফরেস্টের গাছ অবৈধভাবে কেটে পাচার করা হয়।

এফএল-৫০ এর মতো আরো অনেক পারমিটের আদলে বন বিভাগের সহযোগিতায় সরকারি বনাঞ্চলের গাছ পাচার, করে আসছে। এই বিশেষ সুবিধা দেওয়ার জন্য লক্ষ কোটি টাকা ডিএফও’র সিন্ডিকেট ঘুষ আদায় করে। যার একটি নির্দিষ্ট অংশ যায় সিএফ মিহির কুমার দে এর পকেটে।

বিগত ৩ (তিন) হইতে ৬ (ছয়) মাসের মধ্যে দেশ প্রেমিক বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করে অবৈধভাবে বনজ গাছ পরিবহনকারী মোট ০৬ (ছয়)টি গাড়ি জব্দ করে এবং পরবর্তীতে উক্ত গাড়িসমূহসহ উদ্ধারকৃত অবৈধ কাঠ বন বিভাগের নিকট হস্তান্তর করেন। এছাড়াও বিগত ২২/০৬/২০২৬ইং তারিখ আলীকদম সেনা জোন কর্তৃক অবৈধ কাঠ পাচারকারী ০২ টি গাড়ি জব্দ করে বন বিভাগ কে হস্তান্তর করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে যে, সিএফ মিহির কুমার দে এর প্রত্যক্ষ মদদে ডিএফও মোস্তাফিজুর রহমান প্রতি গাড়ি বাবদ আড়াই হইতে তিন লক্ষ টাকা ঘুষ গ্রহণের মাধ্যমে ঘটনাগুলোর প্রকৃত অপরাধ গোপন করে নামমাত্র অপরাধ দেখিয়ে বিজ্ঞ আদালতে মামলা দায়ের করেন। ফলে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা খুব সহজেই জামিন ও আইনি সুবিধা লাভ করিয়া জব্দকৃত গাড়ি ও কাঠ ছাড়ায় নিতে সক্ষম হয়।

চলবে…..

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

বাঘাইছড়িতে সৈয়দ নুর মোহাম্মদ শাহ্ (রহ:)-এর ২৬তম ওফাত বার্ষিকী উপলক্ষে ওরশ মোবারক

Bandarban Tribune

ধারাবাহিক প্রতিবেদন-১

লামা বন বিভাগে সংরক্ষিত বন উজাড়: ডিএফও মোস্তাফিজুর রহমান বন সংরক্ষক মিহির কুমার দে’র, বিরুদ্ধে অভিযোগ

Update Time : ০৮:০৮:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

লামা বন বিভাগের সরকারি বনজ সম্পদ ধ্বংস, দুর্নীতি, অনিয়ম ও অবৈধ বনজ সম্পদ পাচারের সাথে জড়িত বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমানসহ বন সংরক্ষক মিহির কুমার দে’র, বিরুদ্ধে অভিযোগ। নিরপেক্ষ তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর কাছে অভিযোগ করেন মনছুর নামের এক নাগরিক। নাতিদীর্ঘ এই অভিযোগে উল্লেখ করা হয়;

পার্বত্য অঞ্চলের পানির উৎস, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় সংরক্ষিত বনাঞ্চল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় যে, লামা বন বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন রিজার্ভ বন বর্তমানে একটি সংঘবদ্ধ দুর্নীতিবাজ চক্রের মাধ্যমে নির্বিচারে ধ্বংস ও লুষ্ঠনের শিকার হচ্ছে।

বিগত অক্টোবর ২০২৪ ইং তারিখে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মোস্তাফিজুর রহমান লামা বন বিভাগে যোগদান করেন। তিনি যোগদানের পর হতে চট্টগ্রাম অঞ্চলের সিএফ জনাব মিহির কুমার দে এর মদদে রিজার্ভ ফরেস্টের গাছ পাচার, নামমাত্র টিপি প্রদান, অবৈধভাবে পাচারকৃত কাঠ বিক্রির টাকা উত্তোলন এবং তথাকথিত “গোল্ড রিজার্ভ” ধ্বংসের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পায়। অভিযোগ রয়েছে যে, ডিএফও পূর্বে রাঙ্গামাটি বন বিভাগে কর্মরত থাকাকালীন বিভিন্ন অনিয়ম ও রিজার্ভ ফরেস্টের গাছ বিক্রির অভিযোগে ওএসডি হয়েছিলেন। পরবর্তীতে সিএফ এর প্রভাব খাটিয়ে পুনরায় লামা বন বিভাগে বদলি হয়ে এসে পূর্ববর্তী দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের, সহায়তায় একই কার্যক্রম অব্যাহত রাখছেন।

এছাড়াও, ২৮/০৭/২০২৬ খ্রিস্টাব্দ তারিখে ডিএফও মোস্তাফিজুর রহমান লামা উপজেলার নিষিদ্ধ ঘোষিত এক ছাত্রলীগ কর্মীকে তৈন রেঞ্জের রিজার্ভ বনাঞ্চলে মৌখিকভাবে গাছ কাটার অনুমতি প্রদান করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। উক্ত ব্যক্তি সেই সুযোগে সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে ৩০টির অধিক গাছ কর্তন করে নিয়ে যায়।

পরবর্তীতে স্থানীয়দের অভিযোগের প্রেক্ষিতে নাটকীয় ভাবে নামমাত্র কয়েক টুকরো গাছ জব্দ করে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালানো হয়। বিষয়টি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্তের মাধ্যমে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান এর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, অবৈধ কাঠ পাচার চক্রের কার্যক্রম বন্ধ এবং সংরক্ষিত বনাঞ্চল রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানিয়েছেন।

লামা বন বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ বমু, মাতামুহরী ও তৈন রিজার্ভ ফরেস্টে ব্যাপকভাবে বন উজাড় করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে যে, সিএফ জনাব মিহির কুমার দে এর প্রত্যক্ষ মদদে ডিএফও মোস্তাফিজুর রহমানের অদক্ষ নিয়ন্ত্রণে শতবর্ষী মাদার ট্রি বা মাতৃগাছ কেটে পাচার হয়ে যায়। গত ০২/০১/২০২৫ ইং এবং ১৭/০২/২০২৬ ইং তারিখে জব্দকৃত অবৈধ কাঠ বোঝাই ট্রাকসমূহ উক্ত অনিয়মের সুস্পষ্ট প্রমাণ বহন করে। ডিএফও মোস্তাফিজুর রহমান মাসিক মাসোহারা প্রদানের মাধ্যমে সিএফ মিহির কুমার দে এর সুরক্ষায় প্রকাশ্যে লাগামহীন অনিয়ম ও দূর্নীতি করে আসছে।

ডিএফও মোস্তাফিজুর রহমান ইয়াংছা মৌজার “এফএল-৫০” (যার মালিক আব্বাস) নামে নামমাত্র ফ্রি পারমিট দেখিয়ে ১৯,০০০ সিএফটি কাঠ পাচার করে। সবচেয়ে ভয়ংকর সত্য হলো উক্ত বাগান হইতে একটি গাছও কর্তন করা হয় নি। এই পারমিটের আদলে মাতামুহরী, তৈন, মানিকপুরসহ বিভিন্ন রিজার্ভ ফরেস্টের গাছ অবৈধভাবে কেটে পাচার করা হয়।

এফএল-৫০ এর মতো আরো অনেক পারমিটের আদলে বন বিভাগের সহযোগিতায় সরকারি বনাঞ্চলের গাছ পাচার, করে আসছে। এই বিশেষ সুবিধা দেওয়ার জন্য লক্ষ কোটি টাকা ডিএফও’র সিন্ডিকেট ঘুষ আদায় করে। যার একটি নির্দিষ্ট অংশ যায় সিএফ মিহির কুমার দে এর পকেটে।

বিগত ৩ (তিন) হইতে ৬ (ছয়) মাসের মধ্যে দেশ প্রেমিক বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করে অবৈধভাবে বনজ গাছ পরিবহনকারী মোট ০৬ (ছয়)টি গাড়ি জব্দ করে এবং পরবর্তীতে উক্ত গাড়িসমূহসহ উদ্ধারকৃত অবৈধ কাঠ বন বিভাগের নিকট হস্তান্তর করেন। এছাড়াও বিগত ২২/০৬/২০২৬ইং তারিখ আলীকদম সেনা জোন কর্তৃক অবৈধ কাঠ পাচারকারী ০২ টি গাড়ি জব্দ করে বন বিভাগ কে হস্তান্তর করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে যে, সিএফ মিহির কুমার দে এর প্রত্যক্ষ মদদে ডিএফও মোস্তাফিজুর রহমান প্রতি গাড়ি বাবদ আড়াই হইতে তিন লক্ষ টাকা ঘুষ গ্রহণের মাধ্যমে ঘটনাগুলোর প্রকৃত অপরাধ গোপন করে নামমাত্র অপরাধ দেখিয়ে বিজ্ঞ আদালতে মামলা দায়ের করেন। ফলে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা খুব সহজেই জামিন ও আইনি সুবিধা লাভ করিয়া জব্দকৃত গাড়ি ও কাঠ ছাড়ায় নিতে সক্ষম হয়।

চলবে…..