Lama ০১:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আনোয়ারা সাবরেজিস্ট্রি অফিসে মালেকের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ 

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:২৯:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
  • ১৫ Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক :

চট্টগ্রামের আনোয়ারা সাবরেজিস্ট্রার অফিসে দলিল নিবন্ধনের সময় সরকারি নির্ধারিত ফি-রাজস্বের বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় অফিসের মোহরার মালেকের বিরুদ্ধে দলিল সম্পাদনের সময় অতিরিক্ত টাকা দাবি এবং একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

বিজ্ঞাপন

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (৩০ জুন) ভাই-বোনের মধ্যে প্রায় ২ কোটি ৭৮ লাখ ২৭ হাজার টাকা মূল্যের একটি হেবা দলিল নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি রাজস্ব পরিশোধ করা হয়। দলিল নিবন্ধনের সময় মোহরার মালেক সরকারি ফি ছাড়াও অতিরিক্ত ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ। দাবিকৃত ওই অর্থ কীসের জন্য নেওয়া হচ্ছে জানতে চাইল, সে সেটিকে “অফিসের খরচ” বলে উল্লেখ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরে দরকষাকষির একপর্যায়ে ২০ হাজার টাকা দেওয়ার পর দলিলের নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয় বলে দাবি করেন অভিযোগকারীরা। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের লক্ষ্যে দুই সংবাদকর্মী পরিচয় গোপন রেখে সেবাগ্রহীতা সেজে সংশ্লিষ্ট মোহরারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাদের দাবি, দলিলের কাজ সম্পন্ন করতে সরকারি ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয়।

পরবর্তীতে ২০ হাজার টাকা দেওয়ার পর প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মোহরার মালেকের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি অতিরিক্ত অর্থকে “অফিসের খরচ” বলে মৌখিকভাবে উল্লেখ করেন বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে আনোয়ারা সাবরেজিস্টার জুবায়ের হোসেনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এদিকে আনোয়ারার বিভিন্ন সেবাগ্রহীতা অভিযোগ করেছেন, সাবরেজিস্ট্রার অফিসে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ থাকলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

তারা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একই সঙ্গে ঘটনার দিনের সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ ও সংগ্রহ করে তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

সেবাগ্রহীতাদের দাবি, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে সরকারি নির্ধারিত ফি ছাড়া অতিরিক্ত অর্থ আদায় বন্ধে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ নিশ্চিত করা হোক।

মালেকের ঘুষ বাণিজ্য নিয়ে অনুসন্ধানী পর্ব চলবে…….

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

আলীকদমের ৭ মাসের শিশু নিখোঁজ, হাসপাতালে মিলল আরেক শিশু

Bandarban Tribune

আনোয়ারা সাবরেজিস্ট্রি অফিসে মালেকের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ 

Update Time : ০৬:২৯:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক :

চট্টগ্রামের আনোয়ারা সাবরেজিস্ট্রার অফিসে দলিল নিবন্ধনের সময় সরকারি নির্ধারিত ফি-রাজস্বের বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় অফিসের মোহরার মালেকের বিরুদ্ধে দলিল সম্পাদনের সময় অতিরিক্ত টাকা দাবি এবং একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

বিজ্ঞাপন

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (৩০ জুন) ভাই-বোনের মধ্যে প্রায় ২ কোটি ৭৮ লাখ ২৭ হাজার টাকা মূল্যের একটি হেবা দলিল নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি রাজস্ব পরিশোধ করা হয়। দলিল নিবন্ধনের সময় মোহরার মালেক সরকারি ফি ছাড়াও অতিরিক্ত ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ। দাবিকৃত ওই অর্থ কীসের জন্য নেওয়া হচ্ছে জানতে চাইল, সে সেটিকে “অফিসের খরচ” বলে উল্লেখ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরে দরকষাকষির একপর্যায়ে ২০ হাজার টাকা দেওয়ার পর দলিলের নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয় বলে দাবি করেন অভিযোগকারীরা। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের লক্ষ্যে দুই সংবাদকর্মী পরিচয় গোপন রেখে সেবাগ্রহীতা সেজে সংশ্লিষ্ট মোহরারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাদের দাবি, দলিলের কাজ সম্পন্ন করতে সরকারি ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয়।

পরবর্তীতে ২০ হাজার টাকা দেওয়ার পর প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মোহরার মালেকের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি অতিরিক্ত অর্থকে “অফিসের খরচ” বলে মৌখিকভাবে উল্লেখ করেন বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে আনোয়ারা সাবরেজিস্টার জুবায়ের হোসেনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এদিকে আনোয়ারার বিভিন্ন সেবাগ্রহীতা অভিযোগ করেছেন, সাবরেজিস্ট্রার অফিসে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ থাকলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

তারা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একই সঙ্গে ঘটনার দিনের সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ ও সংগ্রহ করে তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

সেবাগ্রহীতাদের দাবি, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে সরকারি নির্ধারিত ফি ছাড়া অতিরিক্ত অর্থ আদায় বন্ধে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ নিশ্চিত করা হোক।

মালেকের ঘুষ বাণিজ্য নিয়ে অনুসন্ধানী পর্ব চলবে…….