Lama ০২:৩০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আজ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এঁর ৪৫ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:২৬:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
  • ১২০ Time View

ট্রিভিউন ডেস্ক:-

বাংলাদেশের ষষ্ঠ রাষ্ট্রপতি জেঃ জিয়াউর রহমান ১৯৮১ সালের ৩০ মে দক্ষিণ-পূর্ব বন্দর নগরী চট্টগ্রামে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একদল উচ্ছৃঙ্খল সদস্যদের হাতে নিহত হন-শাহদাৎ বরণ করেন।

রাষ্ট্রপতি জেঃ জিয়াউর রহমান তার রাজনৈতিক দল, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর স্থানীয় নেতাদের মধ্যে একটি সংঘর্ষে মধ্যস্থতা করতে চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন ।

৩০ মে রাতে, একদল উচ্ছৃঙ্খল ভারত মদদপুষ্ট সামরিক কর্মকর্তা চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস, একটি সরকারি বাসভবন যেখানে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান অবস্থান করছিলেন, সেটি দখল করে তাকে এবং আরও কয়েকজনকে গুলি করে হত্যা করে।

এর আগে তিঁনি ১৯৭১ সালে ২৫ মার্চ রাতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ঘোষণা দিয়ে ৯ মাস পাক বাহিনীর সাথে মুখোমুখি যুদ্ধ করেছিলেন। পরবর্তীতে তিঁনি রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠত হয়ে বহুদলীয় গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন।

১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমের কাছ থেকে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে জিয়াউর রহমানের বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে কার্যকাল শুরু হয়।

দেশের রাজনীতিতে প্রতিযোগিতা সৃষ্টির ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেছিলেন, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে, প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান তার শাসনের বিষয়ে জনগণের মতামত জানার জন্য একটি আস্থা গণভোটের ঘোষণা দেন।

১৯৭৭ সালের ৩০শে মে অনুষ্ঠিত গণভোট রাজনৈতিক ভাষ্যকার ও পর্যবেক্ষকদের হতবাক করে দিয়েছিল। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের মতে, জিয়াউর রহমান ৯৮.৮৭% ভোট পেয়েছিলেন এবং মাত্র ১% ভোটার তার মতামতের বিরোধিতা করেছিলেন। যা প্রক্রিয়াটি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছিল তৎকালীন সমালোচকেরা।

পরের বছর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ঘোষণা দেন। রাজনৈতিক বিপ্লবের পর বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত সেটিই ছিল প্রথম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন।

জিয়াউর রহমান জাতীয়তাবাদী ফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এটি ছিল একটি ছয়-দলীয় জোট, যার এক দিকে মুসলিম লীগের মতো ইসলামপন্থী দল এবং অন্য দিকে ফেডারেশন অফ শিডিউল্ড কাস্টের মতো সংখ্যালঘু-নেতৃত্বাধীন দল অন্তর্ভুক্ত ছিল।

তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জেনারেল এম. এ. জি. ওসমানী , যিনি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ মুক্তি বাহিনীর সর্বাধিনায়ক ছিলেন এবং আওয়ামী লীগ ও কিছু বামপন্থী দলের মঞ্চ গণতান্ত্রিক জোটের সমর্থন পেয়েছিলেন।

আতাউর রহমানের নেতৃত্বে ডেমোক্রেটিক লীগ, ইসলামিক ডেমোক্রেটিক লীগ , জাতীয় দল, জাতীয় লীগ এবং কৃষক শ্রমিক পার্টি সহ বেশ কয়েকটি দল নির্বাচন বর্জন করেছিলেন।

সূত্র: জাতীয় তথ্য কোষ

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

বাঘাইছড়িতে সৈয়দ নুর মোহাম্মদ শাহ্ (রহ:)-এর ২৬তম ওফাত বার্ষিকী উপলক্ষে ওরশ মোবারক

Bandarban Tribune

আজ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এঁর ৪৫ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী

Update Time : ০২:২৬:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬

ট্রিভিউন ডেস্ক:-

বাংলাদেশের ষষ্ঠ রাষ্ট্রপতি জেঃ জিয়াউর রহমান ১৯৮১ সালের ৩০ মে দক্ষিণ-পূর্ব বন্দর নগরী চট্টগ্রামে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একদল উচ্ছৃঙ্খল সদস্যদের হাতে নিহত হন-শাহদাৎ বরণ করেন।

রাষ্ট্রপতি জেঃ জিয়াউর রহমান তার রাজনৈতিক দল, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর স্থানীয় নেতাদের মধ্যে একটি সংঘর্ষে মধ্যস্থতা করতে চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন ।

৩০ মে রাতে, একদল উচ্ছৃঙ্খল ভারত মদদপুষ্ট সামরিক কর্মকর্তা চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস, একটি সরকারি বাসভবন যেখানে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান অবস্থান করছিলেন, সেটি দখল করে তাকে এবং আরও কয়েকজনকে গুলি করে হত্যা করে।

এর আগে তিঁনি ১৯৭১ সালে ২৫ মার্চ রাতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ঘোষণা দিয়ে ৯ মাস পাক বাহিনীর সাথে মুখোমুখি যুদ্ধ করেছিলেন। পরবর্তীতে তিঁনি রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠত হয়ে বহুদলীয় গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন।

১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমের কাছ থেকে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে জিয়াউর রহমানের বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে কার্যকাল শুরু হয়।

দেশের রাজনীতিতে প্রতিযোগিতা সৃষ্টির ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেছিলেন, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে, প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান তার শাসনের বিষয়ে জনগণের মতামত জানার জন্য একটি আস্থা গণভোটের ঘোষণা দেন।

১৯৭৭ সালের ৩০শে মে অনুষ্ঠিত গণভোট রাজনৈতিক ভাষ্যকার ও পর্যবেক্ষকদের হতবাক করে দিয়েছিল। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের মতে, জিয়াউর রহমান ৯৮.৮৭% ভোট পেয়েছিলেন এবং মাত্র ১% ভোটার তার মতামতের বিরোধিতা করেছিলেন। যা প্রক্রিয়াটি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছিল তৎকালীন সমালোচকেরা।

পরের বছর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ঘোষণা দেন। রাজনৈতিক বিপ্লবের পর বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত সেটিই ছিল প্রথম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন।

জিয়াউর রহমান জাতীয়তাবাদী ফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এটি ছিল একটি ছয়-দলীয় জোট, যার এক দিকে মুসলিম লীগের মতো ইসলামপন্থী দল এবং অন্য দিকে ফেডারেশন অফ শিডিউল্ড কাস্টের মতো সংখ্যালঘু-নেতৃত্বাধীন দল অন্তর্ভুক্ত ছিল।

তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জেনারেল এম. এ. জি. ওসমানী , যিনি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ মুক্তি বাহিনীর সর্বাধিনায়ক ছিলেন এবং আওয়ামী লীগ ও কিছু বামপন্থী দলের মঞ্চ গণতান্ত্রিক জোটের সমর্থন পেয়েছিলেন।

আতাউর রহমানের নেতৃত্বে ডেমোক্রেটিক লীগ, ইসলামিক ডেমোক্রেটিক লীগ , জাতীয় দল, জাতীয় লীগ এবং কৃষক শ্রমিক পার্টি সহ বেশ কয়েকটি দল নির্বাচন বর্জন করেছিলেন।

সূত্র: জাতীয় তথ্য কোষ