Lama ০১:২০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বান্দরবান জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নিয়োগে পুরোনো রীতির অবসান করে বৃহত্তর লামা থেকে চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয়া হউক

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:৪৪:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬
  • ২০৪ Time View

ট্রিভিউন ডেস্ক:-

বিএনপি সরকার গঠন করেছেন। এখন তিন জেলা পরিষদ নতুন করে গঠন করার রূপরেখা তৈরি হচ্ছে বা হয়েছে। আমরা আমজনতা এতদবিষয়ে জানার অধিকার রাখি।

এই জন্যেই অধিকার রাখি, কারণ তিন জেলার জেলা পরিষদগুলো স্ব স্ব জেলায় বসবাসরত জাতিগোষ্ঠীর উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। স্থানীয় সরকারে বিভিন্ন ন্যাস্ত বিভাগ সমুহে চাকুরীতে নিয়োগসহ হাঠ বাজার, বিভিন্ন টুলপয়েন্টে ইজারাদার নিয়োগ, গ্রামীন, ধর্মীয়, সামাজিক অবকাঠামো নির্মাণ, সংস্কার উন্নয়ন জেলা পরিষদগুলো ইত্যাতি কাজ করে থাকেন।

বিগত ২৪’র  ছাত্র জনতার গনঅভ্যুত্থানের পর সারা দেশের ন্যায় তিন পাহাড়ের জেলার জেলা (দলীয়)পরিষদ, পৌর পরিষদ, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ (চেয়ারম্যান) সমুহে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের পদ শুণ্য করে দেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

শুন্য পদ সমুহে প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে প্রায় দেড় বছর তারও বেশি সময় ধরে কার্যক্রম চলছে। স্থানীয় সরকারের সকল সেক্টরে নির্বাচনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়। ১৯৮৯ সালে পার্বত্য তিন জেলা ‘স্থানীয় সরকার পরিষদ’ গঠন করে প্রথম নির্বাচন হয়েছিলো। সে নির্বাচনে ১ জন উপজাতি চেয়ারম্যান ও জনসংখ্যার আনুপাতিক হারে ৩০ জন পাহাড়ি ও বাঙালি সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলো।

বিগত ১৯৯৭ সালের ২রা ডিসেম্বর জেএসএস বনাম তৎকালীণ সরকারের স্থানীয় সরকার মন্ত্রী আবুল হাসনাত আবদুল্লা গংয়ের সাথে কথিত ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি’ স্বাক্ষরের পর পাহাড়ের তিন জেলা স্থানীয় সরকার পরিষদ নাম বদলিয়ে ‘জেলা পরিষদ’ নাম করণ করা হয়। এর পর থেকে পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা অনির্বাচিত দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ হয়ে আসছে।

বিগত দিনে রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি; এই দুই জেলা পরিষদের গঠন পক্রিয়ার সাথে বান্দরবান জেলা পরিষদ গঠন রীতিতে ভিন্নতা দেখা গেছে। বান্দরবানে সরকার দলীয় এমপি ছিলেন বীর বাহাদুর উশৈসিং। আওয়ামীলীগ যত বার ক্ষমতায় ছিলেন, ততবারই চেয়ারম্যান পদটি এমপি পত্নীর বড় ভাই ক্য শৈলা মার্মার জন্য নির্লজভাবে সংরক্ষিত ছিলো।

জেলা ব্যাপি ব্যাপক উন্নয়নের দৃশ্যত অবদান ছিলো পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন বোর্ডের কাজ কর্ম। জেলা পরিষদ চাকুরীতে নিয়োগ বাণিজ্য ব্যতিত জনগোষ্ঠীর আশানুরুপ উন্নয়ন দেখাতে পারেননি।

এ কারণেই মূলতঃ বান্দরবানে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সদস্য নিয়োগ ও পাওয়া না পাওয়ার নানান সমিকরণ নিয়ে আওয়ামী লীগের মধ্যে দলীয় বিভেদের জন্ম নেয়। যা নিয়ে ২০১৩ সালে লামা উপজেলায় আওয়ামী লীগের একাংশ ক্ষুব্ধ বিক্ষুব্ধ ছিলো। ওই সময় আওয়ামী লীগের জেলা নেতা প্রসন্ন তঞ্চঙ্গার নেতৃত্বে দলের মধ্যে ভাঙন দেখা দিয়েছিলো।

সে ভাঙনের মূখে ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকার বিপরীতে বিদ্রোহী প্রার্থী প্রসন্ন তঞ্চঙ্গা এক কঠিন চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হন। অবশেষে নির্বাচন পরবর্তী দলকে ঘুচিয়ে রাখার ভূমিকা ছিলো বীর বাহাদুর এঁর সর্বজন গ্রহনযোগ্য নেতৃত্বের ফলশ্রুতি।

বান্দরবান জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এঁর পদটি

সেই ঘরোয়া প্রতিনিধিত্ব শিকলবন্দি হওয়ায়, নিরবে গৃহ কোন্দল ভিতরে ভিতরে আওয়ামী লীগের মধ্যে আন্তরিকতা ক্ষয়প্রাপ্ত হতে থাকে।

এসব ঘটনার জের ধরে নড়ে বসেন জেলা কেন্দ্রিক নেতৃত্বদানকারীরা।

২০১৪ সালে জেলা পরিষদে দক্ষিন বান্দরবান; লামা-আলীকদম ও নাইক্ষংছড়ি উপজেলা থেকে  সদস্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর মধ্যেদিয়ে লামা-আলীকদম ও নাইক্ষংছড়ি উপজেলায় প্রতিনিধিত্বের বিকাশ ঘটেছিলো।

২৪’র গনঅভ্যুত্থানের পর (বর্তমান) গঠিত পরিষদে সকল উপজেলা থেকে প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হয়। কিন্তু জেলার সর্ববৃহৎ উপজেলা লামা থেকে পরিষদে কোনো সদস্য রাখা হয় নাই। যা লামাবাসীকে হতাশ ও লজ্জিত করেছে।

বর্তমান নতুন বাংলাদেশ নতুন সরকার। আমরা আমজনতা আশা করবো; সকল অনিয়ম দুর্ণীতি, স্বজনপ্রীতি, ঘরোয়া রাজনীতি, প্রতিনিধিত্বের অবসান হোক।

দলীয় ও যোগ্যতার মানদন্ডে যেন ৭ উপজেলা থেকে চেয়ারম্যান ও সদস্য নিয়োগের ক্ষেত্রে জনসংখ্যার আনুপাতিক বিচার যেন কোনো অবিচার না হয়। অধিকার  যেন ন্যার্যতার মাপকাঠিতে হয়। জেলা পরিষদ গঠিত হোক এতে একজন বাঙালি ভাইস চেয়ারম্যান দেয়া হোক।

লামাবাসীর দাবি এবার বৃহত্তর লামা থেকে চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয়া হউক। সদস্য নিয়োগে নির্লোভ ত্যাগি লোকদেরকে প্রাধান্য দেয়া হউক।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

বাঘাইছড়িতে সৈয়দ নুর মোহাম্মদ শাহ্ (রহ:)-এর ২৬তম ওফাত বার্ষিকী উপলক্ষে ওরশ মোবারক

Bandarban Tribune

বান্দরবান জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নিয়োগে পুরোনো রীতির অবসান করে বৃহত্তর লামা থেকে চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয়া হউক

Update Time : ১০:৪৪:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬

ট্রিভিউন ডেস্ক:-

বিএনপি সরকার গঠন করেছেন। এখন তিন জেলা পরিষদ নতুন করে গঠন করার রূপরেখা তৈরি হচ্ছে বা হয়েছে। আমরা আমজনতা এতদবিষয়ে জানার অধিকার রাখি।

এই জন্যেই অধিকার রাখি, কারণ তিন জেলার জেলা পরিষদগুলো স্ব স্ব জেলায় বসবাসরত জাতিগোষ্ঠীর উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। স্থানীয় সরকারে বিভিন্ন ন্যাস্ত বিভাগ সমুহে চাকুরীতে নিয়োগসহ হাঠ বাজার, বিভিন্ন টুলপয়েন্টে ইজারাদার নিয়োগ, গ্রামীন, ধর্মীয়, সামাজিক অবকাঠামো নির্মাণ, সংস্কার উন্নয়ন জেলা পরিষদগুলো ইত্যাতি কাজ করে থাকেন।

বিগত ২৪’র  ছাত্র জনতার গনঅভ্যুত্থানের পর সারা দেশের ন্যায় তিন পাহাড়ের জেলার জেলা (দলীয়)পরিষদ, পৌর পরিষদ, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ (চেয়ারম্যান) সমুহে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের পদ শুণ্য করে দেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

শুন্য পদ সমুহে প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে প্রায় দেড় বছর তারও বেশি সময় ধরে কার্যক্রম চলছে। স্থানীয় সরকারের সকল সেক্টরে নির্বাচনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়। ১৯৮৯ সালে পার্বত্য তিন জেলা ‘স্থানীয় সরকার পরিষদ’ গঠন করে প্রথম নির্বাচন হয়েছিলো। সে নির্বাচনে ১ জন উপজাতি চেয়ারম্যান ও জনসংখ্যার আনুপাতিক হারে ৩০ জন পাহাড়ি ও বাঙালি সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলো।

বিগত ১৯৯৭ সালের ২রা ডিসেম্বর জেএসএস বনাম তৎকালীণ সরকারের স্থানীয় সরকার মন্ত্রী আবুল হাসনাত আবদুল্লা গংয়ের সাথে কথিত ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি’ স্বাক্ষরের পর পাহাড়ের তিন জেলা স্থানীয় সরকার পরিষদ নাম বদলিয়ে ‘জেলা পরিষদ’ নাম করণ করা হয়। এর পর থেকে পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা অনির্বাচিত দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ হয়ে আসছে।

বিগত দিনে রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি; এই দুই জেলা পরিষদের গঠন পক্রিয়ার সাথে বান্দরবান জেলা পরিষদ গঠন রীতিতে ভিন্নতা দেখা গেছে। বান্দরবানে সরকার দলীয় এমপি ছিলেন বীর বাহাদুর উশৈসিং। আওয়ামীলীগ যত বার ক্ষমতায় ছিলেন, ততবারই চেয়ারম্যান পদটি এমপি পত্নীর বড় ভাই ক্য শৈলা মার্মার জন্য নির্লজভাবে সংরক্ষিত ছিলো।

জেলা ব্যাপি ব্যাপক উন্নয়নের দৃশ্যত অবদান ছিলো পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন বোর্ডের কাজ কর্ম। জেলা পরিষদ চাকুরীতে নিয়োগ বাণিজ্য ব্যতিত জনগোষ্ঠীর আশানুরুপ উন্নয়ন দেখাতে পারেননি।

এ কারণেই মূলতঃ বান্দরবানে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সদস্য নিয়োগ ও পাওয়া না পাওয়ার নানান সমিকরণ নিয়ে আওয়ামী লীগের মধ্যে দলীয় বিভেদের জন্ম নেয়। যা নিয়ে ২০১৩ সালে লামা উপজেলায় আওয়ামী লীগের একাংশ ক্ষুব্ধ বিক্ষুব্ধ ছিলো। ওই সময় আওয়ামী লীগের জেলা নেতা প্রসন্ন তঞ্চঙ্গার নেতৃত্বে দলের মধ্যে ভাঙন দেখা দিয়েছিলো।

সে ভাঙনের মূখে ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকার বিপরীতে বিদ্রোহী প্রার্থী প্রসন্ন তঞ্চঙ্গা এক কঠিন চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হন। অবশেষে নির্বাচন পরবর্তী দলকে ঘুচিয়ে রাখার ভূমিকা ছিলো বীর বাহাদুর এঁর সর্বজন গ্রহনযোগ্য নেতৃত্বের ফলশ্রুতি।

বান্দরবান জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এঁর পদটি

সেই ঘরোয়া প্রতিনিধিত্ব শিকলবন্দি হওয়ায়, নিরবে গৃহ কোন্দল ভিতরে ভিতরে আওয়ামী লীগের মধ্যে আন্তরিকতা ক্ষয়প্রাপ্ত হতে থাকে।

এসব ঘটনার জের ধরে নড়ে বসেন জেলা কেন্দ্রিক নেতৃত্বদানকারীরা।

২০১৪ সালে জেলা পরিষদে দক্ষিন বান্দরবান; লামা-আলীকদম ও নাইক্ষংছড়ি উপজেলা থেকে  সদস্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর মধ্যেদিয়ে লামা-আলীকদম ও নাইক্ষংছড়ি উপজেলায় প্রতিনিধিত্বের বিকাশ ঘটেছিলো।

২৪’র গনঅভ্যুত্থানের পর (বর্তমান) গঠিত পরিষদে সকল উপজেলা থেকে প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হয়। কিন্তু জেলার সর্ববৃহৎ উপজেলা লামা থেকে পরিষদে কোনো সদস্য রাখা হয় নাই। যা লামাবাসীকে হতাশ ও লজ্জিত করেছে।

বর্তমান নতুন বাংলাদেশ নতুন সরকার। আমরা আমজনতা আশা করবো; সকল অনিয়ম দুর্ণীতি, স্বজনপ্রীতি, ঘরোয়া রাজনীতি, প্রতিনিধিত্বের অবসান হোক।

দলীয় ও যোগ্যতার মানদন্ডে যেন ৭ উপজেলা থেকে চেয়ারম্যান ও সদস্য নিয়োগের ক্ষেত্রে জনসংখ্যার আনুপাতিক বিচার যেন কোনো অবিচার না হয়। অধিকার  যেন ন্যার্যতার মাপকাঠিতে হয়। জেলা পরিষদ গঠিত হোক এতে একজন বাঙালি ভাইস চেয়ারম্যান দেয়া হোক।

লামাবাসীর দাবি এবার বৃহত্তর লামা থেকে চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয়া হউক। সদস্য নিয়োগে নির্লোভ ত্যাগি লোকদেরকে প্রাধান্য দেয়া হউক।