
বান্দরবানের লামা উপজেলায় একটি ম্রোপাড়ায় সশস্ত্র সন্ত্রাসী হামলা ও ব্যাপক লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার ৩নং ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের সিংপং পাড়া এলাকায় গতকাল ২৯ অক্টোবর ২০২৫ (বৃহস্পতিবার) রাতে এই ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটে। সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে পাড়ার পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেয় এবং পৈতৃক আমলের রুপার মুদ্রা ও নগদ টাকাসহ প্রায় ২৫ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী পরিবার ও থানায় করা অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন রাত আনুমানিক ১০টার দিকে ১০ থেকে ১৫ জনের একটি অজ্ঞাতনামা সংঘবদ্ধ সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী সিংপং পাড়া এলাকায় হানা দেয়। সন্ত্রাসীরা প্রথমে স্থানীয় বাসিন্দা আমেন স্রো-এর ঘরের সামনে গিয়ে লোকজনকে ডাকতে থাকে। আমেন স্রো ঘর থেকে বের হওয়ামাত্রই অস্ত্র ঠেকিয়ে তাকে জিম্মি করা হয়। এরপর তাকে হত্যার ভয় দেখিয়ে তার চাচা রেংনং স্রো-কে ঘর থেকে বের করে জিম্মি করা হয়।
পরবর্তীতে সন্ত্রাসীরা গৃহকর্তা শোকক্রা স্রো-এর ঘরের সামনে গিয়ে জিম্মি করা ভাই ও ভাতিজাকে হত্যার ভয় দেখিয়ে শোকক্রা স্রো ও তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের ঘর থেকে বের হতে বাধ্য করে।
লুটপাটের বিবরণ:
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা জোরপূর্বক বসতঘরে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। লুটের শিকার মূল্যবান সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে; শোকক্রা স্রো-এর মৃত পিতার রেখে যাওয়া পৈতৃক আমলের মূল্যবান ৫০০টি রুপার মুদ্রা।গৃহকর্তার ব্যক্তিগত সঞ্চয়ের ১,০০,০০০/- (এক লক্ষ) টাকা।গৃহবধূর ব্যবহৃত ৩টি রুপার মালা (যার প্রতিটিতে ৮০টি করে রুপার মুদ্রা ঝুলানো ছিল)। বিভিন্ন ধরনের রুপার অন্যান্য অলংকার। একটি বাটন ফোন ও একটি অপো (OPPO) ব্র্যান্ডের স্মার্টফোন।
ভুক্তভোগীদের হিসাব অনুযায়ী, এ ঘটনায় তাদের প্রায় ২৫,০০,০০০/- (পঁচিশ লক্ষাধিক) টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
ত্রিপুরা ভাষায় কথা ও প্রাণনাশের হুমকি:
পরিবারের সদস্যরা জানান, লুটপাটের সময় সন্ত্রাসীরা নিজেদের মধ্যে ত্রিপুরা ভাষায় কথা বলছিল। পরিবারের এক সদস্য কিছুটা ত্রিপুরা ভাষা বুঝতে পারায় তারা নিশ্চিত হন যে হামলাকারীরা ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের লোক।
ঘটনা শেষ করে যাওয়ার সময় সন্ত্রাসীরা পরিবারটিকে নির্মমভাবে হুমকি দিয়ে যায়। তারা বলে, “ঘটনার বিষয় নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে কিংবা থানা-ক্যাম্পের শরণাপন্ন হলে রাতের অন্ধকারে গুলি করে হত্যা এবং অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হবে।” এছাড়া মামলা করলেও সব আসামিকে ধরা সম্ভব নয় জানিয়ে পরবর্তীতে এসে পুরো পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার হুমকি দেয় তারা।
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া ও বর্তমান পরিস্থিতি:
ঘটনার পর থেকে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন শোকক্রা স্রো ও তার পরিবার। এই ঘটনায় ৩০ অক্টোবর শুক্রবার লামা থানায় শোকক্রা ম্রো বাদী হয়ে একটি অভিযোগ করেছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করে দ্রুত অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসীদের শনাক্তকরণ, লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারসহ স্থানীয় ম্রো জনগণ।
এ বিষয়ে লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সাথে যোগাযোগ করা হলে, তিনি জানান, এতদবিষয়ে একটি অভিযোগ আমরা পেয়েছি, তদন্ত চলছে।
নিজস্ব সংবাদদাতা: 



















