
হাজারো পুণ্যার্থীর অংশগ্রহণে বাঘাইছড়ি উপজেলার খেদারমারা ভাবনা কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়েছে কঠিন চীবর দানোৎসব। আজ ৩০ অক্টোবর শুক্রবার দুপুরে ভাবনা কেন্দ্রে ১৭ তম কঠিন চীবর দানোৎসবে চীবর দান করেন উপাসক-উপাসিকাগন।
এ সময় রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য ও খেদারমারা ভাবনা কেন্দ্র পরিচালনা পরিষদের সভাপতি বিল্টু চাকমার সভাপতিত্বে আলোচনা ও ধর্মদেশনা প্রদান করেন শ্রীমৎ যোগাসিদ্ধি মহাস্থবির।
সকালে বুদ্ধ পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিনের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়, পরে শুরু হয় ধর্মদেশনা। এসময় খেদারমারা ভাবনা কেন্দ্রের প্রধান শ্রীমৎ যোগাসিদ্ধি মহাস্থবির বলেন, গৌতম বুদ্ধ মানবজীবনকে সুন্দরভাবে পরিচালিত করার জন্য সব পথ বলে গেছেন। আমাদের সবার উচিত বুদ্ধ পদাঙ্ক অনুসরণ করা। ধর্মদেশনায় দেশ, জাতি ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের মঙ্গল কামনায় প্রার্থনা করা হয়।
এদিকে কঠিন চীবর দানোৎসব উপলক্ষে পুরো বিহার এলাকা লোকে পরিপূর্ণ হয়ে উঠে। চীবর বুননের বুননকৃত চীবরগুলো সুসজ্জিতভাবে শোভাযাত্রা সহকারে মূল অনুষ্ঠানস্থলের দিকে নিয়ে আসতে থাকেন ভক্তরা। এ সময় তারা কল্পতরুসহ নানান দানসামগ্রী নিয়ে শোভাযাত্রা সহকারে মূল মঞ্চের দিকে আসেন। সবাই নেচে-গেয়ে উদযাপন করেন মুহূর্তগুলো। এ সময় ‘বুদ্ধ ধর্ম কি জয়, সংঘ কি জয়’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে চারপাশ। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা হাজার হাজার পুণ্যার্থী চীবর দানে অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
গৌতম বুদ্ধের জীবদ্দশায় মহাউপাসিকা বিশাখা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তুলা থেকে সুতা এবং সুতা রঙ করে কাপড় বুনে তা সেলাই করে চীবর (ভিক্ষুদের পরিধেয় বস্ত্র) দান করে এ কঠিন চীবর দানের সূচনা করেন প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে। এ পদ্ধতিতে দান করলে কায়িক, বাচনিক মানসিকভাবে অধিক পরিশ্রম হয় এবং অধিকতর পুণ্যলাভ হয় বলে বৌদ্ধ শাস্ত্রে উল্লেখ আছে।
চীবর দানোৎসব উপলক্ষে বিহারসংলগ্ন এলাকায় চীবর ও স্থানীয় নানান পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেছেন দোকানিরা। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ব্যবসায়ীরা ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের পণ্যের পসরা সাজিয়েছেন।
কঠিন চীবর দানোৎসবে অংশ নেওয়া উপাসিকা জয়া চাকমা বলেন, ‘চীবর দান অনুষ্ঠানটি আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান। পাহাড়ের অধিবাসীদের কাছে এটির গুরুত্ব সর্বাধিক। আমরা বিশাখা প্রবর্তিত পদ্ধতিতে চীবর তৈরি করে ভগবান বুদ্ধের চরণে অর্পণ করি। পাশাপাশি জগতের মঙ্গলের জন্য সবাই একযোগে প্রার্থনা করি।
এসময় ভাবনা কেন্দ্রে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ হতে সদস্য বিল্টু চাকমার মাধ্যমে নগদ ৫০ হাজার টাকা অনুদান প্রদান করা হয়।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে বেইনঘর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় দুদিনব্যাপী কঠিন চীবর দানোৎসব।
মোঃ মহিউদ্দিন বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি: 



















