
রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার ২ নং রাইখালী ইউনিয়ন এর দুর্গম ভাল্লুকিয়া এলাকায় অবস্থিত ভাল্লুকিয়া নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেছেন রাঙামাটি ২৯৯ নম্বর আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ওই এলাকায় একটি দানোত্তম কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে তিনি বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেন। এ সময় বিদ্যালয়টির এমপিওভুক্তির জোর দাবি জানান শিক্ষক, পরিচালনা কমিটির সদস্য ও স্থানীয় প্রতিনিধিরা। সংসদ সদস্যও এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
পরিদর্শনকালে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটির সদস্যরা প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন সমস্যা, সীমাবদ্ধতা এবং শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতার কথা সংসদ সদস্যের কাছে তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় মানুষের সহযোগিতায় বিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। কিন্তু এখনো এমপিওভুক্ত না হওয়ায় শিক্ষক-কর্মচারীদের আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৪ সালে স্থানীয় উদ্যোগে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০১ সালে পাঠদানের অনুমতি এবং ২০০৫ সালে একাডেমিক স্বীকৃতি লাভ করে প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে নবম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান কার্যক্রম চালু রয়েছে। প্রায় ২০০ শিক্ষার্থীর পাঠদানের দায়িত্ব পালন করছেন ১০ জন শিক্ষক ও দুজন কর্মচারী।
পরিদর্শনকালে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ওসমান গনি, পরিচালনা কমিটির বর্তমান সভাপতি বীর চন্দ্র তঞ্চঙ্গ্যা (চৌধুরী), সাবেক সভাপতি ও কাপ্তাই বিআরডিবির চেয়ারম্যান স্বপন বড়ুয়া এবং ভালুকিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি বিনয় কুমার তালুকদার বিদ্যালয়টির বিভিন্ন সমস্যা ও সীমাবদ্ধতা তুলে ধরেন। এ সময় তাঁরা বিদ্যালয়টি দ্রুত এমপিওভুক্ত করার জন্য সংসদ সদস্যের সহযোগিতা কামনা করেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রতিষ্ঠার পর থেকে নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও বিদ্যালয়টি দুর্গম এলাকার শিক্ষার্থীদের শিক্ষার সুযোগ করে দিচ্ছে। কিন্তু দীর্ঘদিনেও এমপিওভুক্ত না হওয়ায় শিক্ষক-কর্মচারীদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়নি। ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ ও শিক্ষার মানোন্নয়ন নিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।
সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান বিদ্যালয়টির সমস্যা ও দাবির কথা শোনেন এবং এমপিওভুক্তির বিষয়ে তাঁর পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ ও সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন সুবিমল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মিসেস মৈত্রী চাকমা, কাপ্তাই উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান দিলদার হোসেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ওসমান গনি, পরিচালনা কমিটির সভাপতি বীর চন্দ্র তঞ্চঙ্গ্যা (চৌধুরী), সাবেক সভাপতি স্বপন বড়ুয়া, ভালুকিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি বিনয় কুমার তালুকদার, প্রধান শিক্ষক জয়মোহন তঞ্চঙ্গ্যা, সহকারী শিক্ষক যুগেন্দ্র লাল তঞ্চঙ্গ্যা, রিপন শিকদার, রনি তঞ্চঙ্গ্যা ও সুবিমল জয় তঞ্চঙ্গ্যাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। এ ছাড়া উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাদের মধ্যে নিহার তঞ্চঙ্গ্যা, লিটন তঞ্চঙ্গ্যা, ধর্ম চরণ তঞ্চঙ্গ্যা ও সন্তোষ বড়ুয়া উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংসদ সদস্যের উদ্যোগে বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত হলে দুর্গম এলাকার শিক্ষার্থীদের শিক্ষার সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে। পাশাপাশি শিক্ষক-কর্মচারীদের আর্থিক অনিশ্চয়তা কমবে এবং বিদ্যালয়টির শিক্ষার পরিবেশ ও মানোন্নয়নে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।
ঝুলন দত্ত: সিনিয়র রিপোর্টার কাপ্তাই রাঙ্গামটি 



















