Lama ১২:৪৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লামায় ত্রিশডেবা পাড়ায় ম্রাইমা বর্ণমালা ও নৈতিক শিক্ষা কেন্দ্রের উদ্বোধন

নিজস্ব ভাষা, বর্ণমালা ও সংস্কৃতি সংরক্ষণের পাশাপাশি শিশুদের ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করার লক্ষ্যে বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ত্রিশডেবা পাড়ায় নবনির্মিত ম্রাইমা বর্ণমালা ও নৈতিক শিক্ষা কেন্দ্রের উদ্বোধন করা হয়েছে।

সম্প্রতি আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ফিতা কেটে শিক্ষা কেন্দ্রটির উদ্বোধন করেন ত্রিশডেবা পাড়া কেন্দ্রীয় বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ। পরে পাড়া কারবারি উঃ অংক্যছিং মারমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য উঃ মংমেগ্য মারমা।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাড়া রোয়াজা উঃ ছাইলুং মারমা, সাবেক ইউপি সদস্য উঃ মংফোচিং মারমা, প্রবীণ ব্যক্তি উঃ ছাপ্রুঅং মারমা এবং শিক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষক উঃ উচিংমং মারমা ও শিক্ষিকা ড. উয়ইছা মারমা। এ ছাড়া অষ্টশীলধারী উপাসক-উপাসিকা, পাড়ার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও গ্রামবাসী উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পাড়ার শিশুদের নিজস্ব ভাষা, বর্ণমালা ও নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করার লক্ষ্যে শিক্ষা কেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন স্থানীয় ইউপি সদস্য উঃ মংমেগ্য মারমা। কেন্দ্রটি নির্মাণে প্রয়োজনীয় নির্মাণসামগ্রী সরবরাহের পাশাপাশি পাড়ার বাসিন্দারাও সম্মিলিতভাবে সহযোগিতা করেন।

অন্যদিকে, শিক্ষা কেন্দ্রের দুই শিক্ষক গত তিন মাস ধরে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করে আসছেন।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, একটি জাতির নিজস্ব পরিচয়, ঐতিহ্য ও অস্তিত্ব রক্ষায় মাতৃভাষা, সংস্কৃতি এবং ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধের চর্চা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন প্রজন্মকে নিজস্ব ভাষা ও বর্ণমালা শেখানোর পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় গড়ে তুলতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের জন্য শিক্ষা কেন্দ্রের দুই শিক্ষকের হাতে বই তুলে দেন অতিথিরা।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নবনির্মিত এ শিক্ষা কেন্দ্রটি ত্রিশডেবা পাড়ার শিশুদের মাতৃভাষা শিক্ষা, বর্ণমালা চর্চা এবং ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

মহালছড়িতে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আত যুব কমিটির উদ্যোগে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) বার্ষিক মাহফিল অনুষ্ঠিত

Bandarban Tribune

লামায় ত্রিশডেবা পাড়ায় ম্রাইমা বর্ণমালা ও নৈতিক শিক্ষা কেন্দ্রের উদ্বোধন

Update Time : ১১:০৩:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

নিজস্ব ভাষা, বর্ণমালা ও সংস্কৃতি সংরক্ষণের পাশাপাশি শিশুদের ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করার লক্ষ্যে বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ত্রিশডেবা পাড়ায় নবনির্মিত ম্রাইমা বর্ণমালা ও নৈতিক শিক্ষা কেন্দ্রের উদ্বোধন করা হয়েছে।

সম্প্রতি আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ফিতা কেটে শিক্ষা কেন্দ্রটির উদ্বোধন করেন ত্রিশডেবা পাড়া কেন্দ্রীয় বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ। পরে পাড়া কারবারি উঃ অংক্যছিং মারমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য উঃ মংমেগ্য মারমা।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাড়া রোয়াজা উঃ ছাইলুং মারমা, সাবেক ইউপি সদস্য উঃ মংফোচিং মারমা, প্রবীণ ব্যক্তি উঃ ছাপ্রুঅং মারমা এবং শিক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষক উঃ উচিংমং মারমা ও শিক্ষিকা ড. উয়ইছা মারমা। এ ছাড়া অষ্টশীলধারী উপাসক-উপাসিকা, পাড়ার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও গ্রামবাসী উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পাড়ার শিশুদের নিজস্ব ভাষা, বর্ণমালা ও নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করার লক্ষ্যে শিক্ষা কেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন স্থানীয় ইউপি সদস্য উঃ মংমেগ্য মারমা। কেন্দ্রটি নির্মাণে প্রয়োজনীয় নির্মাণসামগ্রী সরবরাহের পাশাপাশি পাড়ার বাসিন্দারাও সম্মিলিতভাবে সহযোগিতা করেন।

অন্যদিকে, শিক্ষা কেন্দ্রের দুই শিক্ষক গত তিন মাস ধরে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করে আসছেন।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, একটি জাতির নিজস্ব পরিচয়, ঐতিহ্য ও অস্তিত্ব রক্ষায় মাতৃভাষা, সংস্কৃতি এবং ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধের চর্চা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন প্রজন্মকে নিজস্ব ভাষা ও বর্ণমালা শেখানোর পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় গড়ে তুলতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের জন্য শিক্ষা কেন্দ্রের দুই শিক্ষকের হাতে বই তুলে দেন অতিথিরা।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নবনির্মিত এ শিক্ষা কেন্দ্রটি ত্রিশডেবা পাড়ার শিশুদের মাতৃভাষা শিক্ষা, বর্ণমালা চর্চা এবং ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।