
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার বেতুযাঢাকা নৌপথে লঞ্চ চলাচলে ‘রোটেশন পদ্ধতি’র কারণে সাধারণ যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পডতে হচ্ছে। যাত্রীসেবা নিশ্চিত করার সরকারি নিন্দেশনা থাকলেও লঞ্চ মালিকদের তৈরি করা এই কালো নিয়মের গ্যাঁড়াকলে পিষ্ট হচ্ছেন হাজারো মানুষ। অভিযোগ উঠেছে, এই নৌপথে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে সাধারণ যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের মাধ্যমে প্রতি মাসে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট।
ভুক্তভোগী যাত্রী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চরফ্যাশন থেকে রাজধানী ঢাকায় যাতায়াতের জন্য বেতুয়া-ঢাকা নৌপথটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই রুটে পর্যাপ্ত এবং আধুনিক লঞ্চ থাকার পরও রোটেশন প্রথার কারণে প্রতিদিন সব লঞ্চ একযোগে চালানো হয় না। মালিক পক্ষ নিজেদের খেয়াল খুশি মতো এবং অধিক মুনাফার আশায় প্রতিদিন মাত্র ১ থেকে ২টি লঞ্চ পরিচালনা করে। ফলে প্রতিদিন ঘাটে এসে হাজারো যাত্রীকে কেবিন ও ডেকে জায়গার জন্য হাহাকার করতে হয়।
নৌপথটিতে যাতায়াতকারী একাধিক যাত্রী অভিযোগ করে বলেন, রোটেশন পদ্ধতির মূল উদ্দেশ্যই হলো কৃত্রিম সংকট তৈরি করা। লঞ্চের সংখ্যা কম থাকায় সময়মতো কোনো কেবিন পাওয়া যায় না। জরুরি প্রয়োজনে বা পরিবার-পরিজন নিয়ে ঢাকা যাওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ চরম বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন। এই সুযোগে লঞ্চের স্টাফ এবং দালাল চক্র কেবিনের নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে দ্বিগুণ-তিনগুণ টাকা দাবি করে। বাড়তি টাকা না দিলে কেবিন জোটে না, উপরন্তু যাত্রীদের সাথে চরম অসদাচরণ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
চরফ্যাশন পৌরসভার ৫নং ওযার্ডের বাসিন্দা মো কামাল হোসেন মিয়া ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে বলেন, এই এলাকা থেকে প্রতিদিন অনেক মুমূর্ষু রোগী উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যান। কিন্তু লঞ্চের এই সিন্ডিকেটের কারণে সময়মতো কেবিন বা পর্যাপ্ত জায়গা না পেয়ে রোগীকে নিয়ে পরিবারগুলোকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘাটে অপেক্ষা করতে হয়। অনেক সময় ডেকে গাদাগাদি করে রোগী নিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েন তারা।
এই কালো আইন বা রোটেশন প্রথা বাতিল করে প্রতিদিন সব লঞ্চের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতে এবং কেবিন বুকিংয়ে স্বচ্ছতা আনার দাবিতে ইতিমধ্যেই প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে লিগ্যাল নোটিশ বা আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সাধারণ যাত্রীদের তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের মুখে মাঝে মাঝে এই রোটেশন পদ্ধতি সাময়িকভাবে বন্ধ হলেও, কিছুদিন পর মালিক পক্ষ আবারও গোপনে এই প্রথা চালু করে যাত্রীদের জিম্মি করে ফেলে।
সাধারণ জনগণ ও সচেতন মহলের দাবি, এই নৌপথের দীর্ঘদিনের সিন্ডিকেট ভাঙতে হলে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (ইওডঞঅ) এবং জেলা প্রশাসনের কঠোর ও নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন। রোটেশন পদ্ধতি সম্পূর্ণ অবৈধ ঘোষণা করে প্রতিদিন রুট পারমিটধারী সকল কোম্পানির লঞ্চ চালু রাখা এবং কেবিন বিক্রিতে ডিজিটাল বা অনলাইন টিকিটিং ব্যবস্থা চালু করা হলে এই ভোগান্তি ও কোটি কোটি টাকার অবৈধ বাণিজ্য বন্ধ করা সম্ভব।
নিজস্ব প্রতিবেদক, চরফ্যাশন (ভোলা) 




















