
রাঙ্গামাটির সীমান্তবর্তি বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে আগামীকাল রোববার(১১ অক্টোবর) সকাল ৬ টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য পর্যটন সড়কে অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে সাজেক কার্বারী এসোসিয়েশন ও সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি।
সংগঠনের নেতারা অবরোধের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে শনিবার দুপুর ১২ টা থেকে অবরোধের ডাক দিলেও বেলা একটার সময় তা প্রত্যাহার করে রোববার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য পর্যটন সড়কে অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।
জনসংহতি সমিতির সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদেরকে সাজেক থেকে সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে শনিবার দুপুরে সাজেক গন অধিকার রক্ষা কমিটির ফেইসবুক পেইজে দেয়া সাজেক কার্বারী এসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা ও সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা এক যৌথ বিবৃতিতে উক্ত দুই সংগঠনের পক্ষ থেকে এই অবরোধের ঘোষণা দেন।

সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব বিজয় কান্তি চাকমা প্রেরিত এক বিবৃতিতে বলেন, সাজেকে জেএসএসের সদস্যদের অবস্থান এবং সাধারণ মানুষকে হুমকি দেওয়ার প্রতিবাদে এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
দুই সংগঠনের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “যেহেতু সরকার ও সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জেএসএস সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদেরকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি, উপরন্তু সেনাবাহিনী নিরীহ জনগণের বাড়িঘরে তল্লাশির নামে হয়রানি করছে, বিশিষ্ট ব্যক্তিদেরকে হুমকি দিচ্ছে, তাই দাবি আদায়ের জন্য রোববার (১১ অক্টোবর) সকাল ৬টা থেকে সাজেক পর্যটন সড়কে অনির্দিষ্টকালের জন্য সড়ক অবরোধ শুরু হবে।”তবে রোগী বহনকারী এম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ও সংবাদকর্মীদের যানবাহন অবরোধের আওতামুক্ত থাকবে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
দুই সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সাজেক পর্যটন সড়কে কোন ধরনের যানবাহন না চালানোর জন্য যানবাহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং পর্যটক ও সাধারণ জনগণের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।
সাজেক কার্বারী এসোসিয়েশন ও সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি এই সংগঠন দুটি ইউপিডিএফের চাপে পড়ে এমন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বলে দাবি জেএসএসের। জেএসএসের রাঙ্গামাটি জেলা শাখার সভাপতি ডা.গঙ্গা মানিক চাকমা বলেন, ‘সাজেকে অবরোধের ডাক দিতে ইউপিডিএফ তাদের বাধ্য করেছে। সাধারণ মানুষকে কোনো ধরনের হুমকি জেএসএস দেয়নি অযথা গায়ে পড়ে জেএসএস’র বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। ইউপিডিএফ নিজেরা কিছু করতে না পেরে সাধারন জনগনকে মাঠে নামিয়ে দিয়ে বিভ্রান্ত করছে বলে জানান ডা. গঙ্গামানিক চাকমা।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে ইউপিডিএফের মুখপাত্র অংগ্য মারমা এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন সাজেক কার্বারী এসোসিয়েশন ও সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি সংগঠন দুটিকে কর্মসূচি দিতে বাধ্য করার অভিযোগ সত্য নয়। তবে সাধারণ মানুষের পক্ষে তাদের নেওয়া কর্মসূচির প্রতি ইউপিডিএফের সমর্থন থাকবে। তিনি জানান জনগনের সম্পৃক্ত আছে যেকোন দাবী আদায়ের ব্যাপারে ইউপিডিএফ ইতিমধ্যে সমর্থন করেছে যা ভবিষ্যতে ও অব্যাহত থাকবে।
বাঘাইহাট সেনা চেকপোস্ট থেকে জানান, নিরাপত্তা নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর সহায়তায় প্রতিদিনের ন্যায় শনিবার সকাল ও দুপুরে দু’দফায় সাজেক থেকে প্রায় আড়াই হাজার পর্যটক ফিরেছে এবং প্রায় দেড় হাজার পর্যটক আবারো সাজেকে প্রবেশ করেছে। সাজেক ভ্যালি থেকে সাজেক রিসোর্ট-কটেজ মালিক সমিতির দপ্তর সম্পাদক এস এম জিয়াউল হক জানান, শনিবার যে পরিমান পর্যটক সাজেক থেকে বের হয়েছে এবং প্রবেশ করেছে তাতে রাতে ও সেখানে প্রায় দু’হাজার পর্যটক অবস্থান করবে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বাঘাইছড়ি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা মারজান বলেন, ‘সড়ক অবরোধের কথা শুনেছি,তবে তা আবার প্রত্যাহার করা হয়েছে। তিনি আরো জানান রোববার থেকে আবারো সড়ক অবরোধের বিষয়টি শুনেছি তবে নিরাপত্তা বাহিনীর সহযোগিতায় প্রতিদিনের মতো সাজেকে যাওয়া আসা করবেন।
মোঃ মহিউদ্দিন বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি: 



















