Lama ০৫:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
একটি প্রশংসনীয় উদ্যােগ

লামায় নদীর ঘাটে জমে থাকা ময়লা পরিষ্কারে এগিয়ে এল পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ

বান্দরবানের লামা উপজেলার অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র ও ব্যস্ততম স্থান নদীর ঘাট এলাকা দীর্ঘদিন ধরে আবর্জনায় সয়লাব হয়ে পড়েছিল। পরিবেশ সুরক্ষায় ও পর্যটকদের স্বাচ্ছন্দ্য ফেরাতে এবার সেই ঘাটে এক বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি), লামা উপজেলা শাখা।

​সূত্রে জানা যায়, লামা নদীর ঘাটটি কেবল স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম নয়, বরং প্রতিনিয়ত অসংখ্য পর্যটক এখানে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসেন। তবে অসচেতনতা এবং নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলার সুব্যবস্থা না থাকায় নদীর পাড় ও ঘাটের আশপাশে প্লাস্টিক বোতল, পলিথিন এবং উচ্ছিষ্ট খাবারের স্তূপ গড়ে ওঠে। এতে একদিকে যেমন পরিবেশ নষ্ট হচ্ছিল, অন্যদিকে নদীর পানিও দূষিত হচ্ছিলো।

​এই অবস্থায় পরিবেশ রক্ষায় সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদের লামা উপজেলা শাখার নেতা-কর্মীরা একজোট হয়ে এই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু করেন। সংগঠনের সদস্যরা নিজ হাতে ঘাটের আশপাশে ছিটিয়ে থাকা প্লাস্টিক, পলিথিন ও অন্যান্য বর্জ্য কুড়িয়ে নির্দিষ্ট স্থানে অপসারণ করেন।

​পরিচ্ছন্নতা অভিযানকালে ছাত্র পরিষদের স্থানীয় নেতা রফিকসহ অন্যরা বলেন, “লামার সৌন্দর্য রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব। নদীর ঘাট এলাকাটি পর্যটক ও স্থানীয়দের মিলনমেলা, অথচ ময়লা-আবর্জনার কারণে এর পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছিল। আমরা মানুষকে সচেতন করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নিয়েছি। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে আমরা ভবিষ্যতেও এমন কর্মসূচি অব্যাহত রাখব।”

​সংগঠনটির পক্ষ থেকে স্থানীয় ব্যবসায়ী, ট্রলারচালক এবং ঘুরতে আসা পর্যটকদের উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি ঘাট এলাকায় বর্জ্য ফেলার জন্য ডাস্টবিনের ব্যবস্থা করতে স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।

বাজার ঘাট ছাড়াও লামা পৌর শহরের সমিল গলিসহ বিভিন্ন পয়েন্টে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলে। পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্রপরিষদ এলাকায় ক্রীডা সংস্কৃতির বিকাশ সাধনসহ সামাজিক কর্মকান্ডে ইতিবাচক ভূমিকা রেখে চলছে বলে স্থানীয়রা মন্তব্য করেন।

​পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদের এই স্বেচ্ছাসেবী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহল।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

মহালছড়িতে কাব স্কাউটের তাবু জলসা: আনন্দ-উচ্ছ্বাসে নেতৃত্ব ও শৃঙ্খলার শিক্ষা

Bandarban Tribune

একটি প্রশংসনীয় উদ্যােগ

লামায় নদীর ঘাটে জমে থাকা ময়লা পরিষ্কারে এগিয়ে এল পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ

Update Time : ০২:৪৫:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

বান্দরবানের লামা উপজেলার অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র ও ব্যস্ততম স্থান নদীর ঘাট এলাকা দীর্ঘদিন ধরে আবর্জনায় সয়লাব হয়ে পড়েছিল। পরিবেশ সুরক্ষায় ও পর্যটকদের স্বাচ্ছন্দ্য ফেরাতে এবার সেই ঘাটে এক বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি), লামা উপজেলা শাখা।

​সূত্রে জানা যায়, লামা নদীর ঘাটটি কেবল স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম নয়, বরং প্রতিনিয়ত অসংখ্য পর্যটক এখানে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসেন। তবে অসচেতনতা এবং নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলার সুব্যবস্থা না থাকায় নদীর পাড় ও ঘাটের আশপাশে প্লাস্টিক বোতল, পলিথিন এবং উচ্ছিষ্ট খাবারের স্তূপ গড়ে ওঠে। এতে একদিকে যেমন পরিবেশ নষ্ট হচ্ছিল, অন্যদিকে নদীর পানিও দূষিত হচ্ছিলো।

​এই অবস্থায় পরিবেশ রক্ষায় সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদের লামা উপজেলা শাখার নেতা-কর্মীরা একজোট হয়ে এই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু করেন। সংগঠনের সদস্যরা নিজ হাতে ঘাটের আশপাশে ছিটিয়ে থাকা প্লাস্টিক, পলিথিন ও অন্যান্য বর্জ্য কুড়িয়ে নির্দিষ্ট স্থানে অপসারণ করেন।

​পরিচ্ছন্নতা অভিযানকালে ছাত্র পরিষদের স্থানীয় নেতা রফিকসহ অন্যরা বলেন, “লামার সৌন্দর্য রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব। নদীর ঘাট এলাকাটি পর্যটক ও স্থানীয়দের মিলনমেলা, অথচ ময়লা-আবর্জনার কারণে এর পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছিল। আমরা মানুষকে সচেতন করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নিয়েছি। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে আমরা ভবিষ্যতেও এমন কর্মসূচি অব্যাহত রাখব।”

​সংগঠনটির পক্ষ থেকে স্থানীয় ব্যবসায়ী, ট্রলারচালক এবং ঘুরতে আসা পর্যটকদের উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি ঘাট এলাকায় বর্জ্য ফেলার জন্য ডাস্টবিনের ব্যবস্থা করতে স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।

বাজার ঘাট ছাড়াও লামা পৌর শহরের সমিল গলিসহ বিভিন্ন পয়েন্টে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলে। পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্রপরিষদ এলাকায় ক্রীডা সংস্কৃতির বিকাশ সাধনসহ সামাজিক কর্মকান্ডে ইতিবাচক ভূমিকা রেখে চলছে বলে স্থানীয়রা মন্তব্য করেন।

​পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদের এই স্বেচ্ছাসেবী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহল।