
লামা উপজেলার ৩ নং ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন বিভক্ত করে প্রস্তাবিত ‘ইয়াংছা ইউনিয়ন’ গঠনের ক্ষেত্রে ২৮৫ নং সাঙ্গু সমাগ্র মৌজাকে অখন্ড রেখে ইয়াংছা ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন জানিয়েছেন সাঙ্গু মৌজার প্রজাসাধারণ। এই দাবিতে মৌজাবাসীর পক্ষে মৌজা হেডম্যান চংপাত ম্রো বান্দরবান জেলা প্রশাসক বরাবর একটি লিখিত আবেদন করেন।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, “৩ নং ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নকে বিভক্ত করে নতুন ইয়াংছা ইউনিয়ন গঠনের লক্ষ্যে ২৮৫ নং সাঙ্গু মৌজার জনগণের প্রত্যাশা ও দাবীর বিপরীতে অত্র এলাকার ভৌগোলিক অবস্থান, যোগাযোগ ব্যবস্থা, প্রশাসনিক সেবাপ্রাপ্তির বাস্তবতা, দীর্ঘদিনের উন্নয়ন-ঘাটতি এবং ভবিষ্যৎ জনস্বার্থের বিষয়গুলো উপেক্ষা করে ২৮৫ নং সাঙ্গু মৌজাকে বিভক্ত করে একটি অংশ ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের সাথে সংযুক্ত করার লক্ষ্যে উপচেষ্টা চালাচ্ছে।
২৮৫ নং সাঙ্গু মৌজায় ত্রিশডেবা, রাজাপাড়া, রাংগতি পাড়া, ওয়াক্রা পাড়া, খ্রিস্টান পাড়া, সইশাই পাড়া, রইনলে কারবারি পাড়া, রওজা পাড়া, মুসলিম খান পাড়া, পাইনসাপু পাড়া, সতীশ কারবারি পাড়া, সাপমারা, আমতলী, গয়ালমারা, চিনিঝিরিসহ বিভিন্ন পাড়া ও বসতিতে মারমা, ত্রিপুরা, ম্রো, বাঙালিসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন।
প্রস্তাবিত ইয়াংছা ইউনিয়ন গঠনের ক্ষেত্রে ২৮৫ নং সাঙ্গু মৌজাকে কোনো অংশকে বিভক্ত না করে সম্পূর্ণ মৌজাটিকে অখণ্ডভাবে ইয়াংছা ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত করা হোক।
এভাবে ইউনিয়ন সীমানা নির্ধারণ করা হলে তা ভৌগোলিক, প্রশাসনিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং জনসেবা প্রদানের দিক থেকে অধিকতর যৌক্তিক, কার্যকর ও জনবান্ধব হবে। আবেদনের পক্ষে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো বিশেষভাবে বিবেচনার দাবি রাখে।

ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদের সঙ্গে সাঙ্গু মৌজার দীর্ঘ ও দুরূহ যোগাযোগ। সাঙ্গু মৌজার সর্বশেষ প্রান্তের বিভিন্ন গ্রাম, বিশেষ করে রওজা পাড়া, নতুন পাড়া ও গয়ালমারা এলাকার সঙ্গে বর্তমান ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদের দূরত্ব প্রায় ৭৫ কিলোমিটার। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সাঙ্গু মৌজা থেকে ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদের সঙ্গে সরাসরি কার্যকর সড়ক যোগাযোগ নেই। ফলে সাঙ্গু মৌজার একজন বাসিন্দাকে ইউনিয়ন পরিষদের সাধারণ নাগরিক সেবা গ্রহণের জন্য প্রথমে ইয়াংছা, এরপর হাঁসের দিঘী-ভুলাহাজারা চকরিয়া উপজেলা হয়ে ৩ নং ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদে যেতে হয়।
জাতীয়তা/নাগরিক সনদ গ্রহণ, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, হোল্ডিং ট্যাক্স প্রদান, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বিষয়ে যোগাযোগ কিংবা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সঙ্গে সাক্ষাতের মতো সাধারণ নাগরিক সেবা গ্রহণের জন্যও অনেক ক্ষেত্রে একজন নাগরিককে ২-৩ দিন সময় ব্যয় করে বাড়ির বাইরে অবস্থান করতে হয়।
একজন নাগরিকের মৌলিক প্রশাসনিক সেবা গ্রহণের জন্য এ ধরনের দীর্ঘ, পরোক্ষ ও ব্যয়বহুল যাতায়াত জনবান্ধব স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
১৯৮২ সালের ইউনিয়ন কাঠামো ও দীর্ঘদিনের সেবাবঞ্চনার বাস্তবতা। ১৯৮২ সালে ২৮৬ নং ফাঁসিয়াখালী মৌজা, ২৮৫ নং সাঙ্গু মৌজা এবং ২৮৪ নং ইয়াংছা মৌজা নিয়ে ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে জনবসতি, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও প্রশাসনিক প্রয়োজনে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটেছে। বর্তমানে সাঙ্গু মৌজার জনগণ ভৌগোলিক দূরত্ব ও যোগাযোগ সমস্যার কারণে ইউনিয়ন পরিষদ কেন্দ্রিক বিভিন্ন সেবা গ্রহণে দীর্ঘদিন ধরে বাস্তব দুর্ভোগের সম্মুখীন হয়ে আসছেন।
স্থানীয় জনগণের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, সাঙ্গু মৌজায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সড়ক যোগাযোগ এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ বিভিন্ন সরকারি সেবা ও উন্নয়ন কার্যক্রম প্রয়োজনের তুলনায় সীমিতভাবে পৌঁছেছে।
সাঙ্গু মৌজার প্রধান সড়কের দীর্ঘদিনের বেহাল অবস্থা। ২৮৫ নং সাঙ্গু মৌজার প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ গয়ালমারা-ত্রিশডেবা পাড়া-বনপুর-ইয়াংছা সড়কটি ১৯৯৫ সালে নির্মিত হলেও দীর্ঘ সময় ধরে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও উন্নয়নের অভাবে সড়কটি বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের কয়েকটি সড়ক কার্পেটিংয়ের আওতায় এসেছে এবং সেগুলোর কাজ বাস্তবায়িত হচ্ছে। কিন্তু সাঙ্গু মৌজার মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রধান যোগাযোগপথ হওয়া সত্ত্বেও উক্ত সড়কটি সেই কার্যক্রমের আওতায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি। এতে সাঙ্গু মৌজার জনগণের মধ্যে দীর্ঘদিনের যোগাযোগ ও উন্নয়ন-ঘাটতি নিয়ে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। নতুন ইউনিয়ন গঠনের সময় এই বাস্তবতাকে বিবেচনায় নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
সাঙ্গু মৌজা ভৌগোলিকভাবে ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে সংযুক্ত নয়। সাঙ্গু মৌজা এবং ফাঁসিয়াখালী মৌজার মধ্যে সরাসরি ও স্বাভাবিক সড়ক যোগাযোগ নেই। একজন সাঙ্গু মৌজাবাসীকে প্রথমে ইয়াংছা পর্যন্ত এসে, সেখান থেকে কক্সবাজার জেলার চকরিয়ার দিকে অগ্রসর হয়ে ডুলাহাজারা বাজার হয়ে ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদে যেতে হয়। অর্থাৎ, সাঙ্গু মৌজার জনগণকে নিজ ইউনিয়ন পরিষদে যাওয়ার জন্য অন্য মৌজা এবং অন্য জেলার উপজেলা/বাজার হয়ে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করতে হয়।
অন্যদিকে, ইয়াংছা মৌজা সাঙ্গু মৌজার পার্শ্ববর্তী মৌজা এবং দুই এলাকার মধ্যে স্বাভাবিক ভৌগোলিক ও যোগাযোগগত সম্পর্ক বিদ্যমান। তাই নতুন ইউনিয়ন গঠনের ক্ষেত্রে বর্তমান প্রশাসনিক সীমানার পরিবর্তে বাস্তব ভৌগোলিক সংযোগ ও জনগণের সহজ যোগাযোগকে প্রধান বিবেচনা করা অধিক ও যুক্তিযুক্ত।
সাঙ্গু মৌজা ও লামা উপজেলা প্রশাসনের অবস্থানগত অসামঞ্জস্য; সাঙ্গু মৌজার দিক থেকে বিবেচনা করলে ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদ এবং লামা উপজেলা প্রশাসন পরস্পর বিপরীতমুখী যোগাযোগপথে অবস্থিত। সাঙ্গু মৌজার বাসিন্দাদের প্রথমে প্রায় ১৫ কিলোমিটার ভাঙাচোরা সড়ক অতিক্রম করে ইয়াংছা পর্যন্ত আসতে হয়। এরপর ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদে যেতে হলে চকরিয়ার দিকে যেতে হয়। আবার উপজেলা পর্যায়ের কোনো সরকারি কাজে লামা সদরে যেতে হলে সম্পূর্ণ বিপরীত দিকে ফিরে আসতে হয়। ফলে ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসনের সেবা গ্রহণের জন্য একজন নাগরিককে বারবার দীর্ঘ ও অপ্রয়োজনীয় পথ অতিক্রম করতে হয়।

অন্যদিকে, সাঙ্গু মৌজাকে ইয়াংছা ইউনিয়নের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করা হলে স্থানীয় জনগণের জন্য একটি স্বাভাবিক, সংক্ষিপ্ত ও ভৌগোলিকভাবে যৌক্তিক প্রশাসনিক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হবে।
সাঙ্গু মৌজায় মারমা, ত্রিপুরা, ম্রো, বাঙালিসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে পাশাপাশি বসবাস করে আসছেন। সুতরাং ইউনিয়ন বিভাজনের প্রশ্নটি কোনো একক সম্প্রদায়, গোষ্ঠী বা নির্দিষ্ট পাড়ার বিষয় নয়; এটি সাঙ্গু মৌজায় বসবাসরত সকল সম্প্রদায়ের মানুষের নাগরিক অধিকার, প্রশাসনিক সেবা, যোগাযোগ সুবিধা এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়নের বিষয়। সাঙ্গু মৌজার জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা হলো-প্রশাসনিক সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে তাদের ভৌগোলিক বাস্তবতাকে বিবেচনা করা এবং নিকটবর্তী ও স্বাভাবিক যোগাযোগের কেন্দ্রের সঙ্গে তাদের অন্তর্ভুক্ত করা।
এ জন্য নতুন ইউনিয়ন গঠনের সময় সাঙ্গু মৌজাকে আংশিকভাবে পুরাতন ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের সঙ্গে রেখে দেওয়া হলে মৌজাটি বিভক্ত হবে এবং ভবিষ্যতে প্রশাসনিক ও সামাজিক বিভিন্ন বিষয়ে জটিলতা সৃষ্টির আশঙ্কা থাকবে।
ইয়াংছা ও সাঙ্গু মৌজার প্রাকৃতিক ও ভৌগোলিক সম্পর্ক। ২৮৫ নং সাঙ্গু ও ২৮৪ নং ইয়াংছা মৌজা পাশাপাশি অবস্থিত দুটি মৌজা। ইয়াংছা খালকে কেন্দ্র করে এ দুটি এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও যোগাযোগগত সম্পর্ক রয়েছে। ভৌগোলিকভাবে সাঙ্গু মৌজা ইয়াংছা খালের উজানের অংশে এবং ইয়াংছা মৌজা অপেক্ষাকৃত নিম্নভাগে অবস্থিত। ফলে প্রাকৃতিক ভূগোল, বসতির বিন্যাস, যোগাযোগ ও স্থানীয় মানুষের পারস্পরিক নির্ভরতার বিষয় বিবেচনা করলে সাঙ্গু ও ইয়াংছাকে একই প্রশাসনিক কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত করা অধিক স্বাভাবিক যৌক্তিক।
এ কারণে সাঙ্গু মৌজাকে অখন্ড রেখে ইয়াংছা ইউনিয়নের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করা হলে জনগণের দোরগোড়ায় প্রশাসনি-সেবা পৌঁছে দেওয়ার মূল উদ্দেশ্য অধিক কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হবে।
ঐতিহাসিক মৌজা সীমানা অক্ষুণ্ণ রাখার প্রশাসনিক যৌক্তিকতা রয়েছে। ২৮৫ নং সাঙ্গু মৌজার মৌজা সীমানা দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক ও প্রশাসনিকভাবে স্বীকৃত সীমানা হিসেবে বিদ্যমান। এই সীমানাকে অক্ষুণ্ণ রেখে ইউনিয়নের সীমানা নির্ধারণ করা হলে প্রশাসনিক কাঠামো নির্ধারণে একটি সুস্পষ্ট ও বিদ্যমান ভৌগোলিক ভিত্তি পাওয়া যাবে।
অন্যদিকে, একটি প্রতিষ্ঠিত মৌজাকে বিভক্ত করে এর বিভিন্ন অংশকে পৃথক ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত করা হলে ভবিষ্যতেন ভূমি প্রশাসন, নাগরিক সেবা, ভোটার ব্যবস্থাপনা, উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং ইউনিয়ন সীমানা সংক্রান্ত বিরোধ বা বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
সুতরাং মৌজার বিদ্যমান সীমানাকে ইউনিয়ন সীমানার ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করা প্রশাসনিকভাবে অধিক সরল, সুস্পষ্ট ও বিতর্কমুক্ত ব্যবস্থা হবে।
জনবান্ধব প্রশাসনের স্বার্থে সাঙ্গু মৌজাকে অখন্ড রাখা প্রয়োজন। নতুন ইউনিয়ন গঠনের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত জনগণের নিকট প্রশাসনিক সেবা পৌঁছে দেওয়া, যোগাযোগের দুর্ভোগ কমানো, প্রত্যন্ত এলাকার জনগণকে উন্নয়ন কার্যক্রমের আওতায় আনা এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করা। সে বিবেচনায় যে প্রশাসনিক সীমানা জনগণের জন্য সহজ যোগাযোগ, কম দূরত্ব, নিরাপদ যাতায়াত এবং দ্রুততর সরকারি সেবা নিশ্চিত করতে পারে, সেই সীমানাই জনস্বার্থে অধিক উপযোগী।
সাঙ্গু মৌজার ক্ষেত্রে এসব বাস্তবতা বিবেচনা করলে মৌজাটিকে বিভক্ত না করে অখন্ডভাবে প্রস্তাবিত ইয়াংছা ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত করাই অধিকতর যৌক্তিক ও জনবান্ধব সিদ্ধান্ত হবে বলে আমরা মনে করি।”
জানাযায়, লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মঈন উদ্দিন ১০ অক্টোবর এই আবেদনের শুনানির নোটিশ করেন। পরে আরেকটি নোটিশে ৮ অক্টোবর শুনানি করে প্রস্তাবিত ‘ইয়াংছা ইউনিয়ন’ ঘোষণার কার্যক্রম তরান্বিত করতে, আবেদনকারীর থেকে আবারো পরামর্শ চাওয়া হয়। সেইমতে সাঙ্গু মৌজাবাসীর পক্ষে মৌজা হেডম্যান চংপাত ম্রো আরেকটি লিখিত জবাব দাখিল করেন। জবাবে সাঙ্গু মৌজা হেডম্যান, ‘আবারো উল্লেখ করেন,
“১। ২৮৫নং সাংও মৌজার জনগণের দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক ও নাগরিক সেবা গ্রহণের বাস্তবতা, ভৌগোলিক অবস্থান, যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সরকারি সেবা প্রাপ্তির সুবিধা এবং জনসাধারণের দীর্ঘদিনের দাবির বিষয়টি বিবেচনায় ২৮৫নং সাংও মৌজাকে অখন্ডভাবে প্রস্তাবিত ৮নং ইয়াংছা ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত করা অধিকতর যুক্তিসঙ্গত ও জনকল্যাণমূলক।
২। বর্তমান ইউনিয়ন পরিষদের সাথে ২৮৫নং সাংগু মৌজার প্রত্যক্ষ যোগাযোগ ব্যবস্থা সীমিত ও দূরবর্তী হওয়ায় সাধারণ জনগণকে বিভিন্ন নাগরিক ও প্রশাসনিক সেবা গ্রহণে সময়, অর্থ ও ভোগান্তির সম্মুখীন সৃষ্টি হবে। অপরদিকে প্রস্তাবিত ৮নং ইয়াংছা ইউনিয়নের সাথে সাংগু মৌজার ভৌগোলিক ও যোগাযোগগত সংযোগ তুলনামূলকভাবে অধিকতর সুবিধাজনক। একই সঙ্গে মৌজাটিকে বিভক্ত না করে অখন্ডভাবে একটি ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত রাখলে ভবিষ্যতে প্রশাসনিক জটিলতা ও সীমানা সংক্রান্ত বিরোধের সম্ভাবনাও কমবে।
এমতাবস্থায়, জনস্বার্থ, তেভৗগোলিক সংযুক্তি, যোগাযোগ সুবিধা, প্রশাসনিক কার্যকারিতা এবং জনগণের দীর্ঘদিনের দাবির বিষয়টি বিবেচনা করে ২৮৫নং সাংগু মৌজাকে অখন্ডভাবে প্রস্তাবিত ০৮নং ইয়াংজা ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষে যৌক্তিক মতামত প্রদান করিলাম।”
নিজস্ব সংবাদদাতা: 



















