Lama ০৯:১০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সচিব, উদ্যোক্তা ও তথ্য সেবা দান কারীর বিরুদ্ধে  অভিযোগের পাহাড়

বরকলে ইউনিয়ন পরিষদের সেবা না পেয়ে ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ

রাঙামাটির বরকলে  ৪নং ভুষনছড়া ইউনিয়ন পরিষদের সেবা না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়েছে  ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ।ভুক্তভোগীরা জানান, সপ্তাহের বৃহস্পতিবার ছাড়া বাকি সব দিনই ইউনিয়ন পরিষদ বন্ধ থাকায় সেবা নিতে পারছেননা সেবা প্রত্যাশীরা।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়,বৃহস্পতিবার বাজারের দিন ছাড়া বাকি দিন গুলোতে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম বন্ধ থাকে। সরকারি নিয়মে ইউনিয়ন পরিষদে একজন সচিব, একজন উদ্যোক্তা ও একজন তথ্য সেবা দান কারী কাগজে কলমে থাকলেও অফিসে তাদেরকে পাওয়া যায়নি।

কদর আলী নামক একজন বলেন, তথ্য সেবা দানকারী(কম্পিউটার অপারেটর) মোঃলিটন নামের ব্যক্তিকে গত পাঁচ বছরের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদে দেখতে পাইনি। সে রাঙামাটি থেকেই সরকারি বেতন ভাতা নেন।

অফিস না করার বিষয়ে তথ্য সেবা দান কারী(কম্পিউটার অপারেটর)মোঃলিটন বলেন, আমি শুধু বৃহস্পতিবার ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয়ে যায় কাগজ পত্র নিয়ে আসার জন্য। যেহেতু ৪নং ভুষনছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাই, প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বরকল উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রেজাউল করিম।

নিজাম সওদাগর নামক একজন এলাকাবাসী বলেন, ভুষনছড়া ইউনিয়ন পরিষদের সচিব রূপায়ণ খীসা ইউনিয়ন পরিষদের অফিস করেনা, তার ভাই একজন উপ-সচিব হওয়ায়, সে ভাইয়ের ক্ষমতার অপব্যবহার করে। তাছাড়া রূপায়ন খীসা বরকলে ঠিকাদারি কাজের সাথে জড়িত।

সরকারি চাকরি করে কিভাবে সে ঠিকাদারি কাজ করে। আর জ্ঞান প্রিয় চাকমা ৩নং ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ হয়ে কিভাবে উদ্যোক্তা হিসেবে নিয়োগ পায়।

এবিষয়ে রূপায়ন খীসার সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমি বুধবার ও বৃহস্পতিবার ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয়ে অফিস করি।প্রতিদিন অফিস না করার বিষয়ে সে বলেন, স্থায়ী চেয়ারম্যান না থাকায় প্রশাসকের যিনি দায়িত্ব পালন করেন, তিনি রাঙামাটিতে থাকার কারণে আমাকে কাগজ পত্র সই করার কারণে রাঙামাটিতে থাকতে হয়।

ঠিকাদারি বিষয়ে তিনি বলেন, আমি ঠিকাদারদের সহযোগিতা করি। তবে আরও অনুসন্ধান করে জানা যায় যে, স্থায়ী চেয়ারম্যান থাকার সময়েও রূপায়ন খীসা নিয়মিত অফিস করতেন না।

ইউনিয়ন পরিষদের অফিস বন্ধ থাকার বিষয়ে ৪নং ভুষনছড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রেজাউল করিমের সাথে যোগাযোগ করতে গেলে তার মুঠোফোন নম্বর টা বন্ধ থাকায়, তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বরকল উপজেলার স্থায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা না থাকায় তার বক্তব্য নেওয়াও সম্ভব হয়নি।

৪নং ভুষনছড়া ইউনিয়নের সাধারণ জনগণ আশাবাদী; ইউনিয়ন পরিষদের বিষয়ে এসকল অনিয়মের বিষয়ে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর খোঁজ নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিবেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

থানচি লাংলোক ঝর্ণায় অসুস্থ পর্যটককে উদ্ধার করল বিজিবি

Bandarban Tribune

সচিব, উদ্যোক্তা ও তথ্য সেবা দান কারীর বিরুদ্ধে  অভিযোগের পাহাড়

বরকলে ইউনিয়ন পরিষদের সেবা না পেয়ে ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ

Update Time : ০৩:২০:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

রাঙামাটির বরকলে  ৪নং ভুষনছড়া ইউনিয়ন পরিষদের সেবা না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়েছে  ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ।ভুক্তভোগীরা জানান, সপ্তাহের বৃহস্পতিবার ছাড়া বাকি সব দিনই ইউনিয়ন পরিষদ বন্ধ থাকায় সেবা নিতে পারছেননা সেবা প্রত্যাশীরা।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়,বৃহস্পতিবার বাজারের দিন ছাড়া বাকি দিন গুলোতে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম বন্ধ থাকে। সরকারি নিয়মে ইউনিয়ন পরিষদে একজন সচিব, একজন উদ্যোক্তা ও একজন তথ্য সেবা দান কারী কাগজে কলমে থাকলেও অফিসে তাদেরকে পাওয়া যায়নি।

কদর আলী নামক একজন বলেন, তথ্য সেবা দানকারী(কম্পিউটার অপারেটর) মোঃলিটন নামের ব্যক্তিকে গত পাঁচ বছরের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদে দেখতে পাইনি। সে রাঙামাটি থেকেই সরকারি বেতন ভাতা নেন।

অফিস না করার বিষয়ে তথ্য সেবা দান কারী(কম্পিউটার অপারেটর)মোঃলিটন বলেন, আমি শুধু বৃহস্পতিবার ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয়ে যায় কাগজ পত্র নিয়ে আসার জন্য। যেহেতু ৪নং ভুষনছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাই, প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বরকল উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রেজাউল করিম।

নিজাম সওদাগর নামক একজন এলাকাবাসী বলেন, ভুষনছড়া ইউনিয়ন পরিষদের সচিব রূপায়ণ খীসা ইউনিয়ন পরিষদের অফিস করেনা, তার ভাই একজন উপ-সচিব হওয়ায়, সে ভাইয়ের ক্ষমতার অপব্যবহার করে। তাছাড়া রূপায়ন খীসা বরকলে ঠিকাদারি কাজের সাথে জড়িত।

সরকারি চাকরি করে কিভাবে সে ঠিকাদারি কাজ করে। আর জ্ঞান প্রিয় চাকমা ৩নং ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ হয়ে কিভাবে উদ্যোক্তা হিসেবে নিয়োগ পায়।

এবিষয়ে রূপায়ন খীসার সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমি বুধবার ও বৃহস্পতিবার ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয়ে অফিস করি।প্রতিদিন অফিস না করার বিষয়ে সে বলেন, স্থায়ী চেয়ারম্যান না থাকায় প্রশাসকের যিনি দায়িত্ব পালন করেন, তিনি রাঙামাটিতে থাকার কারণে আমাকে কাগজ পত্র সই করার কারণে রাঙামাটিতে থাকতে হয়।

ঠিকাদারি বিষয়ে তিনি বলেন, আমি ঠিকাদারদের সহযোগিতা করি। তবে আরও অনুসন্ধান করে জানা যায় যে, স্থায়ী চেয়ারম্যান থাকার সময়েও রূপায়ন খীসা নিয়মিত অফিস করতেন না।

ইউনিয়ন পরিষদের অফিস বন্ধ থাকার বিষয়ে ৪নং ভুষনছড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রেজাউল করিমের সাথে যোগাযোগ করতে গেলে তার মুঠোফোন নম্বর টা বন্ধ থাকায়, তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বরকল উপজেলার স্থায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা না থাকায় তার বক্তব্য নেওয়াও সম্ভব হয়নি।

৪নং ভুষনছড়া ইউনিয়নের সাধারণ জনগণ আশাবাদী; ইউনিয়ন পরিষদের বিষয়ে এসকল অনিয়মের বিষয়ে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর খোঁজ নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিবেন।